নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতাঃ
নিবেদিতা মাহাতো, বয়স ১৪ কি ১৫, কিন্তু রক্তে শর্করার পরিমাণ মারাত্মক রকমের বেশি। ছোট থেকেই টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস রোগের শিকার। বাড়ি পুরুলিয়া জেলার বেলডি গ্রামের মুরাডি টোলায়। এই অসুখের একমাত্র ওষুধ ইনসুলিন ইনজেকশন, প্রতিদিন দুবার করে বাচ্চাটিকে নির্দিষ্ট মাত্রায় ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
ডায়াবেটিস এমনই এক অসুখ যাতে শুধুমাত্র ওষুধই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সুষম আহার এবং তা চিকিৎসকই স্থির করে দেন। নিবেদিতার পরিবার বলতে অসুস্থ মা, তার বড় হওয়া এবং দেখাশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্বই তার ঠাকুমা এবং ঠাকুরদার। গ্রামের সাধারণ দরিদ্র পরিবারে এই অসুখের চিকিৎসা এবং পথ্য দুটোই কষ্টসাধ্য।
ঘটনাচক্রে বাচ্চাটির কথা জানতে পারেন বরাবাজার থানার আইসি শ্রী সৌগত ঘোষ ও অন্যান্য পুলিশ কর্মীরা। সাথে সাথেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন বাচ্চাটির জন্য কিছু করতে হবে। প্রথমে স্থির হয় থানার পক্ষ থেকে নিবেদিতার ইনসুলিনের সম্পূর্ন দায়িত্ব তাঁরা নেবেন কিন্তু সেখানে সমস্যা দেখা দেয় ওষুধ সংরক্ষণের, ইনসুলিন সংরক্ষিত রাখতে হয় একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায়। তখনই সিদ্ধান্ত হয় ওষুধ এবং ওষুধ রাখার ব্যবস্থা দুটোই করবেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ সৌমিক হোসেনের অনুপ্রেরণায় বেঙ্গল প্রাইড ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
বরাবাজার থানার পক্ষ থেকে নিবেদিতার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় ছোট একটি ফ্রিজ। নিবেদিতার আজীবন যা ইনসুলিনের প্রয়োজন হবে তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ কান্দিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি
এছাড়া কিছু পুষ্টিকর শর্করাবিহীন খাদ্য তাঁরা পৌঁছে দিয়েছেন নিবেদিতার বাড়িতে। এরপরে তাঁদের পরিকল্পনা রয়েছে নিবেদিতাকে একজন অ্যান্ড্রক্রিনোলজিস্ট-কে দেখিয়ে আরো আধুনিক চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসা।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584