শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ
পশ্চিমবঙ্গ সরকার জনভিত্তির বদলে যে অনেকটাই পুলিশ প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল, এমনটাই মনে করেন বঙ্গ বিজেপির একাধিক নেতৃত্ব। বিভিন্ন সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই বক্তব্য রেখেছেন তারা। তাই কখনও রাজ্যে কর্মরত পুলিশ অফিসারদেরকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি, আবার কখনও রাজ্যকে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের দিনই লুকিয়ে চলছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তল্লাশি।

কিন্তু নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্র ক্ষমতাবলে এভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, এমনটাই এদিন নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজ্য জুড়ে তল্লাশি অভিযানে নেমে পড়েন সিবিআই ও আয়কর দফতরের অফিসাররা। একদিকে যেমন গরু পাচার কাণ্ডের তদন্তের জন্য কলকাতার ৪ জায়গায় সিবিআই তল্লাশি চালায়, তেমনই আয়কর অফিসাররা তল্লাশি চালালেন দুর্গাপুর, আসানসোল, জামুরিয়া, অন্ডাল, পুরুলিয়া, রাণীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়।
আরও পড়ুনঃ অনুষ্ঠান করার প্রশাসনিক অনুমতির দাবিতে পথ অবরোধ শিল্পীদের
তার প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আজ তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাঁকুড়ায় নিমন্ত্রণ খেতে এসেছেন। আর আজই আধা সামরিক বাহিনী নিয়ে তল্লাশি হচ্ছে শুনছি—আসানসোল, পুরুলিয়া, দুর্গাপুর। রাজ্য পুলিশকে কিছু না জানিয়েই। কলকাতাতেও সিবিআই তল্লাশি চলছে। রাজ্য সরকারকে অন্ধকারে রেখে কেন্দ্রীয় এজেন্সি চলে আসছে। কেন্দ্রীয় সরকার এভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।’
রাজ্যের আইএস এবং আইপিএস অফিসারদের কেন্দ্রীয় এজেন্সি-র নাম করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷ পুলিশ অফিসারদের ইনকাম ট্যাক্স, ভিজিলেন্স কমিশন দিয়ে হেনস্থার ভয় দেখানো হচ্ছে৷ রাজ্যে কর্মরত আইএএস এবং আইপিএস অফিসারদের স্ত্রীদেরও ভিন রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় বদলি করেও দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷
আরও পড়ুনঃ বাড়ি বাড়ি লাশ খুঁজছেন দিলীপ ঘোষ! ঘাটালে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে বললেন অজিত
পুলিশ অফিসারদের তিনি বলেন, ‘আপনারা রাজ্যের অধীনে কাজ করেন৷ আপনারা যেমন রাজ্যকে সার্ভিস দেন, রাজ্যও আপনাদের সার্ভিস দিতে তৈরি৷ কীভাবে আমাদের অফিসারদের হেনস্থা করছে, এরপর আমরা গোটা ভারতবর্ষকে জানাতে বাধ্য হব৷ আপনারা ভদ্রতা রেখে কাজ করুন, আমরাও আমাদের ভদ্রতা রেখে কাজ করব৷ প্রত্যেকে নিজেদের লক্ষ্মণরেখায় থেকে কাজ করুন৷ সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা মেনে সবাই যাতে কাজ করতে পারি, একথা মাথায় রাখতে হবে৷’
বৃহস্পতিবার সকালে বাঁকুড়া পৌঁছেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলায় তৃণমূলের অপশাসন চলছে। তৃণমূলের প্রতি জনরোষ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওপর জনগণের আস্থা প্রদর্শিত হচ্ছে। এই সরকারকে ‘উখাড়কার ফেক দিজিয়ে’। এ দিন প্রশাসনিক বৈঠকে সেই কথাকেই ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কেউ কেউ বলছে উঠাকে ফেক দো। উঠাকে ফেক দো মানে কী? ভদ্রতার সীমা রাখুন। আমিও হিন্দিতে কথা বলতে পারি। ভাল হিন্দি বলতে পারি। আমিও যদি বলি, উঠাকে ফেক দো, তা হলে ভাল হবে তো!’
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584