মোহনা বিশ্বাস, ওয়েব ডেস্কঃ
ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে দিল্লির টিকরি সীমানা। প্রায় ১১ মাস ধরে কেন্দ্রের নয়া তিন কৃষি আইনের বিরোধিতা করে দিল্লির টিকরি সীমানায় অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন হরিয়ানা, পাঞ্জাব, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা। সীমান্তের রাস্তা ফাঁকা করতে এবার ওই বিক্ষোভরত কৃষকদের টিকরি সীমানা থেকে সরাতে তৎপর দিল্লি পুলিশ।

এহেন পরিস্থিতির মধ্যে রবিবার ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (বিকেইউ) নেতা রাকেশ টিকাইত বলেন যে, “বিক্ষোভরত কৃষকদের যদি সীমান্ত থেকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাহলে কৃষকরা ভারত জুড়ে সরকারী অফিসগুলিকে “গাল্লা মান্ডি” তে পরিণত করবে।” টিকাইতের এই বিবৃতি দেওয়ার পরই কৃষকরা সংসদের সামনে তাদের কৃষি পণ্য বিক্রি করতে দিল্লি যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন।
We have come to know that the administration is trying to pull down the tents here with the help of JCB. If they do that, the farmers will set up their tents at Police stations, DM offices: Rakesh Tikait, BKU leader at Ghazipur (Delhi-UP) border pic.twitter.com/kl684sxsmM
— ANI (@ANI) October 31, 2021
এদিন রাকেশ টিকাইত আরও বলেন যে, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই বলেছিলেন যে আমরা যে কোনও জায়গায় পণ্য বিক্রি করতে পারি। এতে সরকার কোনোভাবেই বাধা দিতে পারে না।”
বৃহস্পতিবার রাতে টিকরি এবং গাজিয়াবাদ সীমান্তে অর্থাৎ যেখানে নয়া তিন কৃষক আইনের বিরুদ্ধে কৃষকরা বিক্ষোভ করছেন প্রায় ১১ মাস ধরে। সেই জায়গা থেকে বিক্ষোভরত কৃষকদের সরিয়ে দিতে শুরু করে দিল্লি পুলিশ।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে যখন কৃষকদের বিক্ষোভ নিয়ে শুনানি চলছিল, সেইসময় কৃষক ইউনিয়নের তরফ থেকে বলা হয় যে দিল্লি সীমান্ত অবরোধের জন্য পুলিশ দায়ী ছিল। গতবছর নভেম্বর মাসে নয়া তিন কৃষি আইনের প্রতিবাদে যখন দিল্লির পথে অগ্রসর হয়েছিল একাধিক রাজ্যের কৃষক। তখন পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দিয়েছিল সীমান্তের রাস্তা। রাস্তায় ছিল হাজার হাজার পেরেক। যাতে বিক্ষোভরত কৃষকরা কোনোভাবেই সীমান্ত অবধি পৌঁছতে না পারেন। কিন্তু কৃষকদের অদম্য জেদ আর শক্তির কাছে ব্যর্থ হয় পুলিশের সব চেষ্টা।
আরও পড়ুনঃ দেশদ্রোহিতা আইনের অপব্যবহার নিয়ে সরব প্রাক্তন বিচারপতি, পাকিস্তানের জয়ে উচ্ছ্বাস দেশদ্রোহ নয়
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওগুলিতে পরিস্কার দেখা যায়, যে জেসিবি মেশিন দিয়ে টিকরি এবং গাজিয়াবাদ সীমান্তে অবরোধগুলি সরাচ্ছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই দৃশ্য দেখে চোখে জল এসেছিল ভারতবাসীর। দিল্লি পুলিশ শুক্রবার সীমান্ত থেকে ব্যরিকেডগুলি সরিয়ে দেয়।
আরও পড়ুনঃ RBI গভর্নর পদে আরও ৩ বছরের জন্য কার্যকালের মেয়াদ বৃদ্ধি শক্তিকান্ত দাসের
এরপর বিক্ষোভরত কৃষকরা বলেন যে, দিল্লি পুলিশের এই ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ার ফলে এটা প্রমাণিত হল যে তাঁরা কোনোদিনই সীমান্তের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাননি। এদিকে, ২১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে জানানো হয় যে, নয়া তিন কৃষি আইনের বিরোধিতা করার অধিকার কৃষকদের আছে। কিন্তু সেই কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাস্তা অবরোধ তাঁরা করতে পারেন না।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584