শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ
আমফান ত্রাণ নিয়ে অবশেষে দুর্নীতির কথা ঘুরিয়ে স্বীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০ মে ওই ঘূর্ণিঝড়ের পর দ্রুত ত্রাণের ব্যবস্থা করা সত্ত্বেও তা নিয়ে দুর্নীতির কারণে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ক্ষতিপূরণ পৌঁছয়নি, এমন অভিযোগ বারবারই তুলেছে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে বলেন, ‘তাড়াতাড়ি টাকা, ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে বলে কোথাও কোথাও সমস্যা দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’
সোমবার প্রথমে নবান্নের সভাঘরে টলিউডের কলাকুশলীদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আমফান প্রসঙ্গে ত্রাণ বিলি নিয়ে উঠে আসা একাধিক অভিযোগ প্রসঙ্গে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ত্রাণ সামগ্রী, টাকা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু দ্রুততার কারণে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার সমাধান করা হচ্ছে। একজন ক্ষতিগ্রস্তও ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হবেন না।
আরও পড়ুনঃ ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
অর্থাৎ, ত্রাণ নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যে একেবারেই ভিত্তিহীন নয়, কার্যত তা মেনে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার প্রতিটি বাড়িতে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে৷ এর জন্য ৫৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করবে রাজ্য সরকার৷ এ দিন নবান্নে ‘জলস্বপ্ন’ নামে এই প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এর ফলে ২ কোটি পরিবার উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যেহেতু ২ কোটি পরিবারের কাছে পাইপলাইন বসিয়ে পরিশ্রুত জল পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হবে, তাই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হতে ৫ বছরের সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে৷ বেশ কয়েকটি পর্যায়ে রাজ্য জুড়ে এই কাজ শেষ করা হবে৷
আরও পড়ুনঃ নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট মেট্রো প্রকল্পে ৫২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ কেন্দ্রের
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ৫৮ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে গ্রামীণ এলাকাগুলিতে প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি হবে৷ ফলে প্রচুর ছেলে মেয়ের চাকরিরও সুযোগ হবে৷ গ্রামাঞ্চলের ব্যাপক আর্থিক এবং সামাজিক উন্নয়ন হবে। কষ্ট কমে যাবে বাংলার মা-বোনেদের। একে তাঁর ‘স্বপ্নের প্রকল্প’ বলেও উল্লেখ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এই প্রকল্পকে নিয়ে স্বপ্ন দেখুন। গর্ব অনুভব করুন। গান বাঁধুন। জলস্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে মা-বোনেদের দূরে গিয়ে জল আনতে হবে না। তৈরি হবে কর্মসংস্থানও।”
তবে আপামর রাজ্যবাসী এই প্রকল্পে সাধুবাদ জানালেও এর পিছনেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত বা লোকসভা নির্বাচনের ভোটব্যাঙ্কে গ্রামাঞ্চলের ফলাফল ব্যাপক ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল শিবিরে। তাই ২০২১ বিধানসভা ভোটের আগে গ্রামাঞ্চলে মানুষের মন জয়ে এই নয়া কৌশল বলে মত অনেকের।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584