নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ দিনাজপুরঃ
একদিকে যখন রাজ্যের জনগণের হাতের নাগালে সরকারি সুযোগ সুবিধে পৌঁছে দিতে “দুয়ারে সরকার” প্রকল্প পৌঁছে যাচ্ছে, তখন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের কুয়ারন এলাকার মুন্না মহন্ত নামে এক চাকরি না পাওয়া বেকার যুবক নিজের পরিবারের পেট ভরাতে নিজ উদ্যোগে চালানো হাঁস মুরগীর পোল্ট্রি ফার্মকে একটু বড় আকারে করবার জন্য সরকারি আর্থিক সুবিধে পাওয়ার জন্য সরকারি দফতরে হন্যে হয়ে ঘুরে ঘুরে বিমুখ হয়ে পড়েছেন।

তাই চাকরি না পেয়ে নিজ উদ্যোগে ব্যবসা চালিয়ে পরিবারের দিনগুজরান নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ওই মুন্না মহন্ত নামের যুবক।এমনিতেই লকডাউন চলার সময় টানা পাঁচ মাস পরিবহণ জনিত সমস্যায় ক্ষুদ্র এই ব্যবস্যায় আর্থিক ভাবে ক্ষতির সম্মুক্ষীণ হয়েছে তার পোল্ট্রি ফার্ম। তার উপর এই পোল্ট্রি ফার্মটিকে একটু চাংগা করে আর্থিক ভাবে লাভের মুখ দেখা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় এই ফার্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় সে ও তার পরিবার।

মুন্না মহন্ত জানিয়েছে,২০১৭ সালে মাত্র ২১ টি হাঁসের বাচ্চা নিয়ে তার পোল্ট্রি ফার্ম শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার ফার্মে ৯০০ টি বাচ্চা ও ২০০ টি ডিম পাড়া গোল্ডেন, ৩০০ হাইক্যাম্বেল ও ওয়েবকিং প্রজাতির হাঁস রয়েছে। বাচ্চা ও ডিম বিক্রি করে কোনরকমে পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়ে চলেছেন। তার এই কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তার মা, স্ত্রী ও বোন। তার অভিযোগ, ইচ্ছে থাকলেও তিনি এই ফার্মে বেশ কয়েকজনকে নিযুক্ত করে তাদের বেকারত্ব ঘোঁচাতে পারতেন। কিন্তু মাইনে দেবার অনিয়শ্চয়তার জন্য ইচ্ছে থাকলেও সে পথে হাঁটতে পারছেন না।

আরও পড়ুনঃ রাজ্য সরকারের সহায়তায় বরাবাজারে ঘর পেল মতিলাল
সেদিকে লক্ষ্য রেখে এলাকার বেশ কিছু বেকারকে কাজ পাইয়ে দেবার লক্ষ্য নিয়ে ফার্মটিকে বড় করে চালাবার জন্য বেশ কয়েকবার বিডিও অফিসে সরকারি সাহায্যের জন্য দরবার করলেও খালি হাতে তাকে ফিরতে হয়েছে। যার জন্য তার সেই ইচ্ছে ইচ্ছেই থেকে গেছে পূর্ণ করা আর সম্ভবপর করে তোলা যায়নি বলে তার আক্ষেপ। মুন্না মহন্ত আরো জানান, সরকার যখন বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে তখন এভাবে সরকারি সাহায্যের আশায় দফতরে গিয়ে ফিরে আসায় তার মত অনেকেই আজ হতাশ হয়ে নিজ উদ্যোগে কিছু করবার লড়াই চালানোর থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় বন্ধ করা হল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাজ
তার দাবি, “অবিলম্বে সরকারের উচিত এই সব আমাদের মত বেকার যুবকদের ক্ষুদ্র ব্যবসায় সরকারি সাহায্য প্রদানের ব্যবস্থা করে সেই সব স্বনিযুক্ত উদ্যোগীদের স্বপ্ন সফল করে তোলবার জন্য হাত বাড়িয়ে দেওয়া।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে এই ফার্ম থেকে ২০ হাজারের মত মাসিক রোজগার যেমন তিনি করছেন, তেমন সরকারি সাহায্য পেলে তা ৪০ হাজারের উপর রোজগার করতে পারবেন।
তেমনি সরকারি অর্থ ফেরত দিয়ে বেশ কয়েকজন বেকার যুবকের কাজ দিয়ে তাদের ও তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারতেন বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। এখন দেখার সরকার তার মত বেকার যুবকদের অভিযোগ শুনে তাদের সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দেয় কিনা।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584