শিবশংকর চ্যাটার্জ্জী,দক্ষিণ দিনাজপুরঃ
দক্ষিন দিনাজপুর জেলার কুশমন্ডি থানার অন্তর্গত ৩ নং উদয়পুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতর কারাদার এলাকায় ঝাড় ফুঁকে প্রাণ গেল গৃহবধূর।মৃতা ওই গৃহবধূর নাম খাইরুন খাতুন(৩০)।ঘটনাটি শনিবার সন্ধ্যায় ঘটে বলে জানা গিয়েছে।

সাপে দংশন করে খাইরুন খাতুনকে কারাদার গ্ৰামের বাসিন্দারা হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে অন্ধ বিশ্বাসে ভর করে গ্ৰামের এক ওঝার কাছে নিয়ে গিয়ে ঝাঁড়ফুক করতে শুরু করলে ওই গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং একঘন্টা পর গৃহবধূকে কুশমন্ডি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসরা তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।
পুলিশ সূত্রের খবর,মৃতা গৃহবধূর স্বামী সেলিম আলী ভিন্ন রাজ্যে কাজ করেন এবং তাদের একটি পাঁচ বছর বয়সের ছেলে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
সাধারণ মানুষের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন এত সচেতনতা প্রচারের পর অন্ধ বিশ্বাসে ঝাড় ফুঁক কেন ?
রবিবার কুশমন্ডি থানার পুলিশ মৃতা গৃহবধূর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে মৃতার আত্মীয়রা বলেন,মহিপাল বাজার থেকে ওই গৃহবধূ বাড়ী যাচ্ছিলো, বাড়ীর সামনে রাস্তায় তাকে সাপে কামড় দেয়।এই প্রসঙ্গে ৩নং উদয়পুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের সদস্য কৃষ্ণ বসাক বলেন,আমি খবর পেয়েছি আমার গ্রামেরই গৃহবধূ খাইরুন খাতুনকে সাপ কামড়ে দিয়েছে।যেহেতু কুসংস্কারে গ্রামআচ্ছন্ন হয়ে আছে তাই চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে গিয়ে গ্ৰামবাসীরা ওঝার নিয়ে যাওয়াই ওই গৃহবধূ মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে।
আরও পড়ুনঃ দেওয়াল চাপা পড়ে মহিলার মৃত্যু
কারাদার গ্ৰামটি কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে আছে,আমরা চেষ্টা করব আর এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে এবং সকলকে সচেতন করবো যাতে মানুষের কোন রকম রোগব্যাধি হলে সর্বপ্রথম যেন হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584