লকডাউনে করোনার কালো মেঘ ধীরে ধীরে গ্রাস করছে কুমোরটুলিকেও

0
82

শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ

ইতিমধ্যেই করোনায় ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে বাঙালির সাধের চৈত্র সেল এবং নববর্ষ। তার ওপরে এবার করোনার কালো মেঘ ধীরে ধীরে গ্রাস করছে কুমোরটুলিকেও। অন্নপূর্ণা থেকে বাসন্তী পুজোয় এমনিতেই বরাত অনেক কম মিলেছে। এভাবে চলতে থাকলে পুজোতেও বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কুমোরটুলির শিল্পীরা।

Scupture | newsfront.co
ফাইল চিত্র

অন্নপূর্ণা পুজোতেই সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল শিল্পীদের। অল্প দু-একটি প্রতিমা বিক্রি হলেও বহু প্রতিমা যখন প্রায় শেষের মুখে, তখনই একের পর এক বায়না বাতিল করতে ফোন আসছে। ফলে তৈরি হবে বিক্রি হয়নি অনেক প্রতিমা। প্রতি বছর বাসন্তীর তুলনায় অন্নপূর্ণা প্রতিমা গড়ার বায়না বেশি পায় কুমোরটুলি।

আরও পড়ুনঃ করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ভাবে নেবে স্বাস্থ্য দফতরই

কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা জানাচ্ছেন, লকডাউনের জেরে দু’টি পুজোরই প্রতিমার অর্ধেক বায়না বাতিল করেছেন উদ্যোক্তারা। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে শিল্পীদের তৈরি প্রতিমা আর বিক্রি হবে না।

শিল্পীরা জানাচ্ছেন, প্রতিমা তৈরি করতে রং, মাটি, খড় ছাড়াও গয়না প্রয়োজন হয়। এ সব যথেষ্ট খরচ সাপেক্ষ। পাশাপাশি শ্রমিকদের খরচ তো রয়েছেই। শিল্পীরা বলছেন, অন্নপূর্ণা ও বাসন্তী পুজো বাতিল করায় যে প্রবল ক্ষতি হল, সেই বোঝা কত দিনে তাঁদের উপর থেকে নামবে জানা নেই। কিন্তু শুধুমাত্র এই দুটি পুজোই নয়, এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে দুর্গাপুজো থেকে কালীপুজোতেও এর বিশাল প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা শিল্পীদের।

শুধু বাংলায় নয়, দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও মা দুর্গার প্রতিমা পাঠানো হয়। কুমোরটুলি থেকেই মা ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিদেশে রওনা দেন। কিন্তু এবার গোল বেঁধেছে করোনা নিয়ে। ২১ দিনের লক ডাউন জারি হয়েছে দেশে, যা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জাহাজ, উড়োজাহাজ সব বন্ধ। তাই মা দুগ্গার বিদেশ যাত্রা ঘিরেও অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। এবারে বিদেশে পা রাখতে পারেননি মা দুগ্গাও।

শোভাবাজারের প্রতিমা শিল্পী প্রশান্ত পাল বলেন, বিদেশ থেকে এই সময়ে প্রতিমার বায়না আসে, কিন্তু এই পরিস্থিতি অর্ডার আসা অনিশ্চিত। মন্দার বাজারে পাশে কেউ নেই, কোনও পুজো কমিটি সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। তিনি এও বলেছেন শিল্পীদের জন্য কেই সাহায্যের হাত বাড়য়নি। সরকার ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, সাধারণের জন্য অনেক করছেন তার পাশাপাশি শিল্পীদের জন্য একটু নজর দিলে ভালো হয়।

অন্যদিকে, এই একই ছবি ফুটে উঠেছে গড়িয়াহাট, হাতিবাগান, শ্যামবাজার, নিউ মার্কেট, কলকাতার এই শপিং হটস্পট গুলো। এবার পরিস্থিতি একদম আলাদা। করোনা সংক্রমণ রুখতে চলছে লকডাউন। দিনে একবার সকালে কয়েক ঘণ্টার জন্য বাজার করেই ঘরে নিজেকে বন্দি করছেন সকলে।

এসময়ে পায়ে হেঁটে শপিংয়েই অভ্যস্ত বাঙালি। এর জেরে নববর্ষের আগে একটু হলেও লাভের মুখ দেখত দোকানদার কিংবা হকাররা। কিন্তু করোনার গ্রাসে আজ ফুটপাথে নেই মানুষ, দেখা মেলেনি কোনও হকারেরও।

ঘরবন্দি সেই সমস্ত হকার গুলোও, যারা ফুটপাথে দাঁড়িয়ে অনবরত চিৎকার করে বলতে থাকেন ছাড়! ছাড়! ছাড়! আর কানে ভেসে আসত সেই চেনা কথা,’ ও দিদি নিয়ে যান একটু কম করে দিচ্ছি, কিংবা, দামাদামি করবেন না যা নেবে সব একদাম’। আজ আতঙ্কের মাঝে হারিয়ে গেছে চেনা কথা গুলো। এই আতঙ্ক কবে কাটবে জানা নেই কারোরই।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here