পৌরপ্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে টোটোর লাইসেন্স দিচ্ছে টোটো ইউনিয়ন

0
50

নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ দিনাজপুরঃ

নম্বর প্লেটহীন টোটো চলছে বালুরঘাট শহরে। প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শহরে দাপিয়ে বেরাচ্ছে এইসব টোটো। ছোটো শহর বালুরঘাটে নিত্যদিন টোটোর সংখ্যা বেড়ে চলায় নম্বর থাকা টোটো চালকরা পৌরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনিয়ন্ত্রিত টোটো চলাচল এবং ক্রমবর্ধমান টোটোর পিছনে পৌরসভার কাউন্সিলরদের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া টোটো ইউনিয়নের নামে কাউন্সিলরকে সামনে রেখে তোলাবাজি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে গতকাল শহরের একাধিক জায়গায় নতুন টোটো চালকদের বাধা দেন পুরোনোরা। এদিকে নতুন করে টোটোর লাইসেন্স দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পৌরসভার চেয়ারম্যান রাজেন শীল।
বিগত কয়েক বছরে বালুরঘাট শহরে টোটোর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। বছর দেড়েক আগে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহর এলাকার টোটো ও গ্রামীণ টোটো ভাগ করে দেওয়া হয়। শহরের টোটোয় নীল রং করে দেওয়া হয়। বলা হয় গ্রামীণ বা নম্বরছাড়া টোটো শহরে ঘুরলে জরিমানা করা হবে। শুরুতে ঠিক ছিল। কিন্তু, কিছুদিন পর পরিস্থিতি যে কে সেই। শহরে ঢুকে পড়েছে গ্রামীণ ও নম্বর প্লেট ছাড়া বহু টোটো। যাতে পৌরসভা বা প্রশাসনের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। বালুরঘাটে এই মুহূর্ত ১১৮৫ টোটো চলাচলের লাইসেন্স দেওয়া আছে সরকারিভাবে। এর মধ্যে শহরের ৬১৫ এবং গ্রামীণ এলাকার টোটো ৫৭০টি। তবে লাইসেন্সহীনভাবে প্রায় আড়াই হাজার টোটো দাপিয়ে বেরায় বালুরঘাটে।
যথেচ্ছ টোটো চলাচলের জেরে যানজট
সম্প্রতি শহরে বেশ কিছু নতুন নম্বরের টোটো চলাচল শুরু করেছে। বিষয়টি নজরে এলে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের টোটো শাখার সদস্যরা খোঁজ খবর শুরু করেন। আচমকা নতুন নম্বর পাওয়া টোটো চালকদের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, তৃণমূল সমর্থিত টোটো ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে আরও একটি সংগঠন এই লাইসেন্স দিচ্ছে। তারা পরিচয়পত্র এবং নম্বরপ্লেটের জন্য টাকাও নিচ্ছে। এরপর বুধবার রাতে বালুরঘাট বিশ্বাসপাড়া এলাকায় টোটো ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কয়েকজনকে আটকে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের টোটো শাখার সদস্যরা। উত্তেজনার কথা জানতে পেরে বালুরঘাট থানার পুলিশ চলে আসে। সকলকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। এরপর গতকাল সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় নতুন টোটো চলতে বাধা দেওয়া হয়।

তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের টোটো শাখার সভাপতি প্রণব ওরাঁও, নেতা নন্তু মহন্ত, খোকন সরকার-রা বলেন, “পৌরসভার অনুমতি বা মদত না থাকলে কীভাবে একটি সংগঠন লাইসেন্স দিচ্ছে? টোটো ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কীভাবে পৌরসভার কাজ নিজেরা করছে ? পরিচয়পত্র বাবদ ৩০০ এবং নম্বরপ্লেট বাবদ ২৫০ টাকা করে নিতে বলা হয়েছে তাদের। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, নতুন লাইসেন্স দেওয়ার জন্য অনেক বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে। অথচ টাকা নেওয়া তো দূরের কথা, সরকারি পরিচয়পত্র ও নম্বরপ্লেট কোনও শ্রমিক সংগঠন নিজেরা দিতে পারে না। এব্যাপারে আমরা প্রতিবাদে নেমেছি। এমনিতেই শহরের বুকে অগণিত টোটো চলছে। মানুষ হয়রান হচ্ছেন। এই মুহূর্তে নতুন লাইসেন্সের বিরুদ্ধে আমরা।” এবিষয়ে মন্তব্য করতে চায়নি টোটো ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।

বিষয়টি নিয়ে বালুরঘাট পৌরসভার চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিলের সদস্য তথা পৌর পরিবহনের দায়িত্বে থাকা শংকর দত্ত জানান, পৌরসভা নয়, টোটো ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে দিয়ে লাইসেন্স বিতরণের কাজ করাচ্ছিলেন। তবে পরিচয়পত্র বা নম্বরপ্লেটের জন্য তাঁদের টাকা নেওয়ার কথা নয়। এটা পৌরসভা সরাসরি করবে।

বালুরঘাট পৌরসভার চেয়ারম্যান রাজেন শীল এই ঘটনায় ক্ষোভপ্রকাশ করেন। বলেন, “প্রথমে বিষয়টি আমরাই দেখছিলাম। পরে পরিবহন দপ্তর সরাসরি দায়িত্ব নেয়। কিন্তু জেলা পরিবহন দপ্তর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তারা কোনও উদ্যোগ নেয় না বলে পৌরসভা নিজে এই বিষয়টি দেখভাল করছে। চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল শংকর দত্তকে পৌরসভার পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া রয়েছে। কিন্তু শংকরবাবু এব্যাপারে আমাকে কিছুই জানাননি। এই কাজটা সরাসরি পৌরসভা বা প্রশাসনের। সেখানে একটা ইউনিয়ন এই কাজ করতে পারে না। এই মুহূর্তে পৌরসভা কাউকে কোনও লাইসেন্স দিচ্ছে না। পুরোনো তালিকায় রয়েছে এমন ৮৮ জনকে পৃথকভাবে লাইসেন্স দেওয়া হবে। এখানে কী হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

কেউ পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বদনাম করার চেষ্টা করলে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাফ জানিয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান রাজেন শীল ।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here