পল্লব দাস,বহরমপুরঃ
৬ সেপ্টেম্বর ঐতিহ্যবাহী জেলা মুর্শিদাবাদে পালিত হলো নিজস্ব বেরা উৎসব।নির্ধারিত সময়ের একটু আগে উদযাপিত হলো উৎসব।প্রায় তিনশত বছরেরও বেশি পুরানো।প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষ সপ্তাহের বৃহস্পতিবারে ভাগীরথীর বুকে আলোক উৎসবটি পালন করা হয়।এবছর যদিও এক সপ্তাহ আগেই পালিত হয়।
১৭০৪ সালে বাংলা-বিহার-ওড়িশার সুবেদার হিসেবে নিযুক্ত হন মুর্শিদকুলি খাঁ।তার পর থেকেই প্রতি বছর নিয়ম করে তিনি বাৎসরিক কর সংগ্রহ করে পাঠাতেন দিল্লির সুলতানকে।নদীপথে মালপত্র পাঠানোর সময় মঙ্গল কামনা করে সূচনা হয় এই বেরা উৎসবের।আজও সে রীতি চলে আসছে । সময় পাল্টেছে নবাবী আমল আর নেই তবে উৎসব পালন চলছে আগের মতোই।কলাগাছের ভেলা সাজিয়ে রঙিন কাগজে মোমবাতি প্রদীপ সুসজ্জিত করে জলের দেবতা খোয়াজ খিজিরের উদ্দেশ্যে ভাসানো হয়।এই উৎসবকে পূর্বে ‘খিজিরের উৎসব’ই বলা হত।‘বেরা’ উপলক্ষে ভাগীরথী নদীতে প্রচুর ছোট বড় নৌকা ভাসানোর রীতি ছিল তবে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ আমলে তিনশো হাত লম্বা ও দেড়শো হাত চওড়া ভেলা তৈরি হতো।ভেলার উপর বাঁশ দিয়ে নির্মিত হতো মসজিদের কাঠামো বিভিন্ন রঙিন কাগজ দিয়ে সেটাকে সাজিয়ে ছোট ছোট মাটির প্রদীপ কপূর দিয়ে প্রজ্বলিত করে ভেলা ও মসদিজের কাঠামোকে আলোর রোশনায় সাজানো হতো।নদীর পাড়ে শুরু হতো আতশবাজি পোড়ানো,এখনও সেটি হয়।নবাবী নৌকা বজরা সহ সাধারণ মানুষের বিভিন্ন ধরনের বজরা আলোক সজ্জায় সজ্জিত হয়ে এই উৎসবে যোগ দিত। বর্ণাঢ্য এক উৎসবের সাক্ষী থাকত সবাই শতাব্দী ঘুরেও আজও মুর্শিদাবাদবাসীর কাছে একটি অন্য আনন্দ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এই বেরা উৎসব।এই বাংলায় বিভিন্ন মুসলিম পরবকে ঘিরে যতগুলো মেলা বসে,বেরার মেলা তাদের থেকে স্বতন্ত্র তাতে সন্দেহ নেই,এই মেলা জেলার ঐতিহ্যে একটি আলাদা মাত্রা এনে দেয়।
আরো পড়ুনঃ স্ত্রীর বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক,ফেসবুক লাইভে আত্মঘাতী স্বামী
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584