নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতাঃ

প্রায় প্রতিদিন হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন অমিত শাহ, জে পি নাড্ডারা, যে ২০০র বেশি আসন জিতে বাংলায় সরকার গড়বে বিজেপি। কিন্তু সেই হুঙ্কার আসলে ফাঁকা বুলি ছাড়া কিছুই নয়, টুইট বার্তায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে এমনটাই দাবি করলেন রাজ্যে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর। গেরুয়া শিবিরের বাংলা বিজয়ের আস্ফালনকে কেন্দ্রীয় শাসক দলের সহযোগী সংবাদ মাধ্যমের একাংশের সাজানো গল্প বলেও আখ্যা দিলেন তিনি। তৃণমূলের নির্বাচনী স্ট্রাটেজিস্ট টুইট করে জানিয়েছেন, বাস্তবে বাংলায় ‘ডবল ডিজিট’ পার করা বিজেপির পক্ষে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হবে।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলে বিজেপি সংসদ সৌমিত্র জায়া সুজাতা
For all the hype AMPLIFIED by a section of supportive media, in reality BJP will struggle to CROSS DOUBLE DIGITS in #WestBengal
PS: Please save this tweet and if BJP does any better I must quit this space!
— Prashant Kishor (@PrashantKishor) December 21, 2020
এদিন নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে প্রশান্ত কিশোর লিখেছেন, “সংবাদ মাধ্যমের একাংশের আস্ফালন সত্ত্বেও বাস্তবে পশ্চিমবঙ্গে ডবল ডিজিট অতিক্রম করতে বিজেপিকে যথেষ্ট কষ্ট করতে হবে।” এরপরই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। ওই টুইটে তিনি আরও লিখেছেন যে, “এই টুইটটা সংরক্ষণ করে রাখুন, বিজেপি এর চেয়ে ভাল ফল করলে এই কাজ আমি ছেড়ে দেব।”
আরও পড়ুনঃ দাদার বিজেপিতে যোগদান করার পরেই ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীকে হেনস্থা হলদিয়ায়
भाजपा की बंगाल में जो सुनामी चल रही हैं, सरकार बनने के बाद इस देश को एक चुनाव रणनीतिकार खोना पड़ेगा।
— Kailash Vijayvargiya (@KailashOnline) December 21, 2020
বিজেপির পাখির চোখ এখন বাংলা জয়। প্রতিমাসেই রাজ্যে আসছেন অমিত শাহ, নাড্ডারা। বাংলার উত্তর থেকে দক্ষিণ- বেছে বেছে সুকৌশলে সভা করছেন তাঁরা। ভোটের আগে বঙ্গ বিজেপির সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে ভিন রাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেও ভার দিয়েছেন শাহ। লোকসভা ধরে ধরে দায়িত্বে রয়েছেন পাঁচ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও দুই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী।
পাশাপাশি, বাংলার রাজনীতিতে দল বদলের পালা শুরু হয়েছে। গত শনিবারই মেদিনীপুরে অমিত শাহের জনসভায় জোড়া-ফুল ছেড়ে পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন ইনিংসের শুরুতেই ‘ভাইপো হঠাও’ এর ডাক দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে চন্দ্রকোনা রোডে তৃণমূলের বিক্ষোভ
তৃণমূলের মোট ৭ এবং বাং-কংগ্রেসের ৩ বিধায়ক যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। তালিকায় রয়েছেন মমতার দলের এক সাংসদ ও প্রাক্তন সাংসদও। এর আগেই দিল্লিতে গিয়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন কোচবিহারের তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী। এতে দেদার উৎসাহিত গেরুয়া ব্রিগেড। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি,ডিসেম্বর-জানুয়ারিতেই আরও হেভিওয়েট নেতাদের দলবদলের সম্ভাবনা প্রবল । এমনকী ভোটের আগেই তৃণমূল দলটাই শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করছেন পদ্ম নেতৃত্বের কেউ কেউ।
লোকসভায় ব্যাপক সাফল্য এবং পাশাপাশি বিধানসভার আগে দলের পক্ষে হাওয়া। এই দুই মিলিয়ে বাংলায় বিজেপির জয় এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা বলে ধারণা মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষদের। আর এই ধারণাকে ভিত্তি করেই ২০০-র বেশি আসন জয়ের হিসেব কষছেন শাহ-নাড্ডারা।
আরও পড়ুনঃ জুতোর মালা-কুশপুত্তলিকা দাহ মেদিনীপুর জুড়ে ক্ষোভ শুভেন্দুকে ঘিরে
দলত্যাগী তৃণমূলের অধিকাংশই টিম-পিকের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট। তৃণমূলের নেতৃত্বস্থানীয় বা বিধায়ক-সাংসদদের কেউপ্রকাশ্যে, কেউ আড়ালে প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে উগরে দিচ্ছেন ক্ষোভ। নেতৃত্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও মানতে নারাজ শাসক দলের অনেকে। আবার অভিষেকেরই ঘনিষ্ঠ ভোট স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোর। রাজ্যের শাসক দলের এমন ‘কঠিন সময়ে’ দাঁড়িয়েও বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করলেন তৃণমূলে ভোট কৌশলী। ভোটের আগে যার রাজনৈতিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
অন্যদিকে আবার পিকের চ্যালেঞ্জকে কটাক্ষ করেছেন বাংলায় বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। টুইটে তিনি লিখেছেন, “বাংলায় বিজেপির সুনামি চলছে। সরকার গঠনের পর দেশ এক নির্বাচনী রণনীতিকারকে হারাতে চলেছে।”
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584