পৌষ মেলা লোকাল ফর ভোকালের আক্ষরিক রূপ- বিশ্বভারতীর শতবর্ষে জানালেন আচার্য মোদী

0
63

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতাঃ

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ জুড়ে আজ শুধুই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ‘হে বিধাতা দাও দাও দাও মোদের গৌরব দাও’ দিয়ে শুরু, আর ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল’ দিয়ে শেষ। ‘যদি কেউ তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’ কিংবা ‘ওরে নতুন যুগের ভোরে’, আবার কখনও ‘চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।

Narendra Modi | newsfront.co
ফাইল চিত্র

বিশ্বভারতীর শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এভাবেই রবি-স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মোদী বলেন, ‘‘উনি আমাদের গ্রাম, কৃষি, বাণিজ্যে আত্মনির্ভর দেখতে চেয়েছিলেন। নতুন ভারত নির্মাণে বিশ্বভারতীর অবদান রয়েছে।” এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গুজরাত যোগ নিয়েও এদিন প্রধানমন্ত্রী, যা রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

কবিগুরুর গুজরাত যোগ প্রসঙ্গে এদিন মোদী বললেন, গুরুদেবের বড় ভাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে ছিলেন, তখন তাঁর নিয়োগ গুজরাতের আহমেদাবাদে হয়েছিল। সেই সূত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রায়শই গুজরাত যেতেন এবং বেশ দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন সেখানে। আহমেদাবাদে থাকাকালীন রবীন্দ্রনাথ ‘বন্দি ও অমর ’ ও ‘নীরব রজনী দেখো’ লেখেন।

আরও পড়ুনঃ লকডাউনে পরোপকারী সাংসদ তালিকায় রাহুল-মহুয়া

ক্ষুধিত পাষাণের একটা অংশ ও আহমেদাবাদেই লিখেছিলেন তিনি। সত্যেন্দ্রনাথের স্ত্রী জ্ঞানদানন্দিনী দেবী আহমেদাবাদে থাকাকালীন দেখেন, স্থানীয় মহিলারা শাড়ির আঁচল ডানদিকে রাখতেন। এর ফলে কাজ করতে তাঁদের সমস্যা হত। বাঁ দিকে শাড়ির আঁচলের প্রচলন তিনিই করেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‘বিশ্বভারতীর শতবর্ষ উদযাপন প্রতিটি ভারতবাসীর কাছে গর্বের বিষয়। এটা একটি আরাধ্য স্থান। এই প্রতিষ্ঠান দেশকে শক্তি জুগিয়েছে।” মোদী আরও বলেন, নতুন ভারত নির্মাণে বিশ্বভারতীর প্রভূত অবদান রয়েছে। সমগ্র বিশ্বভারতী গুরুদেবের চিন্তন, দর্শন জুড়ে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বললেন, প্রকৃতির সঙ্গে মিলে অধ্যয়ন ও জীবনচর্যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ বিশ্বভারতী। স্বাধীনতা আন্দোলনেও এই প্রতিষ্ঠানের বিশেষ অবদান রয়েছে। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিয়েছে বিশ্বভারতী।

পৌষমেলা প্রসঙ্গে মোদীর বক্তব্য, করোনা অতিমারীর কারণে এবার পৌষমেলা হচ্ছে না এখানে। পৌষমেলা কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভোকাল ফর লোকাল’ স্লোগানের আক্ষরিক রূপ। পৌষমেলায় আসা শিল্পীদের তৈরি পণ্য অনলাইনে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে সিংঘু সীমান্তের পাঁচ সদস্যের সাংসদ দল

এদিন প্রধানমন্ত্রীর মুখে ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকী, বীণা দাস, প্রীতিলতা ওয়েদ্দেদারের নামও শোনা গিয়েছে। মোদী আরও বলেন যে, ভারতের আত্মা, আত্মসম্মান, আত্মনির্ভরতা একে অপরের সঙ্গে সংম্পৃক্ত। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালিদের অবদান বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। এঁরা সকলে হাসতে হাসতে দেশের আত্মসম্মান বজায় রাখতে নিজেদের জীবন দিয়েছেন।

কার্যত, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে আগে প্রধানমন্ত্রীর মুখে বারবার ফিরে এসেছে বিশ্বকবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাঙালির গৌরব। লকডাউন পর্বে মোদীর সাদা দাড়ি দেখে অনেকেই বলেছেন, তাঁকে নাকি কতকটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতোই দেখতে লাগছিলো, উদ্দেশ্য বাংলার ভোট কিনা সে বিষয়েও কটাক্ষ করেছেন অনেকেই। অন্যদিকে, ‘মন কি বাত’-এ খেলনা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনার কথাও তুলে ধরেছিলেন মোদী।

কেন্দ্রের নয়া শিক্ষানীতিও নাকি রবীন্দ্র ভাবনায় অনুপ্রাণিত, এমনটাই বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বারবার মোদীর রবি-স্মরণ দেখে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি বাংলায় বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শরণাপন্ন হয়েছেন মোদী! একুশের নির্বাচনের আগে মোদীর এহেন রবি-স্মরণ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের অনেকে।

সম্প্রতি বোলপুরে পা রেখেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বোলপুরে শাহের ছবির নীচে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি দিয়ে হোর্ডিং ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আবার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মস্থান বিশ্বভারতী বলে বঙ্গ বিজেপির টুইট ঘিরেও বিতর্ক হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বভারতীর শতবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে মোদীর বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বভারতীর শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে এদিন টুইট করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here