ওয়েব ডেস্ক, প্রয়াগরাজঃ
স্নাতক স্তরে পাঠরত এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৬ সেপ্টেম্বর, বুধবার এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল প্রয়াগরাজ পুলিশ। একই অভিযোগে অভিযুক্ত এক ডাক্তারও। পুলিশ ওই চিকিত্সকের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ডাক্তার অনিল দ্বিবেদীর সোহবতিয়া বাগ অঞ্চলে একটি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। সেখানেই তিনি প্র্যাকটিস করেন।

প্রয়াগরাজে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করে ওই ছাত্রী। গতকাল, বুধবার তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। পড়ুয়ার এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিজেপি নেতা শ্যামপ্রকাশ দ্বিবেদী ও ডাক্তার অনিল দ্বিবেদীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে কর্নেলগঞ্জ থানার পুলিশ।
প্রয়াগরাজের ওই থানাতেই বুধবার নির্যাতিতা ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। একই সঙ্গে ধর্ষিতার মেডিক্যাল টেস্ট করতে পাঠানো হয়েছে। দু-দিনের মধ্যেই সেই রিপোর্ট হাতে পেয়ে যাবে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ করোনা আক্রান্ত নিতিন গড়করি
অভিযোগে ওই ছাত্রী জানান, প্রতাপগড়ে একটি জমি বিক্রি করার অছিলায় অভিযুক্তরা প্রায়ই তাঁর সঙ্গে দেখা করতেন। ছাত্রীর বয়ান অনুযায়ী, দু-জনে জোর করে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। ঘটনার কথা কাউকে জানালে, তাঁর সঙ্গেই পরিবারের সকলকে খুন করার ভয় দেখায় অভিযুক্তরা।
নির্যাতিতা এফআইআরে উল্লেখ করেন, প্রথম বার একটি হোটেলে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। গত মার্চে অভিযুক্তরা তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়ে, ফের একবার ধর্ষণ করেন।
আরও পড়ুনঃ দিল্লি দাঙ্গার তদন্ত ত্রুটিপূর্ণ- পুলিশ কমিশনারকে চিঠি অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসারদের
যদিও, বিজেপি নেতা শ্যামপ্রকাশ দ্বিবেদীর বক্তব্য, তিনি নির্দোষ। এমন কোনও ঘটনার সঙ্গে তিনি যুক্ত নন। তাঁর ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করতেই মিথ্যে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। ছাত্রীর আনা অভিযোগকে তিনি ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিজেপি নেতার দাবি, তিনি ধর্মীয় রূপান্তরে বাধা দিয়েছেন বলেই মিথ্যে অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে। অভিযুক্ত ‘সংগম’ শহরের অন্যতম প্রভাবশালী বিজেপি নেতা। বিজেপি যুব মোর্চার কাশীর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাঁর বাবা রামকৃষ্ণ দ্বিবেদী বিজেপির প্রয়াগরাজ জেলা সভাপতি।
২০১৯ সালে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও কেন এতদিন বাদে থানায় অভিযোগ হল, সেই বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। পুলিশ সুপার (শহর) দীনেশ কুমার সিং জানান, খুব শীঘ্রই একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করা হবে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে পুলিশকর্তা জানান, প্রাথমিক তদন্ত শেষ হওয়ার পর, তবেই গ্রেফতারি। তার আগে নয়।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584