দীর্ঘ টালবাহানার পর বিজেপির মিছিলে দেখা মিলল শোভন-বৈশাখী জুটির

0
66

 

উজ্জ্বল দত্ত, কলকাতাঃ

বিজেপির জেলা ও রাজ্য সংগঠন শোভন-বৈশাখীর রোড-শোতে লোক এনে মান রক্ষা করল। সোমবার অনেক টালবাহানার পর তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদান করেও বিজেপির হয়ে নামতে দ্বিধা ছিল শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। সঙ্গে তাঁর বান্ধবীরও।

sovan and baisakhi | newsfront.co
নিজস্ব চিত্র

এর আগের সোমবার বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মিছিলে পা মেলালেও শোভন-বৈশাখী সেদিন কাউকে কোনো কথা না বলে নিজের প্রতিষ্ঠা মিছিলে আসেননি। সোমবার তাই নিজের আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে বান্ধবী বৈশাখীকে নিয়ে হুড খোলা গাড়িতে বের হলে, তবেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বলে বিজেপি সূত্রের খবর। চারটেতে মিছিল শুরু হবার কথা থাকলেও ঘড়িতে চারটে চব্বিশ হলেও ফোর্থ লেগেন্ড আবাসনের গেট বন্ধ থাকে।বাইরে কয়েক হাজার বিজেপির সমর্থকরা তখন উৎকণ্ঠায় প্রহর গুণছে।

bjp's rally | newsfront.co
শোভন – বৈশাখীর রোড – শো। নিজস্ব চিত্র

মুখে তাদের ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। এদিন দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর, ঢাকুরিয়া, টালিগঞ্জ,পার্ক সার্কাস, বানতলা, গড়িয়া, গ্রাম, এমন কী উত্তর কলকাতা থেকেও সমর্থকরা এই রোড-শোতে পা মেলালেন। তবে বেহালা শোভনের একশো ব্রিজ নম্বর ওয়ার্ড থেকেও তিনটে ছোট গাড়ি করে লোক আসে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা বাটা, নুঙ্গি ও ভাঙন থেকে শোভন ঘনিষ্ঠরা ভিড় জমান মিছিলে। এই মিছিলে যত ছিল বিজেপি জিন্দাবাদ, জয় শ্রীরাম স্লোগান, তার তুলনায় শোভন চট্টোপাধ্যায় জিন্দাবাদ শোনা যায়নি বললেই চলে।

আরও পড়ুনঃ শোভন-বৈশাখীর প্রায়শ্চিত্ত মিছিলের পাল্টা বিজেপি যুব মোর্চার পদযাত্রা

বেশির ভাগ সমর্থকরা বলেছেন,’শোভনদা স্বাগতম।’ হুডখোলা গাড়িতে বসেই শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেছেন,’ বিজেপির লক্ষ্য দক্ষিণ চব্বিশ, উত্তর পরগনা, কলকাতার আসন। আমি বলছি কলকাতার সব কটি আসনেই জিতব। দায়িত্ব নিয়ে বলছি তার আগে যদি কলকাতা পুরনিগমের নির্বাচন হয়, এই লালবাড়িতেও উড়বে গেরুয়া পতাকা।’ এদিন মিছিলে একমাত্র বিজেপির যুব মোর্চার সহ সভাপতি ও কলকাতার সহ আহ্বায়ক শঙ্কুদেব পণ্ডা ছাড়া কাউকেই দেখা যায়নি।

অন্যদিকে রবিবার রাতেই হেস্টিংস-এ বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয়ে চলে এসেছিলেন শোভন ও বৈশাখী। আগেই জানিয়েছিলেন বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান তাঁরা৷ সেই মত গতকাল নির্বাচনী কার্যালয়ে আসেন তাঁরা৷ তবে একটু দেরিতে আসেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়৷বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের যে ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে তা শোভন ও বৈশাখীর কথাতেই পরিষ্কার। বিজেপি নেতৃত্বের গলাতেও একই সুর। সোমবারের মিছিলে লোক দেখেই শোভন-বৈশাখীর রবিবারের বিজেপি অফিসে যাওয়ার ফল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুনঃ চিটফান্ড ইস্যুতে তৃণমূল – বিজেপিকে ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই’ বলে কটাক্ষ অধীরের

সাম্প্রতিক সময়ে, সংবাদমাধ্যমে বেশি মুখ খুলতে দেখা গেছে বৈশাখীকেই। তবে রবিবার বৈঠকের পর সবাইকে কিছুটা অবাক করেই সাংবাদিকদের কাছে এগিয়ে এলেন শোভন। বললেন, ‘‘ কলকাতা জোনে একান্নটি বিধানসভা আসন আছে৷ সেই আসনে ভালো ফল করার জন্য কৌশল তৈরি করতেই এই বৈঠক৷ সবাই নিজের মতো করে মতামত প্রকাশ করেছে৷ আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করব৷’’

বৈশাখীর গলাতেও শোনা গেল একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গিকার৷ ৪ঠা জানুয়ারি শোভন ও বৈশাখীকে নিয়ে বাইক মিছিল করার কথা ছিল কৈলাস-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের৷ তবে শেষ মুহূর্তে অসুস্থতার কথা জানিয়ে আসেননি শোভন ও বৈশাখী ৷ এরপর থেকেই তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে শুরু হয় জল্পনা৷ যদিও পরে সংবাদমাধ্যমে দুঃখপ্রকাশ করে নেন বৈশাখী ৷ পরে ঠিক হয়, দক্ষিণ কলকাতায় শোভন ও বৈশাখীকে নিয়ে ফের একটি মিছিলের আয়োজন করবে বিজেপি৷

আরও পড়ুনঃ নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় বন্ধ করা হল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাজ

সোমবার গোলপার্ক থেকে সেলিমপুর পর্যন্ত এই মিছিল হওয়ার কথা৷ তার ঠিক আগের দিন কার্যালয়ে এলেন বহু চর্চিত এই জুটি৷ কলকাতা জোনের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শোভনকে৷ একই সঙ্গে যে কমিটি তৈরি করা হয়েছে তাতে সহ আহ্বায়ক হিসেবে বৈশাখীর মতো আছেন যুব মোর্চার রাজ্য সহ-সভাপতি শঙ্কুদেব পণ্ডাও৷ শোনা গিয়েছিল, একই পদে তিনি ও শঙ্কু থাকা নিয়ে শুরুতে আপত্তি জানিয়েছিলেন বৈশাখী। কিন্তু রবিবার উলটো ছবি দেখা যায় ৷

বৈঠকের আগে শুধুমাত্র শঙ্কুদেবই শোভন-বৈশাখী জুটিকে স্বাগত জানাতে কার্যালয়ের বাইরে ছিলেন। তবে, অন্য কেউ কেন শঙ্কুর সঙ্গী হলেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মুচকি হেসে, শোভনের নিন্দুকরা বলছেন, “কী আর করা যাবে, এটাই ছিল শোভন আর বৈশাখী-র ভবিষ্যৎ।”

কৈলাস আসার পর শুরু হয় বৈঠক। হাজির ছিলেন সুনীল বনশাল, কৈলাস, শোভন, বৈশাখী, শঙ্কুদেব ছাড়াও অমিতাভ চক্রবর্তী, প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখরা৷ তবে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব কেউই ছিলেন না বৈঠকে৷ আগেই কার্যালয় ছাড়েন মুকুল রায়। তারপর একে একে কার্যালয় ছাড়েন দিলীপ ঘোষ ও লকেট চট্টোপাধ্যায়ও।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here