উজ্জ্বল দত্ত, কলকাতাঃ
আসানসোলের পৌরনিগমের প্রশাসকের পদ ছাড়লেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি৷ গতকালই তৃণমূল বিধায়কের পদ ছেড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ তারপর এক সাংসদের বাড়িতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি৷ তারপরই আজ আসানসোল পুর প্রশাসকের পদ ছাড়েন জিতেন্দ্র।

পদ ছেড়েছেন দীপ্তাংশু চৌধুরি। তিনি দক্ষিণবঙ্গ স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের পদে ছিলেন৷ আজ মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে তিনি তাঁর ইস্তফার কথা জানান৷ তারপরই খবর আসে প্রশাসকের পদ ছাড়ছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী নিজে জিতেন্দ্র তিওয়ারির সঙ্গে কথা বলেন৷ কিন্তু তারপরও শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দুর পর কর্নেল দীপ্তাংশু-সহ একাধিক নেতা একসঙ্গে ইস্তফা দিলেন তৃণমূলে
পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে একটি চিঠি দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত৷ চিঠিতে তিনি লেখেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নগর উন্নয়ন মন্ত্রকের স্মার্ট সিটি প্রোজেক্টের জন্য মনোনীত হয়েছিল আসানসোল। এর জন্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আসার কথা ছিল এবং যা আসানসোলের উন্নয়নে কাজে লাগত। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে এই প্রকল্পের সুফল থেকে আসানসোলকে যোগ করেনি রাজ্য। যদিও কী সেই কারণ তা উল্লেখ করেননি তিনি। সেইসঙ্গে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, রাজ্যের সিদ্ধান্তের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের দেড় হাজার কোটি টাকাও আসানসোলে আসেনি। সরাসরি জিতেন্দ্র তিওয়ারির এমন চিঠি ঘিরে উত্তাল রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে এই চিঠি প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম বলেন ,”জিতেন্দ্র তিওয়ারি বহু দিন মেয়র ছিলেন। কিন্তু এর আগে কোনওদিন ও আমার কাছে এই অভিযোগ করেননি। এরকম চিঠি দেওয়ার কারণ কী সেটা বুঝতে পারছি না।” এরপরেই জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে ফোন করেন ফিরহাদ। কিন্তু তাতেও বরফ গলেনি। বরং একে অপরের দিকে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করেন দু’জনে ৷
আরও পড়ুনঃ ফারাক্কায় দু’দিনের সফরে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী
পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে ফোন করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ যদিও তার পরই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি৷ যদিও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ নেহাতই কাকতালীয় বলে দাবি করেন তিনি। আজ সকালে আসানসোলে নিজের বাসভবনে এমনই দাবি করেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তবে তিনি জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক আলোচনা না হলেও শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতেই যাচ্ছেন। এদিকে মেদিনীপুরে অমিত শাহর হাত ধরে জিতেন্দ্র তিওয়ারি, কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরি-সহ বেশ কয়েকজন বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন বলে জল্পনা শুরু হয়।
আরও পড়ুনঃ উত্তরবঙ্গ সফর শেষে কলকাতার পথে মমতা
শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে জিতেন্দ্র জানিয়েছিলেন, “সুনীল মণ্ডলের মা মারা গেছেন। সেখানে দেখা করতে গেছিলাম। কাকতালীয়ভাবে উনিও সেখানে চলে এসেছিলেন। দেখা হয়েছে। রাজনৈতিক কথাবার্তা হয়নি।” পালটা সাংবাদিকদের তরফে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়- আপনাকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা বলেছেন শুভেন্দু? এ প্রশ্নের উত্তরে জিতেন্দ্র তিওয়ারি জানিয়ে দেন, উনি(শুভেন্দু) বিজেপিতে যাচ্ছেন। তবে কাউকে বিজেপিতে যাওয়ার কথা বলেননি।
বুধবার পূর্ব বর্ধমানের সাংসদ সুনীল মণ্ডলের বাড়িতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকও হয় তাঁর। যদিও তিনি বলেন, ওই বৈঠকে কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। অন্য দিকে পুর প্রশাসক এবং দলের সমস্ত পদ ছাড়ার পর এ বার জিতেন্দ্রর বিধায়ক পদ ছাড়া নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।
একই সঙ্গে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস দলও ছেড়ে দিলেন বলে জিতেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, এখনই বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন না।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584