নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ দিনাজপুরঃ

বয়স মাত্র কয়েকদিন। যেদিন এই শিশু পৃথিবীর আলো দেখেছে সেদিনই তাদের মা চলে যান না ফেরার দেশে।এখানেই থেমে নেই তাদের দুর্ভোগ? বাড়িতে একমাত্র তার বাবা, গত কিছুদিন ধরে কর্মহীন তিনি। কারণ মা হারা সন্তানকে দেখভাল করার কেউ না থাকায় ওই কোলের শিশু সন্তানকে ছেড়ে পরের জমিতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে না পারায় রোজগার হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েন তার বাবা। ফলে বেকার জীবন নিয়ে সদ্য মা হারা শিশুর জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় শিশু খাদ্যের জোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে, নিজের পেটে কিছু দেবার কথা তো দূর অস্ত। এ নিয়ে দিশেহারা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের পতিরাম এলাকার বর্ষাপাড়া গ্রামের নিরঞ্জন হাঁসদা।

কেবল মায়ের দেহের পরিচিত ঘ্রাণ এবং কণ্ঠস্বরের জন্যই নয়,সারা দিন ধরেই শিশুটি সবকিছুতেই তার মায়ের আরও অন্যান্য ভূমিকাগুলিও দেখতে পায় এবং সান্নিধ্য পায় বলে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই,একটি শিশু তার পরিবারের অন্যান্য সকল সদস্যের তুলনায় তার মাকে অনেক বেশি সময় ধরে পায়। আর সেই কারণেই সে সবার প্রথমে তার মাকেই চিনতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই শিশুটির। কেননা জন্মের পর থেকেই সে মা হারা। তাই মায়ের দেহের ঘ্রাণ কেমন তা তো দূরের কথা মা কি জিনিষ তাই জানতে পারল না সে।

পতিরামের বর্ষাপাড়ার আদিবাসী পরিবার নিরঞ্জন হাঁসদার বাড়িতে রোজগেরে একমাত্র সে নিজে। বাচ্চা ছাড়া কাজে যাওয়া সম্ভবও নয় এইসময়। অন্তত দুই বছর তো সম্ভবও নয়। গত কিছুদিন ধরে তাই কর্মহীন সে। এদিকে কাজে গেলে পয়সা পাবেন, কাজ নেই টাকাও নেই। তাই নিজেও অভুক্ত।
বর্তমানে যে মহিলা বাচ্চা কোলে নিয়ে মা হারা শিশুটির পরিচর্যা করছে তিনি সম্পর্কে শিশুটির পিসি। পিসির বাড়িও অনেক দূর। ভাইয়ের স্ত্রীর বিয়োগের খবর ও সদ্যমাতৃহারা শিশুর জন্য নাজেহাল তার ভাইয়ের পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে সাময়িক কয়েকদিনের জন্য নিজের ঘর সংসার ফেলে ছুটে এসেছেন ভাইয়ের বাড়িতে শিশুটির দেখভালের জন্য। কিন্তু আজ না হোক কাল তার বোনকেও তো ফিরে যেতে হবে নিজের পরিবারের কাছে। তখন বাচ্চাটার সম্বল বলতে শুধুমাত্র তার বাবা সেই নিরঞ্জন হাঁসদা।

আরও পড়ুনঃ সাইকেল যাত্রায় মহিলাদের আত্মনির্ভরশীলতার প্রচার
অন্যদিকে মা হারা শিশু সন্তান নিয়ে বাবা দিশেহারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এমন সংবাদ পেয়ে বর্ষা পাড়ায় নিরঞ্জন হাঁসদার বাড়িতে ছুটে গিয়ে তার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে আসে এলাকায় সমাজসেবা মূলক কাজের সাথে যুক্ত পতিরাম নাগরিক ও যুব সমাজ। তারা বর্ষাপাড়ার হতদরিদ্র বর্তমানে কর্মহীন বাবা নিরঞ্জন হাঁসদার মাতৃহারা বাচ্চাটির ছয় মাসের প্যাকেটজাত দুধের খাবারের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি ওই আদিবাসী পরিবারের খাবারের জন্য অন্ন সংস্থানের ব্যবস্থা করে।
আরও পড়ুনঃ রাতের অন্ধকারে প্রাক্তন স্ত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপ, আক্রান্ত পুত্র শাশুড়ি
পাশাপাশি শিশু বিশেষজ্ঞকে দিয়ে বাচ্চাটির সুচিকিৎসারও ব্যবস্থা করে তারা। এছাড়াও এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে তাঁরা জানান,”সাধ্যমতো পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাব।” অন্তত এই বিপদের দিনে পতিরাম নাগরিক ও যুব সমাজকে পাশে পেয়ে কিছুটা হলেও নিজের মনের জোর ফিরে পেলেও কিন্তু বোন নিজের বাড়ি ফিরে গেলে কি ভাবে সদ্য মাতৃহারা সন্তানকে কি ভাবে মানুষ করবেন। সে দুর্ভাবনাই তাকে রাত দিন কুরে কুরে খাচ্ছে।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584