শান্তির ললিত বাণী বিতরণ করে বেড়াবো? পোস্টের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন দিলীপের

0
38

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতাঃ

রাজ্য-রাজনীতির দ্বন্দ্ব কার্যত এখনও অব্যাহত। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে যে বদলের সঙ্গে বদলাও হবে, একথা আগে বহুবার মুখে বলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এবার আর একথা মুখে নয়, একেবারে হাতে কলমে লিখে জানালেন তিনি। শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন দিলীপবাবু। সেই পোস্টে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, ‘বদলাও হবে, বদলও হবে’।

dilip ghosh | newsfront.co
ফাইল চিত্র

আর এই নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। দিলীপবাবুর দাবি, তৃণমূলস্তরের কর্মীদের পাশে থাকতেই এই বার্তা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এই পোস্টে দেখা যাচ্ছে গেরুয়া রঙে রঞ্জিত পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রের সামনে দিলীপ বাবুর ছবি। আর তার পাশে লেখা রয়েছে স্লোগানটি।

এইরকম পোস্ট করে কী বোঝাতে চাইছেন মেদিনীপুরের সাংসদ? চিন-ভারত সংঘাত নিয়ে গোটা দেশ যখন বদলা চাইছে তখন কোন ‘বদলা’র কথা বললেন দিলীপ ঘোষ? এই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তবে, পরে চিন প্রসঙ্গ নিজেই খারিজ করে দিয়ে দিলীপবাবু জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির প্রেক্ষিতেই এই পোস্ট করেছেন তিনি। এদিন দিলীপবাবু বলেন, “প্রতিদিন রাজ্যের কোথাও না কোথাও আমাদের কর্মীদের উপরে হামলা চলছে। মিথ্যা মামলা দেওয়া তো আছেই সেই সঙ্গে প্রাণ নেওয়া হচ্ছে। গতকালও দাঁতনে আমাদের এক কর্মীকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ পিটিএস থেকে বদলি আরও ২৫ কলকাতা পুলিশকর্মী

পালটা আমি কি শান্তির ললিত বাণী বিতরণ করে বেড়াবো? কখনোই না। এই রাজ্যের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হলে বদলাও নিতে হবে। যেদিন ক্ষমতায় আসব সেদিন খুঁজে বার করে মারব। যে যেই ভাষা বোঝে তাকে সেই ভাষাতেই জবাব দিতে হয়।” ঠোঁটকাটা বলে ব্যাপক দুর্নাম রয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতির। তাই এখানেই থেমে থাকার পাত্র তিনি নন। এদিন দিলীপবাবু আরও বলেন,“২০১১ সালে ‘বদলা নয়, বদল চাই’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা।

এই স্লোগান মুখে বললেও কাজের ক্ষেত্রে কী করেছে তৃণমূল? ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিদিন বিরোধীদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। এমনকী আমর যখন দুর্গত মানুষকে ত্রাণ দিতে যাচ্ছিলাম, তখনও আমাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। ওদের কথা আর কাজ আলাদা। আমাদের তেমন নয়। আমার মুখ আর কাজ আলাদা নয়।

তাই সত্যটা আগে আগে বলে দিলাম।’ দিলীপবাবু স্পষ্ট করেছেন, দল যে স্লোগান ঠিক করুক না কেন, ২০২১ সালের নির্বাচনে তাঁর স্লোগান এটাই থাকবে।

আর নয় মাস পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সাধারণত এই সময় রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়ে গেলেও করোনা সংক্রমণের জন্য এবার তেমন প্রচার শুরু করতে পারেনি কোনও দলই।

এদিকে, ভার্চুয়াল জনসভার মধ্য দিয়ে সম্প্রতি সেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতার হয়ে হিংসায় মদত দেওয়া কতটা নৈতিক? দিলীপ ঘোষের কাছে এরকমই প্রশ্ন রেখেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here