শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ
বাস্তবিকভাবেই ব্যতিক্রমী বছরে বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী রইলেন মহানগরের বাসিন্দারা। কালী পুজোয় এবং দীপাবলিতে যাতে মানুষ বাজি না ফাটান, তার জন্য চিকিৎসকদের আবেদনে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাজি বিক্রি এবং ফাটানো নিষিদ্ধ করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট।

আর তার ফলাফলে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা না গেলেও অনেকটাই বাজি-মাত করতে পারল কলকাতা। দেখা গেল অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছরে কলকাতার দীপাবলি অনেকটাই রইল দূষণহীন।রাজ্য পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অন্যান্য বছর কালীপুজোর দিন বাতাসে যে পরিমাণ দূষণের মাত্রা ছড়ায়, সেই তুলনায় এবার বেশ কম। বছরের শুরু থেকেই করোনার আতঙ্ক মানুষের মনে এতটাই বেশি প্রভাব ফেলেছে এবং প্রায় প্রত্যেক পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের কেড়ে নিয়েছে, সে ক্ষেত্রে আনন্দ করার মতো জায়গায় অনেকেরই নেই। আর সচেতন নাগরিক হিসেবে অনেকেই বাজি বিক্রি করে বা ফাটিয়ে বিপত্তি বাড়াতে চাননি। তাই এবার বাজি না ফাটিয়ে আলো জ্বালিয়েই দীপাবলি উদযাপন করেছেন মানুষজন।
আরও পড়ুনঃ কলকাতায় কালীপুজো উদ্বোধনে এলেন সাকিব
আর পুলিশ এবং হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যাঁরা বাজি সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন তাদের পক্ষে ব্যাপারটা খুব একটা সহজ হয়নি। শহরের কোথাও এবার বসেনি বাজি বাজার। এমনকি শহরের সমস্ত বড় বড় বাজি বিক্রির জায়গা গুলি পর্যন্ত বন্ধ। প্রত্যেক ডিভিশন থেকে শুরু করে থানা এমনকি কমিশনারেট এলাকাগুলিতে সমস্ত বাজি বিক্রি জায়গাগুলিতে ক্রমাগত তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। নিষিদ্ধ বাজি তো দূরের কথা সাধারণ বাজি দেখলেও আটক করা হয়েছে। আর জোর করে বাজে বিক্রি করতে গিয়ে পুলিশের রোষের মুখে পড়তে চান নি কেউ। একই সঙ্গে যারা লুকিয়ে চুরিয়ে বাজি কিনে ফাটিয়েছেন, তেমন ক্ষেত্রেও বিভিন্ন এলাকায় হানা দিয়েছেন পুলিশ অফিসাররা। সব মিলিয়ে বাজি বিক্রি এবং ফাটানো চলতি বছরে অর্ধেকেরও বেশি কমে গিয়েছে।
রাতের দিকে শহরের আনাচে কানাচে শব্দবাজির আওয়াজ কানে এলেও অন্যবারের তুলনায় তা ছিল সামান্য। দূষণের মাত্রা অবশ্য এদিনও হাওড়ার ঘুসুড়ি, রবীন্দ্রভারতীর, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কাছে ছিল একটু বেশি। কিন্তু বাকি জায়গাগুলোতে অন্য বারের কালীপুজোর বিচারে বেশ কম। বাতাসে দূষণের মাত্রা মাপার জন্য শহরের একাধিক জায়গায় যন্ত্র বসানো হয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফে। সেখানেই উঠেছে দূষণের মাত্রা।
আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কালীপুজোয় তিন দশকেরও বেশি সময় মূর্তি গড়ছে এই পরিবার
এবছর কালীপুজোর দিন দূষণের মাত্রা উঠেছে বালিগঞ্জে ১১৪, যেখানে গত বছর ছিল ২০৫, ফোর্ট উইলিয়ামে ১১৮, গত বছর যেখানে ছিল ১৩৯, যাদবপুরে ১০৯, গত বছর ছিল ১৯০, রবীন্দ্রভারতীতে ২২২, গতবার সেখানে অবশ্য একটু কম ছিল ১৮৭, তার আগের বার অবশ্য ছিল ৩২০, রবীন্দ্র সরোবর ৯৬ গতবার ১৪৭, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ১০৭, তা অবশ্য গতবার ৯৮ ছিল। তাছাড়া বেহালা, ডানলপ, মিন্টো পার্ক, মৌলালিতে গত দু’বছর আগে দূষণের মাত্রা ছিল ৩০০ থেকে ৪০০-র কাছাকাছি।
নিয়ম অনুযায়ী দূষণের মাত্রা ০-৫০ রেঞ্জে যদি থাকে তবে তা ভাল। ৫১-১০০ হল সন্তোষজনক, ১০১-২০০ মাঝামাঝি, ২০১ থেকে ৩০০ খারাপ, ৩০১ থেকে ৪০০ খুব খারাপ, ৪০১-৫০০ অত্যন্ত খারাপ। এবার বেশিরভাগ জায়গাতেই অবশ্য মাত্রা ১০০ থেকে ১৫০র মধ্যে ছিল।
আরও পড়ুনঃ সোমেন-পুত্রের ট্যুইট ঘিরে জল্পনা, তিনিও কী তৃণমূলের পথে!
প্রসঙ্গত পুলিশের দাবি, আগে যে পরিমাণ শব্দবাজি ফাটত এবং বাজির ধোঁয়া হত, বেশ কয়েক বছর প্রচার চালিয়ে তা অনেকটাই কমে গিয়েছে। যদিও শহরের বেশ কিছু অঞ্চলে ধরপাকড় করেও মানুষের স্বভাবের পরিবর্তন হয়নি। তবে চলতি বছরের পরিস্থিতি কথা মাথায় রেখে মানুষের সচেতনতা আশ্বস্ত করেছে পরিবেশবিদদের।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584