নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ

বাংলার মহিলাদের প্রয়োজনে অস্ত্র তুলে নেবার আহ্বান বিজেপির রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের।আজ বাঁকুড়া জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে গনতান্ত্র বাঁচাও দাবীতে শহরের হিন্দু স্কুল থেকে মিছিল শুরু করে মাচানতলা হয়ে জেলাশাসকের দফতরে ‘ডেপুটেশন’ দিতে যান দলের নেতা-কর্মীরা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী তৈরী রাখা হয়েছিল।তার মধ্যেও পুলিশ বিজেপি কর্মীদের পথ আটকাতে গেলে সামান্য কিছুক্ষণের জন্য দু’পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। যদিও সেই জল বেশীদূর গড়ানোর আগেই পুলিশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপির রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চ্যাটার্জ্জী ‘প্রশাসনের উপর কোন ভরসা না’ রাখার কথা বলে অভিযোগ করে বলেন,একের পর এক মহিলাদের উপর নানান ধরণের আক্রমণ ঘটলেও প্রশাসন কোন ধরণের আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেননা। উল্টে অভিযুক্তরা তৃণমূলে যোগ দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি রাজ্যের মহিলাদের উদ্দেশ্যে বলেন,নিজেকে ও নিজেদের পরিবারকে বাঁচাতে হলে রাস্তায় নামতে হবে।প্রয়োজনে হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার নিদান দেন তিনি।মহিলা মোর্চার সভানেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে আরো বলেন,’উনি আগে বলতেন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা বলে কিছু নেই।এখন উনি বলছেন টাকা আছে।আমাদের রাজ্যে সেই নামটা ঘুরিয়ে দেবো’।তিনি অভিযোগ করেন,তৃণমূলের প্রতিটা নেতা অস্ত্র, বোমা বালি পাচার, গোরু পাচারে জড়িয়ে গেছে। এই অবস্থা থেকে দলটাকে বের করে আনা জটিল।
‘চোরকে বলছে চুরি করতে গৃহস্থকে বলছে সতর্ক হতে’ বাংলা প্রবাদের অবতারণা করে লকেট চ্যাটার্জ্জী বলেন,’উনি প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে বলছেন বোমা কারখানা আছে।আর পিছনে বলছেন,বোমা মেরে সব উড়িয়ে দাও,খুন করে দে।’ বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে লকেট চ্যাটার্জ্জী বলেন,এই বছরটা তো শেষই হয়ে গেল।আর দু’টো দিন বাকি। বিষয়টা আদালতে বিচারাধীন।তবে একই সঙ্গে তিনি আশাবাদী নতুন বছরে এই যাত্রা হবে।এই যাত্রা বিজেপির নয়, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের যাত্রা, গণতন্ত্রকে বাঁচানোর যাত্রা।একই সঙ্গে তিনি আশাবাদী,ষড়যন্ত্র করে যেভাবে এই যাত্রা আটকানোর চেষ্টা হয়েছিল তা বিফলে যাবে।এদিন বিজেপির জেলাশাসকের দফতরে ডেপুটেশনে মহিলা মোর্চার নেত্রী লকেট চ্যাটার্জ্জী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের দুই রাজ্য সহ সভাপতি ডাঃ সুভাষ সরকার, বিশ্বপ্রিয় রায় চৌধুরী, রাজ্য সম্পাদক শ্যামাপদ মণ্ডল, জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র প্রমুখ।


আরও পড়ুন: কেন্দ্র বাংলাকে গরীর করে রাখতে চায়ঃ মুখ্যমন্ত্রী
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584