অভাবের প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে জেলায় প্রথম সুরতা,চিন্তা উচ্চশিক্ষা নিয়ে

0
340

শ্যামল রায়,বর্ধমানঃ

সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মত করুন অবস্থা‌। বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালায়। মা গঙ্গা দেবী তিনিও বাড়িতে তাঁত বোনেন। মায়ের সাথে তাঁত বুনে সুরতা বিশ্বাস এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৪৯।
পূর্বস্থলী থানার পারুলিয়া কুলকামিনি হাই স্কুলের ছাত্রী সে।

নিজস্ব চিত্র

রবিবার তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল দুশ্চিন্তার ছাপ রয়েছে পরিবারের সকলের মুখে। কারণ সুরতা মাধ্যমিকে ভালো ফল করলেও আগামী দিন উচ্চমাধ্যমিক সহ উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে পড়াশোনার জন্য যে টাকার প্রয়োজন সেই টাকা কোথা থেকে জোগাড় হবে এই চিন্তায় বারবার করে যাচ্ছেন মা ও বাবা।
একদিকে মেয়ের ফলাফলে খুশি আবার অন্যদিকে দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে চলছে সকলের অজান্তে। তাদের ইচ্ছা মেয়ে যতদূর সম্ভব পড়াশোনা করুক কিন্তু পড়াশোনা করার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তারা সেটা কোথা থেকে জোগাড় করবে। এই প্রশ্নটাই কুরে  কুরে খাচ্ছে বিশ্বাস পরিবারের সকলকে।
পূর্বস্থলীর নতুন পাড়ায় সুলতার বাড়ি।
সলতা এদিন জানিয়ে দিল তার ইচ্ছা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে ডাক্তারি পড়বে। কিংবা ডাক্তারি পড়া না হলে শিক্ষিকার পদে চাকরি করতে তার ভীষণ আগ্রহী। কিন্তু সে নিজেই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে এই সব উত্তর কি আদৌ বাস্তবায়িত হবে।
তবুও তার অদম্য সাহস যে কষ্ট হলেও সে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে। বাবা হরিপদ বিশ্বাস পেশায় রাজমিস্ত্রি জোগালে। কখনো কাজ হয় আবার কখনো হয়না।
মা গঙ্গা দেবী বাড়িতে তাঁত বোনেন। মাকে সাহায্য করার জন্য  সুললতাও তাঁত বোনে।
পড়াশোনার বিষয়ে সুলতা জানালো যে তার বিদ্যালয়র  শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাকে ভীষণ ভাবে সাহায্য করেছে সেই সাথে বাড়িতেও ছিল কয়েকজন শিক্ষক। তবে গৃহশিক্ষক বলতে যা বুঝায় গ্রামেই শিক্ষকদের বাড়িতে গিয়ে পড়াশোনা করে আসতে হতো। কারণ একটাই বাড়িতে শিক্ষক রেখে অর্থ জোগান দেওয়া তাদের সংসারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই সলতা আক্ষেপ করে চোখের জল ফেলে এদিন জানালো যে যদি সংসারের অভাব না থাকতো তাহলে সে রাজ্যের মেধাবী তালিকায় নাম উঠতোই এ কথা জোর দিয়ে জানিয়ে দিল সে।
শুধুমাত্র অভাবের যন্ত্রনায় সে আরো ভালো ফলাফল করার ক্ষেত্রে কিছুটা পিছপা হতে হয়েছে।
তবে বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার সাহা স্থানীয় বিধায়ক তিনি জানালেন যে মেধাবী সুলতা বিশ্বাসকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা সাহায্য করবেন।
দেখা গিয়েছে সুলতা এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বাংলায় ৯২, ইংরাজিতে  ৮২,অংকে ৯৪, ভৌত বিজ্ঞানে ৯৮ জীবনবিজ্ঞান ৯৫, ইতিহাসে ৯১, ভূগোলে ৯১,  নম্বর পেয়ে মোট প্রাপ্ত নাম্বার হয়েছে ৬৪৯ ।
মা গঙ্গা দেবী জানিয়ে দিয়েছে কষ্ট হলেও রাত দিন সমান করে তাঁত বুনে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করে উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে মেয়েকে ভাল রেজাল্ট করতে এগিয়ে যাবেন তিনি।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here