নিজস্ব সংবাদদাতা,আরামবাগঃ
একুশে জুলাই শহীদ দিবস। তাই সেই সভায় যোগ দেবে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। সারা রাজ্য জুড়েই শহীদ সভায় যাওয়ার জন্য বাস বুক করা হয়েছে। তবু বিভিন্ন জায়গায় বুক করা বাস আটকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ বাস মালিকদের। ১৭ জুলাই সন্ধ্যা থেকেই বাসের দখল নিতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা রাস্তায় নামল । সেই আতঙ্কেই বাস মালিকরা আর বাস বের করছেন না বলে খবর। একুশে জুলাই হতে এখনো তিন দিন বাকি। সাধারণ যাত্রীরা সহ দুর্ভোগে পরীক্ষার্থীরাও। এর দায় কার? মাঝ রাস্তায় যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাস যাত্রীদের। নেতাদের সাথে বচসা যাত্রীদের। বাসে বেঁধে দেওয়া হলো তৃনমুলের পতাকা।
রাস্তায় বাসের আকাল শুরু হয়ে গেল বুধবার থেকেই। আগামী ২১ জুলাই শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের ধর্মতলায় সভার জন্য তিন দিন আগে থেকেই রাস্তা থেকে বাস তুলে নেওয়া হচ্ছে। রীতিমত যাত্রী দের কোন অনুরোধ না শুনেই বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে আটকে দেওয়া হচ্ছে বাস। বুধবার সকাল থেকেই আরামবাগের বেশ কয়েকটি এলাকায় এই দৃশ্য দেখা গেল।ফলে সকাল থেকে বিভিন্ন রুটের বাস পাওয়া দুস্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে সমস্যায় পড়েছেন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী।

সমস্যায় পড়েছেন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে দরকারী কর্মচারী সকলেই। রুগীর আত্মীয় স্বজনেরাও রাস্তায় আটকে পড়েন। দূরদূরান্ত থেকে আসা নিত্যযাত্রীরা রাস্তায় আটকে নাজেহালের শিকার হচ্ছেন। সব চেয়ে বেশি বাস আটকানো চলছে গোঘাটে। এখানকার তৃণমূল নেতারা সরাসরি রাস্তায় নেমে নিজেরাই যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছেন।এত আগে থেকে রাস্তা থেকে বাস তুলে নেওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আটকে যাত্রীরা।তাদের বক্তব্য,আগে থেকে নোটিশ দিয়ে বাস তোলা দরকার ছিল।এই ভাবে রাস্তা থেকে বাস তুলে নেওয়ায় সরকারী কর্মচারীরা যথা সময়ে হাজির হতে না পারলে সেই কৈফিয়ত কে দেবে।কেউ কথা শুনবে না। তাহলে এই দিন গুলি ছুটি ঘোষনা করুক রাজ্য সরকার।
যদিও এলাকার তৃণমূল নেতারা স্বীকার করে নিয়েছে।তাদের বক্তব্য, তাদের কিছু করার নেই।মেনে নিতে হবে।আমরা ক্ষমা প্রার্থী।অন্যদিকে আজ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথমবর্ষের শারীরশিক্ষা পরীক্ষা । রাস্তায় বাস না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক্টারে উঠছে কন্যাশ্রী,যুবশ্রী পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা ।
বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া এক যাত্রী দীপঙ্কর ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন,”একেই বাদুড়ঝোলা হয়ে এলাম তার ওপর নামিয়ে দেওয়া হলো গাড়ি থেকে। দিদির শনিবারে মিটিং এখন থেকেই গাড়ির দখল শুরু হয়েছে। এবার আমরা চিন্তা করছি দিদিকে কিভাবে মোদির আসনে বসানো যায়।”

আরো এক বাস যাত্রী ঘাটাল থেকে আসা উমা মোদক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা অন্যায় আবদার। বাচ্চা নিয়ে মানুষগুলো যাবে কি করে? কোথায় যাবে? অর্ধেক রাস্তায় বাস গুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। যার নেতৃত্বে বাস আটকানো হয়, সেই তৃণমূল কর্মী সত্যজিৎ রায় কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “১৩জন শহীদ কে শ্রদ্ধা জানাতে ধর্মতলা যাওয়া হবে। আমাদের বুক করা গাড়িটি পাঁশকুড়ায় আটকে দেয়া হয়েছে। তাই আমরা যাত্রীদের কোন অসুবিধা না করে তাদের অন্য বাসে তুলে দিয়েছি এবং বাসের কন্টাকটার কে ভাড়া ফেরত দিতে বলেছি।”
গোঘাট -১ এর তৃনমুল ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জন পাল বলেন, হয়তো এটা অমানবিক কিন্তু একুশে জুলাই যে পর্যায়ে গেছে সেটা একটা মহোৎসবের অঙ্গ। যে ভুল ত্রুটি হচ্ছে তার দায় আমাদেরই, ব্লক সভাপতি হিসাবে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আগাম জানানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো বন্ধ করে কিছু করতে পারি না। একুশে জুলাই থেকেই উঠে আসা, এখানে কিছু করার নেই। কোন মন্ত্রীরও কিছু করার নেই, প্রশাসনও কিছু করতে পারবে না। তবে আমরা দেখছি , যাদেরকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদেরকে কিভাবে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানো যায়।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584