উজ্জ্বল দত্ত, কলকাতাঃ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর রাগ করেই দল ছাড়লেন রায়দীঘির বিধায়ক ও অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। এটাকে রাগ না বলে অভিযোগ বলাই ভাল। দেবশ্রী রায় জানালেন, তৃণমূলের সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক রাখতে চান না তিনি। সোমবারই তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন দেবশ্রী।

তিনি জানিয়েছেন, তিনি তৃণমূলের সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করতে চান। তবে অভিমান থাকলেও মুখ্যমন্ত্রীর উপর সরাসরি কোনও ক্ষোভ নেই দেবশ্রীর। দেবশ্রীর বক্তব্য, ‘‘দিদি আসলে এখন আর নিজে কিছু করেন না। অন্যের কথায় চলেন। তাই পুরনোরা একে একে দল ছাড়ছে। দিদির এখন অনেক পরামর্শদাতা।“ কারা তাঁরা? অভিনেত্রী-বিধায়কের জবাব, ‘‘নাম বলব না। সবাই সব বুঝতে পারছে।“
তবে কি এবার কী করবেন? জবাবে দেবশ্রী বলেন, ‘‘টানা দশ বছর মানুষের জন্য কাজ করেছি। সেটা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। তবে অভিনয়ে ফিরতে চাই। ওটাই আমার আসল জগৎ। এখনও সম্মানের সঙ্গে ডাক পাই।”
তাঁর অভিমানের কারণ জানাতে গিয়ে দেবশ্রী বললেন, ‘‘দলের জন্য কী করিনি? দিদি (মুখ্যমন্ত্রী) আমাকে মঞ্চে নাচতে বলেছেন। নেচেছি। পঞ্চকন্যা অনুষ্ঠানে রানিকে (অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়) এনে দিতে বলেছেন। দিয়েছি। কিন্তু দল আমাকে কী দিয়েছে। দু’বার বিধায়ক হয়েছি। কিন্তু মন্ত্রিত্ব দূরের কথা, দল বা সরকারের কোনও কমিটিতেও জায়গা পাইনি।“
কিন্তু তিনি তো রাজ্য সরকারের অ্যানিম্যাল রিসোর্স কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান। এটা মেনে নিয়ে বলেন, “আমাকে কিন্তু কাজ করতে দেওয়া হয়নি। মাস ছ’য়েক আগে জানতে পারলাম আমাকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেটাও আমায় না জানিয়ে।“
আরও পড়ুনঃ সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে রাজনৈতিক ময়দানে দুই অভিনেত্রীর লড়াই
কেন তাঁকে সরানো হল? দেবশ্রীর জবাব, ‘‘সেটা আমি বলতে পারব না। আমি অনেক কাজ করতে চেয়েছিলাম। দিদিকে বলেছিলাম, আপনি তো এত কিছু করেন। গরিব মানুষকে ২ টাকা কেজি দরে চাল দেন। অনেক গরিব মানুষ, পথের কুকুরদের খাওয়ান। তাঁদের জন্যও ২ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া হোক। দিদি শোনেননি। তার পরে তো আমায় না জানিয়ে কমিটি থেকেই বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।“
তাহলে কি এবার তিনি বিজেপি-তে? দেবশ্রীর জবাব, ‘‘এখনও কিছু ভাবিনি। অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা। কয়েকটা অফারও পেয়েছি। তবে সম্মানের সঙ্গে কেউ ডাকলে ভেবে দেখব।“
তাঁর প্রথম নায়ক মিঠুন চক্রবর্তী! ‘নদী থেকে সাগরে’ ছবিতে এক সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। সেই মিঠুন এখন বিজেপি-তে। এবার কি তিনিও তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন? দেবশ্রী হাসতে হাসতে বললেন, ‘‘সে অনেক কাল আগের কথা। সম্প্রতি একটা শ্যুটিংয়ে মিঠুন’দার সঙ্গে দেখা হল। তার পরে পরেই উনি বিজেপি-তে যোগ দিলেন। আমার সঙ্গে অবশ্য মিঠুন’দার সঙ্গে রাজনীতি নিয়ে কোনও কথা হয়নি।“
আরও পড়ুনঃ বেহালা পূর্বের টিকিট না পেয়ে বিজেপি ত্যাগ শোভনের
শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবারই বিজেপি ছেড়েছেন। শোনা যায়, তাঁদের বাধাতেই দেবশ্রী একবার চেয়েও বিজেপি-তে যেতে পারেননি। এখন কি তাহলে তাঁর রাস্তা পরিষ্কার হয়ে গেল? এক মুহূর্ত সময় না দিয়ে দেবশ্রী বললেন, “ওঁদের নিয়ে আমি মোটেও ভাবছি না। ওঁরা এমন কিছু কেউকেটা নন যে, দেবশ্রী রায়কে সে সব মনে রাখতে হবে। কে কাকে ছাড়ল, ধরল তা নিয়ে আমার কোনও মাথাব্যথা নেই। আর আমি বিজেপি-তে যোগ দিতে চাই এমনও নয়। কেউ সম্মান দিয়ে ডাকলে ভেবে দেখব। না হলে নিজের জগৎ নিয়েই থাকব। সবার উপরে আমি একজন শিল্পী।“
অভিনেত্রী দেবশ্রীকে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়েছিল তৃণমূল। শোভন বলেন, তিনিই দেবশ্রীকে বিধায়ক করেছিলেন। সেই তৃণমূল ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে না? দেবশ্রী বলছেন, “একটুও না। আমায় শোভন বিধায়ক করেনি। দেবশ্রী না হয়ে কোনও ‘মালতি রায়’-কে জেতাতে পারলে বুঝতাম। আমি কাকে হারিয়েছিলাম? কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়কে। দলে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে পরিচায় ছিল আমার।“
তবে তৃণমূল যে তাঁকে অন্য পরিচয় দিয়েছে, সেটা কিছুটা হলেও ঠিক বলে মনে করেন দেবশ্রী। তাঁর কথায়, ‘‘সেটা কিছুটা হলেও ঠিক। আমাকে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি সেজন্য সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। কিন্তু অসম্মানও কম করেনি। রায়দিঘিতে প্রার্থী হব না নিজে থেকে বলেছিলাম। কিন্তু তারপরে দলের কেউ একটা ফোনও করেনি। আমি কেমন আছি, সেই খবরটাও কেউ নেয় না। অথচ আমাকে ফোন করে দিনের পর দিন হুমকি দেওয়া হচ্ছে।“
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584