দলিত যৌন নিগ্রহে বেশিরভাগ অভিযুক্ত উচ্চবর্ণের, মেলে না বিচার- রিপোর্টে প্রকাশ

0
62

নিজস্ব সংবাদদাতা, ওয়েব ডেস্কঃ

স্বাভিমান সোসাইটি এন্ড ইকুয়ালিটির একটি প্রতিবেদন উঠে এল এক নিদারুন চিত্র, দলিত মহিলা এবং নাবালিকা যারা যৌন নির্যাতনের শিকার তাদের ন্যায়বিচার দিতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে ভারতীয় বিচার ব্যবস্থা।

Molestation | newsfront.co
প্রতীকী চিত্র

গত সেপ্টেম্বর মাসে উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে ঘটে যাওয়া গণধর্ষণ বিষয়েও একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন সামনে এনেছে এই স্বাভিমান সোসাইটি, যা মূলত দলিত মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত একটি ক্ষুদ্র সংস্থা।

‘ইকুয়ালিটি নাউ’ নামে একটি আন্তর্জাতিক নারী অধিকার রক্ষা সংগঠনও স্বাভিমান সোসাইটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে চলে। প্রধানত এটি একটি যৌথ প্রতিবেদন যা তুলে ধরেছে ভারতে যৌন নির্যাতনের শিকার এইসমস্ত দলিত মহিলাদের দুরবস্থার কথা, যাঁরা প্রকৃত অর্থে আইনি সহায়তাও পাননা।

আরও পড়ুনঃ সুবিচারের আশায় হাথরাসের নির্যাতিতার পরিবার

‘জাস্টিস ডিনায়েড’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে তাঁরা অন্তত ৪০ টি গণধর্ষণ এর কথা তুলে ধরেছেন যার প্রত্যেকটির শিকার দলিত নাবালিকা বা দলিত মহিলা এবং অভিযুক্ত তথাকথিত উচ্চবর্ণের হিন্দু। কোন ক্ষেত্রেই এই নির্যাতিতারা আইনের সেই সুবিধা পাননি যা অন্যান্য যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে মহিলারা পেয়ে থাকেন কারণ তারা নিম্ন বর্ণ বা দলিত। এমন ঘটনার বেশির ভাগই উত্তর ভারতের ঘটনা মূলত হরিয়ানা থেকেই এই ধরণের সামাজিক বৈষম্যের শিকার তাঁরা।

আরও পড়ুনঃ উস্কানি সম্প্রচারের অভিযোগে ২০ হাজার ইউরো জরিমানা রিপাবলিক ভারত টিভির

এই প্রতিবেদন প্রমাণ করেছে, দলিতদের ক্ষেত্রে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় আইনি সাহায্য না মেলার ঘটনা বেশি হলেও সাধারণ ভাবে অন্য শ্রেণীর মহিলাদের ক্ষেত্রেও যৌন নিগ্রহের শিকার হলেও আইনি সাহায্য পাওয়ার সমস্যা অনেকটাই রয়েছে, এর কারণ হিসেবে তাঁরা দায়ী করেছেন সমাজের সর্বস্তরে জড়িয়ে থাকা কুসংস্কার, সামাজিক কলঙ্কের ভয়, পিতৃতান্ত্রিক সমাজ চেতনা এবং সর্বস্তরের দুর্নীতিকে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ জন দলিত মহিলা ধর্ষিতা হচ্ছেন তবে বাস্তবে সংখ্যাটা সরকারি তথ্যের চেয়ে অনেক গুন বেশি তা জানাচ্ছে সংস্থা।

আরও পড়ুনঃ নয়া আইন প্রত্যাহারের দাবিতে কৃষক আন্দোলনকে সর্মথন চিপকো নেতা সুন্দরলালের

ইকুয়ালিটি নাউ এর ইউরেশিয়া শাখার ডিরেক্টর জ্যাকি হান্ট জানিয়েছেন, ” যেসব ঘটনা আমাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি কি পরিমাণ হৃদয়বিদারক তা না পড়লে বোঝা যাবে না। আর তা থেকেই আমরা জানতে পারি ভারতীয় বিচার ব্যবস্থা কিভাবে দিনের পর দিন এই ধরণের জাতিভিত্তিক যৌন নিগ্রহের ঘটনার থেকে চোখ ফিরিয়ে রেখে এই মহিলাদের প্রাপ্য ন্যায়বিচার দিতে বঞ্চনা করেছে।”

তিনি আরও জানান, “দলিত মহিলাদের ওপর নিগ্রহকারী পুরুষেরা জানেন যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের তেমন বড় কিছু শাস্তি হবে না কারণ তদন্তই ঠিক মতো হয় না, তারপর আছে গ্রামীণ বিচার ব্যবস্থা অর্থাৎ সালিশি সভা, পঞ্চায়েত ইত্যাদি। তাঁরা পারতপক্ষে এই ঘটনা থানা পর্যন্ত পৌঁছতে দেন না তার একটা বড় কারণ পিতৃতান্ত্রিক মনোভাব। আর তার পরে যৌন নিগ্রহ যদি কোনো উচ্চবর্ণের পুরুষের দ্বারা হয় তাহলে তারা বিচারের বা শাস্তির ঊর্ধে এমনটাই মনে করা হয়। “

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here