সিমা পুরকাইত, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ
এদের কারও পা নেই কারওবা হাত। কেউ অন্যমনস্কা কেউ আবার বিকলাঙ্গ। হ্যাঁ এরা সকলেই প্রতিবন্ধী।অবহেলিত, বঞ্চিত। কারন, অভাব এদের নিত্যসঙ্গী। মানবিক প্রকল্পের মাধ্যমে এদের পাশে রাজ্য সরকার দাঁড়ালেও সার্বিকভাবে এরা আজও বঞ্চিত, লাঞ্ছিত।

গ্রামীণ উৎসব ঘিরে প্রতিবন্ধী শিবিরের আয়োজন করল গ্রামবাসী-সহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।বিশালাক্ষ্মী মায়ের পূজা ঘিরে এই শিবির। পিছিয়ে পরা সুন্দরবনের প্রতিবন্ধীদের কথা মাথায় রেখে এই অভিনব উদ্যোগ নিল জন্মেনজয় স্মৃতি সংঘ এবং খরদহ মনন ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি।

আরও পড়ুনঃ কৃষক বন্ধু প্রকল্পে চেক প্রদান
সংগঠনের তরফ থেকে সচেতনতা ক্যাম্প করা হয় লক্ষ্মীপুর বিশালাক্ষ্মী মন্দির প্রাঙ্গনে। লক্ষ্মীপুর উৎসব কমিটির পরিচালনায়, লক্ষ্মীপুর সুপ্রভাত সংঘের ব্যবস্থাপনায় বহু প্রতিবন্ধী আসেন শিবিরে।

৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশালাক্ষী মন্দিরের গ্রামীণ উৎসব। উৎসব কমিটির সম্পাদক চিত্তরঞ্জন দলুই, সভাপতি প্রফুল্ল কুমার ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একাধিক গ্রামের প্রবীন নবীনদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মা বিশালাক্ষ্মী পূজিত হন।

প্রতিবছরের মতো এবছরও রয়েছে ভক্ত সমাগমে শতাধিক বছরের পুরনো মন্দিরের পূজা। পূর্ব মেদিনীপুর নিবাসী ‘লক্ষীনারায়ন হাজরা’ তৎকালীন জমিদার এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা।
আরও পড়ুনঃ প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সঙ্গীত শিক্ষা দিচ্ছেন শীতলকুচির কার্ত্তিক
এরপর গ্রামবাসীদের ভক্তি বিশ্বাসে বিশালাক্ষী মা পূজিত হয়ে আসছেন। পূজা ঘিরে রয়েছে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রয়েছে মায়ের ভোগ। এই মন্দিরের পূজা ঘিরে এক দিনব্যাপী প্রতিবন্ধীদের চিহ্নিতকরণ শুরু হয়।

মানসিক প্রতিবন্ধী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী যারা। তাদেরকে দেওয়া হবে ট্রাই সাইকেল, হুইলচেয়ার, কানের মেশিন এবং ট্রেচার। শুধু তাই নয় যারা অভাব-অনটনে জীবনযাপন করে তাদের জন্য সুব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলি।

খড়দহ মনন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক লিপিকা সেন চ্যাটার্জি, জন্মেঞ্জয় স্মৃতি সংঘ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সম্পাদক নীলকান্ত জানার এই অভিনব প্রয়াসে খুশি সুন্দরবনবাসী। খেটে খাওয়া মানুষের চাহিদা বলতে কিছু পাওয়া।
প্রতিবন্ধীর রয়েছে অভাব রয়েছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা কিছু জনের মিলেও অনেকে বঞ্চিত। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো এগিয়ে এসছেন প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে। আগামী দিনের লক্ষ্য সুন্দরবনের প্রতিবন্ধীদের স্বনির্ভর করা।
সরকারি মতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা পাথরপ্রতিমা ব্লকের প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের বাস। পনেরোটি গ্রাম পঞ্চায়েতের সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের বাস। মধ্যে প্রায় দেড় হাজার প্রতিবন্ধী। রাজ্যর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর মানবিক প্রকল্পের মধ্য দিয়ে প্রতিবন্ধীদের নানান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছেন।
মানবিক প্রকল্পে বিগত সরকারের আমলে পাথরপ্রতিমা ব্লকের প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৩০০ জন। আজ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০০ জন। মানবিক প্রকল্পের মধ্য দিয়ে প্রতিবন্ধীদের পাশে যেমন দাঁড়িয়েছে সরকার ঠিক তেমনি দাঁড়িয়েছে বেসরকারি সংগঠনগুলি।
আগামী কয়েক মাসের মধ্য পরিষেবা দেওয়ার প্রত্যাশা পাথর প্রতিমা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। উদ্দেশ্য একটাই সুন্দরবনের পিছিয়ে পড়া অবহেলিত অভাব-অনটনের সাথে লড়াই করা প্রতিবন্ধীদের স্বনির্ভর করে তোলা। সুস্থ ভাবে বাঁচিয়ে রাখা।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584