নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতাঃ
১৭ ফেব্রুয়ারি জিওর্দানাে ব্রুনাে শহীদ দিবস। দিনটা ছিল ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই ফেব্রুয়ারি। কোপার্নিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্ব তত্ত্বকে সমর্থন ও প্রচার করার জন্য তৎকালীন ধর্মান্ধ কর্তৃপক্ষ তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছিল।

যুগে যুগে এভাবেই বিজ্ঞান ও সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে। যথাযােগ্য মর্যাদায় ব্রুনাের জীবন সংগ্রাম চর্চার উদ্যেশ্যে আজ সারা রাজ্যব্যাপী ব্রুনোর ছবিতে মাল্যদান, আলোচনা, সেমিনার, বিতর্ক সভা ইত্যাদির মাধ্যমে পালন করল ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটি।

বিজ্ঞানের জন্য শহীদ, বিজ্ঞানী-জিওর্দানো ব্রুনো। পৃথিবীতে এখন প্রতিদিন প্রতি মূহুর্তে হয়ে চলেছে নিত্য-নতুন উদ্ভাবন আর আবিষ্কার। আর এদের পেছেনে রয়েছেন অসংখ্য নাম-না-জানা কিংবা চেনা-জানা বিজ্ঞানীর অবদান।

আবার বৈজ্ঞানিক সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে ধর্মগুরু, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের কর্ণধারদের রোষানলে পড়ে জীবন হারানোর ঘটনা কম নয়। সেরকমই এক নিবেদিতপ্রাণ বিজ্ঞানী যাঁকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল তাঁর নাম জিওদার্নো ব্রুনো।

জন্ম ১৫৪৮ সালে ইতালির নেপলস(সেই সময়ের কিংডম অব নেপলস) এর ‘নোলা’তে। তাঁর বাবার নাম ছিল জিওভান্নি ব্রুনো, আর মা ছিলেন ফ্রলিসা সভোলিনো।

ব্রুনো ছিলেন একাধারে দার্শনিক, অন্যদিকে গণিতবিদ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী। ১৬০০ সালের ২০ জানুয়ারি পোপ অষ্টম ক্লেমেন্ট ব্রুনোকে একজন ধর্মদ্রোহী বলে রায় দেন এবং মৃত্যুদণ্ড দেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁকে রোমের কেন্দ্রীয় বাজার Campo de’ Fiori এ নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ মালদহে কমল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা,এগিয়ে ছাত্রীরা




সেখানে তাঁকে সবার সামনে খুঁটির সাথে বেঁধে মর্মান্তিক ভাবে পুড়িয়ে মারা হয়। তাঁর অপরাধ ছিল, “এই মহাবিশ্বের মতো আরো মহাবিশ্ব আছে, পৃথিবী গোল, সূর্য এই মহাবিশ্বের কেন্দ্র নয় এবং এটি একটি নক্ষত্র ছাড়া আর কিছু নয়” এই ধারণা পোষণ করা।


ব্রুনো কোপার্নিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদকে সমর্থন করেছিলেন যা ছিল বাইবেলের ‘সূর্য পৃথিবীর চার পাশে ঘোরে’-এই মতবাদের বিরূদ্ধে। ব্রুনো কোপার্নিকাসের সাথে সুর মিলিয়ে দৃঢ় প্রত্যায়ে বলেছিলেন,’সূর্য নয়, বরং পৃথিবীই সূর্যের চারপাশে ঘোরে’।

চার্চের প্রচণ্ড চাপের মুখে নতিস্বীকার না করে হাসি মুখে মৃত্যুকেই বরনের মধ্য দিয়েই আধুনিক বিজ্ঞান ও যুক্তিশীল চিন্তা সমাজে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এই মহান বিজ্ঞানী জিওদার্নো ব্রুনো।
টেকনো ইন্ডিয়া উনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটি র সহ সম্পাদক ড নির্মল দুয়ারী বলেন ‘সারা দেশজুড়ে অপবিজ্ঞান অবিজ্ঞানের যেভাবে ব্যাপক প্রচার ও প্রসার চলছে, তা প্রতিহত করতে এবং সমাজ মননে যথার্থ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও যুক্তিশীল এবং আধুনিক বিজ্ঞান চিন্তা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আজ সর্বত্র ব্রুনোর মত সকল বিজ্ঞানী মনীষার জীবন সংগ্রাম ব্যাপক চর্চার প্রয়াস থেকেই আমাদের এই উদ্যোগ।’
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584