নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ফ্রন্টঃ
গতকাল ‘সুশাসন দিবস’ উপলক্ষে সুশাসনের সূচকে কোন রাজ্য কোথায় আছে ২০২০-২১ সালের সেই রিপোর্ট প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তালিকায় সুশাসনের সূচকে প্রথমেই রয়েছে গুজরাট এবং সবথেকে নীচে পশ্চিমবঙ্গ। এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের থেকে ভাল ফল করেছে বিহার, ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যও বলে ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

গতকাল বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্রের তরফে সুশাসনের সূচকে রাজ্যগুলির যে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে, সেই তালিকায় কংগ্রেস-শিবসেনা-এনসিপি জোট শাসিত মহারাষ্ট্রকে টপকে এবার শীর্ষে রাখা হয়েছে বিজেপি শাসিত গুজরাটকে। মূলত শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, পরিকাঠামো, কৃষি, শিল্প-বাণিজ্য, আর্থিক পরিচালন ব্যবস্থা, সামাজিক ন্যায় ও মানব সম্পদ উন্নয়ন, বিচার বিভাগ, জননিরাপত্তা, পরিবেশ এবং জনমুখী শাসন- এই ১০ টি বিষয়ে রাজ্যগুলির ফলের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়।
সুশাসনের সূচকে শীর্ষে রয়েছে গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং গোয়া। সুশাসনের তালিকায় গুজরাটের সূচক ১২.৩ শতাংশ বেড়েছে। গোয়ায় ২০১৯-২০ সালে সূচকের তুলনায় এই বছর ২৪.৭ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে উত্তর প্রদেশের সূচক, বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে উত্তর প্রদেশ। গুড গভর্নেন্স ইনডেক্স’ (GGI) স্কোরের সূচকে জম্মু ও কাশ্মীরও ৩.৭ শতাংশ উন্নতি করেছে, এছাড়া বাণিজ্য ও শিল্প ক্ষেত্রে খুব ভাল কাজ করেছে। অপরদিকে মহারাষ্ট্র কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনসাধারণের অবকাঠামো, সামাজিক কল্যাণ ও উন্নয়নে বেশ ভাল কাজ করেছে।
আবার কৃষি বাণিজ্য ও শিল্প, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক কল্যাণ ও উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে বেশ ভাল কাজ করেছে গোয়া। গতবারের তুলনায় ১২.৬ শতাংশ বেড়েছে ঝাড়খণ্ডের। রাজস্থানের সূচক বেড়েছে ১.৭ শতাংশ। তবে ৬.৬ শতাংশ পিছিয়ে একেবারে শেষে স্থান পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। কেবল পরিকাঠামো ও জনপরিষেবা ক্ষেত্রে ভাল ফল করেছে এই রাজ্য বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
সুশাসন সপ্তাহ কর্মসূচির শেষ দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে স্বরাজ সুরাজে পরিণত হয়েছে।” এদিন তিনি আরও বলেন, “মোদী সরকার চেষ্টা করেছে দেশের সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন করার। সরকারের লক্ষ্য ছিল উন্নয়ন থেকে কোনও ক্ষেত্র যেন বঞ্চিত না হয়। সুশাসন মানে সব বিষয়ে উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত সরকার। জনতার সরকারের ওপর বিশ্বাস এবং সরকারের জনতার ওপর বিশ্বাস। এইসব কিছু পূরণেই নরেন্দ্র মোদীর সরকার কাজ করেছে।”
আরও পড়ুনঃ ওমিক্রন নিয়ে চিন্তার ভাঁজ, রাজ্যে আসতে চলেছে কেন্দ্রীয় দল
অপরদিকে কৃষি আইন প্রত্যাহার বিষয়ে অমিত শাহ বলেন, রাজনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও জনমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হেঁটেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। আগামী দিনে এই আইন প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে বিজেপির প্রচারের অভিমুখ কী হবে, তার বক্ত্যবের মধ্যে এদিন কার্যত ঠিক করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিকে গতকালই নাগপুরে এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর আবারও কৃষি আইন ফেরানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ বড়দিনে বিজেপিতে ‘বিদ্রোহ’, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়লেন একাধিক বিধায়ক
এই রিপোর্ট প্রসঙ্গে তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, ‘‘এই রিপোর্ট সম্পূর্ন কেন্দ্র সরকারের ‘মনগড়া’ রিপোর্ট। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির ভাল ফলকে তুলে ধরার কৌশলমাত্র। মনে রাখতে হবে কিছুদিন আগেই শিক্ষাক্ষেত্রে দেশে প্রথম হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ।’’
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584