নিজস্ব সংবাদদাতা, ওয়েব ডেস্কঃ
কয়েক লক্ষ কোটি টাকার ‘সন্দেহজনক’ আর্থিক লেনদেনের তথ্য ফাঁস করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নজরদারি সংস্থা ফিনান্সিয়াল ক্রাইম এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক। সংস্থার রিপোর্টের নাম দেওয়া হয়েছে ফিনসেন ফাইলস। ‘সন্দেহজনক’ এই লেনদেনে নাম উঠে এসেছে একাধিক ভারতীয় ব্যাঙ্ক ও ধনী ব্যক্তিদের। এরপর পুরো বিষয়টিকে ভারতের আর্থিক নজরদারি সংস্থার নজরে এনেছে সরকার।
এসএআর রিপোর্টে বলা হয়েছে, কীভাবে ব্যাঙ্ক কে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদরা কর ফাঁকি দেন এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার করেন! ভারতীয় বংশদ্ভুত হিরে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে প্রথমসারির স্বাস্থ্য পরিষেবা সংস্থা, ঋণ খেলাপি স্টিল সংস্থা-সহ আর্থিক অপরাধে যুক্ত বহু ব্যক্তি বা সংস্থার নাম উঠে এসেছে ফিনসেন পেপারে। আইপিএল–এর একটি টিমের স্পনসরের নামও উঠে এসেছে এক্ষেত্রে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, টাকা নেওয়া বা পাঠানোর জন্য ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলির অভ্যন্তরীণ শাখাগুলিকে ব্যবহার করা হয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে ভারতীয় ব্যাঙ্কের বিদেশি শাখাগুলিকেও কাজে লাগিয়ে আর্থিক লেনদেন চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও খারাপ হবে! সতর্ক করল বিশ্বব্যাঙ্ক
এসএআর রিপোর্টে দাবি, শুধু ভারত থেকেই ৩,০২১টি সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। মোট অঙ্কের পরিমাণ ১৫৩ কোটি মার্কিন ডলার। আরও কয়েক হাজার লেনদেনে ভারত–যোগ রয়েছে।
জানা যাচ্ছে, ১৯৯৯ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এই লেনদেনগুলো করা হয়েছিল।
সরকারি শীর্ষ আধিকারিকরা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন,ফিনসেন ফাইলে যেসব ব্যাঙ্ক বা ব্যক্তির নাম সন্দেহজনক তালিকায় এসেছে তা খতিয়ে দেখছে এ দেশের ফিনান্সিয়াল ইন্টালিজেন্স ইউনিট। প্রাথমিকভাবে যে ২৮ ব্যাঙ্ক ও ৪০৬ আর্থিক সংস্থার উল্লেখ রয়েছে তার ভিত্তিতে একটি তথ্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ আজ একটি বড় অকারের গ্রহাণু ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে
সন্দেহজনক যাবতীয় ফিনসেন রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলোকে পাঠানো হয়েছে।
এর পরবর্তী পর্যায়, ব্যাঙ্কগুলোর থেকে জানতে চাওয়া হবে যে যেসব লেনদেন সন্দেহজনক তালিকাভুক্ত তা কি ব্যাঙ্কগুলো পৃথকভাবে নজরদারির আওতায় রেখেছে? যদি না রেখে থাকে, তবে কেন নয়?
পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে ৪০৬ সন্দেহজনক লেনদেনের মধ্যে ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলোতে এসেছে ৪৮২,১৮ মিলিয়ান মার্কিন ডলার ও এখান থেকে বিদেশে গিয়েছে ৪০৬.২৭ মিলিয়ান মার্কিন ডলার।
নজরদারির আওতায় রয়েছে, ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি, আইসিআইসিআই এবং ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্ক। এখনও পর্যন্ত জানা গেছে, ভারতের ৪৪ ব্যাঙ্ক থেকে সন্দেহজনক একাধিক লেনদেন হয়েছে, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের তদন্তে ধরা পড়ছে।
যদিও বিশেষজ্ঞদের মত, ফিনসেন ফাইলস্ কোনও অপরাধের প্রমাণ নয়। শুধুই সতর্কতা মাত্র। অর্থাৎ নজরদারি সংস্থাকে শুধু এটুকুই জানান দেওয়া যে, তাদের অগোচরে চলছে অস্বাভাবিক কার্যকলাপ! আর্থিক দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা বুঝতে ফিনসেন নথি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় কোনও অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে এই নথি ব্যবহার করা যায় না, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584