শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ
অবাধ্য শহর যাতে খুব বেশি রাস্তায় না বেরোয়, সেটাই দেখতে বলা হয়েছিল পুলিশকে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। বাজার দোকানে বেরোলে কিছু বলার আগেই পুলিশ পেটাচ্ছে বলে উঠেছে অভিযোগ।

একের পর এক পুলিশি অতিসক্রিয়তার অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, পরিস্থিতি সামলানোর বদলে বাড়াবাড়ি করলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে পুলিশের বিরুদ্ধেই।
আরও পড়ুনঃ কালোবাজারি করলেই তাকে থানায় ধরে নিয়ে যাওয়া হবে, হুঁশিয়ারি পুলিশের
কখনও বাজারে গিয়ে লাঠি হাতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের খেদানো। কখনও আবার ইসিএলের কর্মী বা খাবারের ডেলিভারি বয়, ওষুধ কিনতে যাওয়া মানুষকে লাঠিপেটা। কখন আবার সবজি নামিয়ে ফিরে আসা ভ্যানের চালককে মার।
আবার কখনও জোর করে মুদির দোকান বন্ধ করানো। সময়ের হিসেব না-কষেই দিনভর টহলদারি আর সক্রিয়তার জন্য যতটুকু বাহবা লকডাউনের বাজারে পুলিশকর্মীদের পাওয়ার কথা ছিল, তা যেন কেড়ে নিয়েছে পুলিশের অতিসক্রিয়তাই।
পুলিশের এই বাড়াবাড়িতে বুধবারই ইসিএলে অবস্থা জটিল হয়ে ওঠে। ইসিএলের কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এক ইসিএলকর্মীর পরিচয়পত্র না-দেখেই পুলিশ লাঠিচার্জ করায় ওই কর্মীর পিঠে লাঠির মোটা দাগ পড়ে যায়। সেই দাগ সংবাদমাধ্যমকে দেখিয়ে ইসিএলকর্মীরা কাজ বন্ধ করার হুমকি দেন। তাঁরা জানিয়ে দেন, কয়লা তুলবেন না। সরকার যেন বিদুৎ উৎপাদনের বিকল্প ব্যবস্থা করে।
বিভিন্ন জায়গায় সবজির পাইকারি বিক্রেতারাও সবজি বিক্রি বন্ধ করে দেন। যার জেরে খুচরো বিক্রেতারা অনেকেই জানিয়ে দেন, কাল থেকে আর সবজি বিক্রি করতে বসবেন না। ডেলিভারি বয়রা খাবার সরবরাহকারী সংস্থাকে জানিয়ে দেন, তারা খাবার সরবরাহ করতে পারবেন না। সংস্থার কর্তারা কোনওমতে পরিস্থিতি সামলান। অবস্থা বুঝেই হস্তক্ষেপে বাধ্য হন মুখ্যমন্ত্রী।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584