শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ
হাজার সতর্কতা সত্ত্বেও বঙ্গে পা রেখে ফেলেছে করোনা ভাইরাস। তবে সরকারি আমলার লন্ডন ফেরত ছেলের শরীরে নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়লেও বাবা-মা ও গাড়িচালকের লালারসের নমুনা পরীক্ষায় এখনও কোনও সংক্রমণ ধরা পড়েনি। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আরও নতুন ৬ দফা নির্দেশিকা দারি করল স্বাস্থ্য দফতর।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ভবনে জরুরি বৈঠকের পর স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা আগামী দিনগুলির জন্য নতুন ৬টি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেগুলি হল,
১। যে হাসপাতালগুলিতে আইসোলেশন ওয়ার্ড রয়েছে সেখানে ৬ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হবে। বোর্ডে থাকবেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ,ফুসফুস বিশেষজ্ঞ, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, ইএনটি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
২। করোনা আক্রান্ত বা সন্দেহভাজনদের জন্য পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করতে হবে। এছাড়াও সম্ভব হলে আইসোলেশন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট অর্থাৎ আইসিসিইউ তৈরি করতে হবে। সাধারণ সিসিইউ-তে কোনওভাবেই করোনা সন্দেহভাজন রোগীকে ভর্তি করা যাবে না।
৩। করোনা সন্দেহভাজন রোগীদের ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য হাসপাতালে আলাদা বিল্ডিং বা ফাঁকা বিল্ডিংয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভব না হলে যতটা সম্ভব ফাঁকা জায়গায় আইসোলেশন করতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ গোমূত্র পান নয়, সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন – ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটি
৪। নতুন ৩টি করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র চালু করা হবে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও কলকাতা স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে। এছাড়াও মালদা ও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজেও দ্রুত পরীক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
৫। প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আলাদা করে ‘ফিভার’ ক্লিনিক তৈরি করা হবে। করোনার উপসর্গগুলির মধ্যে অন্যতম হল জ্বর, সর্দি ইত্যাদি। সাধারণ জ্বরের সঙ্গে না মিললে সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে আইসোলেশনে রেখে পরীক্ষা করতে হবে।
৬। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে সমস্ত চিকিৎসক-নার্সদের ছুটি বাতিল করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে থেকে আবেদন করা থাকলেও তা বিবেচ্য হবে না। তবে মানবিক বা জরুরি কোনও পরিস্থিতি থাকলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584