অ্যাম্বুলেন্সের স্ট্রেচার ভেঙে অক্সিজেনের নল ছিঁড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের

0
73

শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ

করোনা মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যতই গুণগান করুন না কেন, একের পর এক ঘটনায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাই যেন প্রকট হয়ে উঠছে। করোনা আক্রান্ত রোগীর হাসপাতালে ঘুরে বেড না পাওয়ার অভিযোগ তো ছিলই, এবার অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের গাফিলতিতে স্ট্রেচার ভেঙে অক্সিজেনের নল ছিঁড়ে মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হল গড়িয়ার সুভাষ পল্লীর বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সী সনৎ দে-র। এমনই অভিযোগ তুলেছে তাঁর ভাইপো ঋত্বিক দে। তার আগে তিনি ৭ দিন ধরে হাসপাতালে বেড না পাওয়ার বিষয়টিও জানিয়েছেন।

Suicide | newsfront.co
প্রতীকী চিত্র

ঋত্বিকবাবু জানান, গত সোমবার ১৩ জুলাই করোনা ধরা পড়ে সনৎবাবুর। যোগাযোগ করা হয় স্বাস্থ্য ভবনে। স্বাস্থ্য ভবন জানায়, কোন হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, তা কিছুক্ষণের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারপর তিন দিন কেটে গেলেও স্বাস্থ্য ভবনের তরফে ফোন আর আসেনি। এর মধ্যেই আচমকা সেরিব্রাল অ্যাটাক হলে সনৎবাবুর অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

বাধ্য হয়ে বাড়িতেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এনে বৃদ্ধের চিকিৎসা শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। যদিও তারপরেও বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। প্রথম সাত দিন ধরে হাসপাতালে বেড খুঁজলেও বেড পাননি। এরপর ওই বৃদ্ধকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানোর জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা হয়।

আরও পড়ুনঃ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোমেন মিত্র

পরিবারের অভিযোগ, করোনা রোগী জানতে পেরে প্রথমে অ্যাম্বুলেন্সকর্মীরা রোগীকে ছুঁতে চাননি। ফের স্বাস্থ্যভবনে যোগাযোগ করা হলে অ্যাম্বুলেন্সের কর্মীরা কোনওরকমে স্ট্রেচারে শুইয়ে তাকে অ্যাম্বুল্যান্সে ওঠান। গাড়ি এসে পৌঁছয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। কাকাকে নিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছনোর পর তিনি কাগজপত্র তৈরির জন্য ভিতরে যান। ফিরে এসে দেখেন তাঁর কাকা অ্যাম্বুলেন্সের ভিতর অক্সিজেনের নল ছিঁড়ে, স্ট্রেচার ভেঙে পড়ে রয়েছেন। আর অ্যাম্বুলেন্সের কর্মীরা বাইরে বসে হাঁফাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ বিধায়ক মৃত্যুতে সিবিআই তদন্তের আর্জি খারিজ হাইকোর্টে

অর্থাৎ অ্যাম্বুল্যান্স থেকে রোগী নামাতে গিয়েই বিপত্তি ঘটেছে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান, ওই দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু হয়েছে সনৎবাবুর। ঋত্বিকবাবুর অভিযোগ, এত রোগী দিন রাত নিয়ে যাচ্ছেন, অথচ অ্যাম্বুলেন্সের কর্মীদের কোনও প্রশিক্ষণই নেই। সেই সঙ্গে স্ট্রেচারও ভাঙা ছিল, সেই তথ্যও তাদের বলা হয়নি। আগে থেকে জানা থাকলে তার কাকার এরকম মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটত না। যদিও এই বিষয়ে স্বাস্থ্য দফতরের কেউ কোনও কথা বলতে চাননি। তবে এই ঘটনা রাজ্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা যেন আবার প্রকাশ করে দিল।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here