শুভশ্রী মৈত্র, ওয়েব ডেস্কঃ
বিজেপি বা আরএসএস- এ যোগ না দিলে জামিন মিলবে না থাকতে হবে জেলেই, প্রস্তাব দিয়েছিল এনআইএ। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ অখিল গগৈ-এর। অখিল গগৈ-এর অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

অসমের নির্বাচন শুরু হতে বাকি আছে আর মাত্র কয়েকটা দিন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিজেপির ক্ষমতায় ফেরা খুব সহজ হবে না এইবার। তার মধ্যেই ‘কৃষক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ’-এর নেতা অখিল গগৈ এর এমন অভিযোগ।
“বিজেপি অথবা আরএসএসে যোগ দিলে জামিন মিলবে। নাহলে পচে মরতে হবে জেলে।” কার্যত এনআইএ-এর পক্ষ থেকে এমনই প্রস্তাব নাকি দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। অসমের বিধানসভা নির্বাচনে এবারের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব অখিল গগৈ অভিযোগ করেছেন এনআইএর বিরুদ্ধে।
২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় ‘কৃষক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদে’র নেতা অখিলকে। তখন CAA বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল আসাম। আইনশৃঙ্খলার ক্রমাগত অবনতি হওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জোরহাট থেকে অখিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জেলে তাঁর উপরে অকথ্য শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হয় বলে অভিযোগ এনেছেন তিনি। তাঁর তৈরি নতুন রাজনৈতিক দল রাইজোর দল একটি চিঠি প্রকাশ করেছে। সেই চিঠিতেই এমন অভিযোগ করতে দেখা গিয়েছে অখিলকে।
আরও পড়ুনঃ কলকাতার কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে হিন্দি ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ ঘিরে তুমুল বিতর্ক
আসামের নাগরিক সমাজ দীর্ঘ সময় ধরে গগৈয়ের মুক্তির দাবি জানিয়ে এলেও এখনও জেলবন্দি রয়েছেন তিনি। তবে অখিল জেলে থাকলেও তাঁর দল কিন্তু সক্রিয়। অসম বিধানসভা নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে রাইজোর দল। আরেক আঞ্চলিক দল এজেপি-র সঙ্গে জোট বেঁধেছে তারা।
এই পরিস্থিতিতে অখিল একটি চিঠি লিখেছেন জেল থেকে। সেই চিঠিতে এনআইএ’র বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন তিনি। চিঠিতে অখিলের দাবি, ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর আদালতের অনুমতি ছাড়াই তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে এনআইএ-এর সদর দপ্তরে প্রবল অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে।
আরও পড়ুনঃ আসামে প্রকাশিত ‘সংকল্প পত্রে’ নেই সিএএ-এর উল্লেখ
চিঠিতে অখিল লিখেছেন, ”এনআইএ-এর সদর দপ্তরে এক নম্বর লকআপে আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল। একটা মাত্র নোংরা কম্বল দেওয়া হয়েছিল। ৩-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মেঝেতে ঘুমতে হয়েছিল। আমি এই অপমানজনক আচরণের প্রতিবাদ করার পরে ওরা অন্য একটা প্রস্তাব দিল। আমাকে জানানো হয়েছিল বিজেপিতে যোগ দিলে আমি বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে পারব। মন্ত্রীও হতে পারব।”
চিঠিতে অখিল লিখেছেন, তিনি প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অসমের মুখ্যমন্ত্রী ও আরেক প্রভাবশালী মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে বলা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই প্রস্তাবেও রাজি হননি অখিল। এরপরই তাঁকে এনআইএ-এর তরফে হুমকি দিয়ে বলা হয় যে, তাদের প্রস্তাব না মানলে অন্তত ১০ বছরের জন্য জেলেই থাকতে হবে তাঁকে। নিজের সেই পরিস্থিতির কথা জানিয়ে অখিলের দাবি, ”প্রবল শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের মুখে পড়ে আমি সেই রাতে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলাম।”
অখিলের যাবতীয় অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। এদিকে আর কয়েকদিনে অসমে তিন দফার ভোট শুরু হতে চলেছে। নির্বাচন শুরুর মুখে এবার সামনে এল অখিলের এই চিঠি। ভোট বাক্সে এই চিঠি কতটা প্রভাব ফেলে এখন সেটাই দেখার।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584