রিচা দত্ত,মুর্শিদাবাদঃ

মর্গে মৃত ছেলের লাশ ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় আর ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে মা, দেশের সন্তান অধীরকে হারাতে না দেওয়ার প্রতিজ্ঞায়।তাকে ছাড়া যে বহরমপুরের খারাপ হবে তাই ভোট দিতেই হবে।শ্রীগুরু পাঠাশালার বুথে গিয়ে তিনি নিজের ভোট দিয়ে ছেলের মৃতদেহ সৎকার করেছেন।


মা রেনুকা মাড্ডি বহরমপুর গোরাবাজারের বাসিন্দা,তাঁর ছেলে রজত মাড্ডি বহরমপুর কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, নির্বাচনের দিনেই প্রণয় ঘটিত অবসাদেই আত্মঘাতী হয়েছে বলে অনুমান।বাড়িতে শোকের ছায়া,কিন্তু প্রিয় নেতা যদি তার একটি ভোটের জন্য হেরে যায় তাই মর্গে ছেলের লাশ রেখে ভোটের লাইনের দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন।

গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রেনুকা মাড্ডি মৃত ছেলেকে রেখে গেলেন ভোট দিতে।তিনি বলেন,ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করলাম। একটিও ভোট যেন কম না হয়।বহরমপুর শহরের একটি নাম অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
আরও পড়ুনঃ নির্বাচনী উত্তেজনাকে পাশ কাটিয়ে আগামীর নাগরিকদের সাথে অধীর
এই কথা শোনামাত্র ছুটলেন অধীর চৌধুরী পাশে দাঁড়ালেন পরিবারের।প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রেণুকা দেবী।নিজের কন্যা হারার যন্ত্রণার ব্যাথা ভাগ করে নেন সেই পরিবারের কাছে।
যখন একে একে তার পাশ থেকে তথাকথিত নেতারা সরে যাচ্ছে,রাজ্যের শাসক দল বার বার দাম্ভিক ঘোষণা করছে অধীরের পাশে কেউ নেই তখন মানুষের এই সমর্থনে আপ্লুত অধীর বলেন,পৃথিবীর কোন জনপ্রতিনিধি এইরকম ভাবে ভোট পেয়েছে কিনা জানিনা তবে এদের ভোটদান আমার কাছে ঈশ্বর প্রদত্ত উপহার।
স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মী রেনুকা মাড্ডি।তার স্বামী স্বামী সদানন্দ রেলের চালক।তাদের তিন সন্তানের,ছোট ছিল রজত।রেণুকা দেবী জানান,সকালে একবার গিয়েছিলাম ভোট দিতে,বাড়ি পাশেই বুথ লম্বা লাইন দেখে ফিরে আসি।
ফিরে এসেই দেখেন ছেলের ঘর ভেতর থেকে বন্ধ।তারপর জোর করে খোলার পর দেখে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে রজতের নিথর দেহ। তারপর দেখে দিশেহারা হয়ে যান। কিন্তু কাঁদতে কাঁদতে জানান ছেলের আত্মার শান্তির জন্য ভোট দিয়েছেন।তিনি চাননা একটা ভোটের জন্য অধীরদা হেরে যান।তাহলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন না। অধীর দা হেরে গেলে বহরমপুরের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।তাই ছেলের দেহ মর্গে রেখে ভোট দিতে গিয়েছিলাম।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584