শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ
৫ মাস পরে এল আনন্দপুরের এক তিন দিনের শিশুকন্যার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। আর সেই রিপোর্টই রীতিমতো তদন্তের গতি ঘুরিয়ে দিল, এমনটাই মত তদন্তকারীদের। রিপোর্ট অনুযায়ী, গলায় খুব ছোট ছোট নখ ও আঙুলের দাগ রয়েছে। কোনও ছোট শিশুই ওই শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে, এমনটাই পরিষ্কার ইঙ্গিত রয়েছে ওই রিপোর্টে।

পুলিশ সূত্রে খবর, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এই ঘটনাটি সকলের সামনে আসে। ঘটনার সময় আনন্দপুরের নোনাডাঙায় বাড়িটিতে ওই খুদের সঙ্গে ছিল তার মা ও দেড় বছরের দাদা। বাবা নিজের প্রয়োজনীয় কাজে বেরিয়েছিলেন। ঘরের সমস্ত কাজ সেরে শিশুটির মা ওই তিন দিনের শিশু কন্যাকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে দেখেন সে নড়াচড়া করছে না। তিনি আতঙ্কে কান্নাকাটি শুরু করেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তার দেহ ময়নাতদন্তে পাঠায় হাসপাতাল।
আরও পড়ুনঃ মদের দাম নিয়ে বচসায় বাঘাযতীন উড়ালপুলে খুন, ধৃত ১
সম্প্রতি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পুলিশের হাতে আসার পরে রীতিমত চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। ময়নাতদন্তে উল্লেখ করা আছে যে, শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে খুন করা হয়েছে। তার গলায় রয়েছে কয়েকটি নখের ও আঙুলের দাগ। সেগুলি প্রাপ্তবয়স্ক কারও হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই বিষয়ে শিশুটির মাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
আরও পড়ুনঃ গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কায় সিল গোবিন্দপুর রেল কলোনি
তিনি দাবি করেন, ওই সময় ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। তৃতীয় ব্যক্তি ঘরে আসার সম্ভাবনা ছিল না বললেই চলে। তাহলে কি শিশুটির দেড় বছরের দাদাই এই দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে? মৃত শিশুটির দাদাও মাত্র দেড় বছর বয়সী হওয়ায় তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব নয়। দেড় বছরের ওই শিশু এখনও স্পষ্টভাবে কথাই বলতে শেখেনি।
তবে ঘটনাক্রম অনুযায়ী, শিশুটির দাদা ছাড়া আর কারোর পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয় বলেই দাবি পুলিশের। বোনের প্রতি হিংসা থেকে ওই শিশু এই কাণ্ড ঘটিয়েছে কি না, না কি দূর্ঘটনাবশত এ ঘটনা ঘটেছে, তা মায়ের থেকে সেই তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে সমস্ত তথ্য প্রমাণ মিলিয়ে শিশুটির অপরাধ কোনও ভাবে প্রমাণিত হলে তাকে আইনত ভাবে কোনও শাস্তি দেওয়া সম্ভব নয় বলেও দাবি পুলিশের।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584