অর্ণব গোস্বামীকে হেনস্থার অভিযোগে ছয়মাসের জন্য বিমান পরিষেবা বন্ধ কমেডিয়ান কুণাল কামরার

0
814

নিউজফ্রন্ট, ওয়েবডেস্কঃ

ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া বিমান সংস্থা আগামী ছ’মাস স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান কুণাল কামরাকে বিমান পরিষেবা দিতে অস্বীকার করেছে। গতকাল মুম্বাই থেকে লখনৌগামী চলন্ত বিমানে কুণাল কামরা, সহযাত্রী সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীর দিকে প্রশ্নবাণ ছোঁড়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয় বিমান সংস্থাগুলি।

indigo bans around six months for heckling arnab goswami on flight | newsfront.co
অর্ণব গোস্বামী ও কুণাল কামরা। চিত্র সৌজন্যঃ কেরালা কৌমুদী ও কোরা

গতকাল কুণাল তাঁর নিজস্ব টুইটার হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে রিপাবলিক টিভির সঞ্চালক সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামী কানে হেডফোন গুঁজে ল্যাপটপে কাজ করছেন, আর স্ট্যন্ড-আপ কমেডিয়ান কুণাল কামরা তাঁকে নাগাড়ে প্রশ্ন করে যাচ্ছেন, কিন্তু তিনি তাঁর একটি জবাবও দিচ্ছেন না, অথবা বলা চলে তিনি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন মনে করছেন না জন্যই নীরব হয়ে সম্পূর্ণ ভাবে কুণালকে অগ্রাহ্য করছেন।

এই ভিডিওটি পোস্ট করার পাশাপাশি কুণাল সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও একটি পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি লিখেছেন, আজ আমি সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীর সহযাত্রী হিসাবে মুম্বই থেকে লখনৌগামী বিমানে যাত্রা করছি। আমি নম্রভাবে তাঁকে গিয়ে তাঁর সাথে বার্তালাপ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করায়, তিনি আমাকে ইঙ্গিত দেন, তিনি একটি ফোনকলে ব্যস্ত।

আরও পড়ুনঃ সংবিধানকে সামনে রেখে বিয়ের শপথ গ্রহণ, উদারতার অনন্য নজির গড়লেন ভুবনেশ্বরের যুগল

তাই আমি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। এরপরে আমি তাঁকে কিছু স্বগোক্তি করায়, তিনি সেই মন্তব্যের উত্তর দেওয়ার বদলে আমাকে ‘মেন্টালি আনস্টেবল’ আখ্যা দেন।

‘টেক অফ’-এর পরে আমি আবার তাঁকে গিয়ে অনুরোধ করি আমরা একটু কথা বলতে পারি কিনা। উত্তরে তিনি জানান, তিনি ল্যাপটপে কছু দেখছেন এবং তিনি কথা বলতে চান না। তাই আমি সেটাই করলাম অর্ণব ‘রিপাবলিক টিভি’র স্টুডিওতে ডেকে যা করেন।

কুণালের এই পোস্টে আমজনতার থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই একদল তাঁর পিঠ চাপড়েছে এবং আর একদল অর্ণবকে হেনস্তা করার জন্য তাঁকে চরম কটাক্ষ করেছে। তিনি ওই পোস্টে এটাও লিখেছিলেন যে তিনি যা করেছেন তাঁর জন্য তিনি নিজেকে অপরাধী মনে করেন না।

আরও পড়ুনঃ বিহার থেকে গ্রেফতার শাহিনবাগ আন্দোলনের মাথা শরজিল ইমাম

পাশাপাশি অর্ণব ছাড়া বাকি সহযাত্রী, বিমান যাত্রীসেবিকা এবং পাইলটদের থেকে তিনি ক্ষমাও চান এই ধরনের অস্বস্তি সৃষ্টি করার জন্য। পরিশেষে তিনি বলেন, এসবই ছিল আমার হিরো রোহিত ভেমুলার উদ্দেশ্যে।

প্রসঙ্গত, রোহিত ভেমুলা হায়দ্রাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পিএইচডি-র ছাত্র ছিলেন। দলিত হওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় সরকার তার প্রাপ্য প্রতি মাসের ২৫,০০০ টাকার বৃত্তি ভাতা বন্ধ করে দিয়েছিল।

