তৃণমূলের নতুন সমন্বয় কমিটির প্রথম বৈঠকেই গরহাজির শুভেন্দু! জোর জল্পনা

0
191

শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ

ঋতব্রত-ছত্রধরদের সঙ্গে ফের শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্য সম্পাদক পদে ফিরিয়ে দেওয়ায় এমনিতেই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন শুভেন্দু অনুগামীরা। যেখানে তারা রাজ্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির কথা ভাবছিলেন, সেখানে এই রদবদলে ক্ষোভ তৈরি হয় অনুগামী মহলে। শনিবার তৃণমূলের প্রথম সমন্বয় বৈঠকে উপস্থিত না থাকা নিয়ে এবার শুরু হল জোর জল্পনা। তাহলে কি সাংগঠনিক রদবদলকে ঘিরে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এবার ফাটল ধরতে চলেছে তৃণমূলের অন্দরে?

Suvendu Adhikary | newsfront.co
শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল চিত্র

শনিবার তৃণমূল ভবনে ছিল নতুন সমন্বয় কমিটির প্রথম সরাসরি বৈঠক। কিন্তু সেখানে উপস্থিত ছিলেন না দলের প্রথম সারির সৈনিক শুভেন্দু অধিকারী। আরও তিনজন অনুপস্থিত থাকলেও শুভেন্দুবাবুর অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী অন্য কাজে ব্যস্ত, তাই বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। তবে কমিটির সঙ্গে সবরকম সমন্বয় রেখেই কাজ করছেন তিনি। তবে বিরোধীদের দাবি, শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন পার্থবাবু।

আরও পড়ুনঃ করোনার জেরে কাল থেকে ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ বেলুড় মঠ

শুভেন্দুবাবু ছাড়াও এদিন উপস্থিত ছিলেন দেবু টুডু, মৃগাঙ্ক মাহাতো, হিতেন বর্মন। এঁদের মধ্যে বর্ধমানের নেতা দেবু টুডু নিজে করোনা আক্রান্ত। বাকি তিন জনও সংগঠনের কাজের জন্যই আসতে পারেননি বলে দাবি তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। তবে সমন্বয় কমিটির বৈঠক সবার সুবিধে দেখে নিজেদের জন্যই আয়োজন করা হয়। তাই সেখানে বিশেষ করে শুভেন্দু বাবুর গরহাজির থাকা স্বাভাবিকভাবেই জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

এদিনের বৈঠকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সি অর্থাৎ দলের দুই বর্ষীয়ান, অভিজ্ঞ নেতা, যাঁদের সামনে রেখে এই ২১ জনের কমিটি গড়েছেন মমতা, তাঁরা সকলকে স্পষ্ট করে দিলেন একটাই কথা। নিজের নিজের দায়িত্ব সামলাতে হবে, অতি সক্রিয়তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। নেওয়া যাবে না একক ভাবে কোনও সিদ্ধান্তও। এই ২১ জনের সমন্বয় কমিটির আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ ‘সি-টি ভ্যালু’ র মাধ্যমে উপসর্গহীন করোনা রোগীদের মৃত্যুর হার কমাতে এবার উদ্যোগী স্বাস্থ্য দফতর

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এতদিন কংগ্রেস ঘরানায় জেলা সভাপতিদের হাতে কমিটি তৈরির ক্ষমতা থাকত। কিন্তু এবার এই ক্ষমতা কিছুটা হলেও খর্ব হল। কারণ একুশের নির্বাচনের লড়াইতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলকে এক সঙ্গে নিয়ে চলতে বলেছিলেন। কিন্তু নতুন সভাপতি নিয়োগের পর স্বভাবতই প্রকৃতি ব্লকে ব্লকে নতুন সভাপতি নিয়োগ করার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছিল। সেই সম্ভাবনাকেই সমূলে বিনাশ করল তৃণমূলের সমন্বয় কমিটি। বুঝিয়ে দেওয়া হল, ভোটের আগে কাউকেই বাদ দেওয়া যাবে না। সবাইকে নিয়েই চলতে হবে।

এবারের সাংগঠনিক রদবদলে যে সব জেলায় সভাপতি বদল হয়েছে সেখানে পূর্বতন সভাপতিকে ‘চেয়ারম্যান’ পদ দেওয়া হয়েছে। দলের একাংশের মতে চেয়ারম্যান পদ হল শুধু চেয়ার অলংকৃত করে রাখার জন্য। সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়েছে, এমন বহু জায়গায় তাঁদের অনুগামী ও সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু এদিন বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, জেলা সভাপতিদের সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের কনফিডেন্সে নিয়েই চলতে হবে।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91-9593666485