সেই নিয়ে তিনি আম্বেদকর অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সহযোগিতায় আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। কিন্তু অবশেষে জীবনের পরিহাসে ক্লান্ত হয়ে, ইন্সাফ না পেয়ে ১৭ জানুয়ারি, ২০১৬ তে তিনি আত্মহত্যা করেন।

আরও পড়ুনঃ গুজরাট দাঙ্গায় অভিযুক্ত ১৪ জনের জামিনের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

রোহিত ভেমুলা প্রসঙ্গ আগেও রিপাবলিক টিভির স্টুডিওতে কোনও বিতর্ক চলাকালীন উঠে এলে, সঞ্চালক অর্ণব গোস্বামী বুদ্ধিমত্তার সাথে সেইসমস্ত প্রসঙ্গের পাশ কাটিয়ে গেছেন। পূর্ববর্তীতে ‘টাইমস নাও’-এর সঞ্চালক সাংবাদিক হিসাবে পরিচিত অর্ণব গোস্বামী, পরবর্তীকালে শাসক দলের প্রোপাগান্ডামূলক সম্প্রচার ‘রিপাবলিক টিভি’-র শো’তে বহুবার বিতর্কে অংশগ্রহণকারী বিরোধী বক্তাদের উচ্চগ্রামে চেঁচিয়ে চুপ করিয়ে দিয়েছেন এই বলে যে আমি জেএনইউ নিয়ে কথা শুনতে চাই না, এসআরএফটিআই নিয়ে কথা বলতে চাই না, রোহিত ভেমুলা নিয়ে কথা বলতে চাই না; আমি সত্যিকারের বিষয় (পড়ুন রিয়েল ইস্যুস) নিয়ে কথা বলতে চাই।

কটাক্ষমূলক রাজনৈতিক(পড়ুন সারকাস্টিক পলিটিকাল) স্ট্যান্ড-আপ কমেডি পরিবেশন করাতে কুণাল কামরা নেটিজেনদের মধ্যে বহুলভাবে সমাদৃত। অপ্রিয় সত্যি কথা বলে, হাস্যকৌতুকের ‘সেট-আপ’ এবং ‘পাঞ্চ লাইন’ তোইরি করাতে তাঁর ফ্যানেরা তাঁকে যতটা সম্মান করে; ঠিক ততটাই বিরোধীদের দুই চোখের বিষ কুণাল।

এই ঘটনার পর ‘ইন্ডিগো’ এবং ‘এয়ার ইন্ডিয়া’ সংস্থা টুইট করে ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, কুণালকে বিমানে চড়তে না দেওয়ার কথা। পাশাপাশি ভারতের কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি টুইট করে জানিয়েছেন, বিমানের ভিতর অস্বস্তি-উদ্দীপনা সৃষ্টি ও অশান্তি উদ্রেকের জন্য এ ধরনের আপত্তিজনক আচরণ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এরকম আচরণ বিমান ভ্রমণকারীদের সুরক্ষাকে বিপন্ন করে তোলে।

এদিকে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর লিখেছেন, সত্যি কথা বলতে এতদিনে কেউ অর্ণবকে তাঁর নিজের স্বাদের ওষুধ তাঁর উপরই প্রয়োগ করেছে। এই একই আচরণ সে তার স্টুডিওতে ডেকে নির্দোষ, সরল বক্তাদের উপর করে। ফারাক একটাই, কুণাল তাকে যেভাবে কথাগুলো বলেছে, অর্ণব আরও উচ্চগ্রামে চেঁচিয়ে এই কথাগুলোই বলে।

২৯ জানুয়ারি সকাল ১০.৪৫ নাগাদ কুণাল কামরা টুইটারে আরও একটি পোস্ট দিয়ে জানান, লখনৌ থেকে ফেরত আসার বিমানে অর্ণব আবার তাঁর সহযাত্রী হিসাবে ছিলেন। এবারেও কুণাল অর্ণবের কাছে গিয়ে নম্রভাবে কথা বলার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। কিন্তু অর্ণব হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে উদ্ধত কন্ঠে কুণালকে সরে যেতে বলেন। কুণাল পালটা তাকে আর কিছু না বলে সরে আসেন।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here