শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ
লাদাখে চিনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গিয়েছে এ রাজ্যের বাসিন্দা দুই জওয়ানের। নিহত জওয়ানদের প্রতি শোকজ্ঞাপন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শহিদ দুই জওয়ানের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেবে রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার দুপুরে টুইট করে একথা জানান।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গালওয়ান ভ্যালির ঘটনায় রাজ্যের দুই জওয়ান শহিদ হয়েছেন। তাঁরা হলেন বীরভূমের রাজেশ ওঁরাও ও আলিপুরদুয়ারের বিপুল রায়। দেশের জন্য তাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তার সঙ্গে তুলনীয় কিছুই নয়। তবু এই খারাপ সময়ে ওই দুই জওয়ানের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তাঁদের হাতে ৫ লক্ষ টাকা দেবে রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি, এই দুই পরিবারের পক্ষ থেকে একজনকে চাকরিও দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত থেকে ভারত-চিন সীমান্তে প্রবল উত্তেজনা দেখা দেয়। ভারতীয় ও চিনা সেনার মধ্যে হাতাহাতি রক্তারক্তির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তাতেই ভারতের ২০ জন ও চিনের ৪৫ জন সেনা মারা যায় বলেই বেসরকারি সূত্রের খবর। এরপরেই প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করেন।
এছাড়াও রাজ্যের চিকিৎসক পড়ুয়াদের জন্য একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার থেকে কোভিডে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। তাঁরা সকলেই ডিফিকাল্ট এরিয়া ওয়েটেজ পাবেন। পিজিটি’তে যাঁরা আছেন, তাঁরা এই কাজ করলে প্রতি বছর ১০ শতাংশ করে ইনসেনটিভ পাবেন। হাউজস্টাফের সংখ্যা বাড়ানোর ভাবনা চলছে। সিনিয়র রেসিডেন্টের সংখ্যা বাড়ানো হবে। সব ডাক্তারির ছাত্রকেই কাজে লাগানো হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ বাকি পরীক্ষা বাতিল করে সিবিএসসির ফল প্রকাশ সম্ভব কিনা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট
রাজ্যে ঠিকমতো করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে না বলে বারবার অভিযোগের সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। তবে এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান করোনা পরিস্থিতির খতিয়ান তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ ধীরে ধীরে ল্যাবের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে সাড়ে ৩ লক্ষের বেশি পরীক্ষা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্ত ৫৭৭৭ জন। মোট সুস্থ ৬৫৩৩ জন।’ রাজ্যে সুস্থতার হার যে যথেষ্ট বেশি তাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ১৬ কোটি বাড়িতে রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্মীরা পরীক্ষা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ চিন সাহায্যপ্রাপ্ত ব্যাংক ভারতকে দিচ্ছে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ
রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৭৭টি কোভিড হাসপাতাল রয়েছে। তবে বারবারই কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের তরফে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, মৃদু উপসর্গযুক্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। এবার তাঁদের জন্য নয়া ব্যবস্থা রাজ্যের। তৈরি করা হল ১০৪টি সেফ হোম সেন্টার। সেখানে একেবারেই মৃদু উপসর্গযুক্ত করোনা রোগীদের রাখা হবে। চিকিত্সকরাই তাঁদের চিকিত্সা করবেন। এছাড়াও করোনা রোগীদের জন্য আর কত বেড বাকি রয়েছে সে বিষয়ে প্রতিদিন ঘণ্টায় ঘণ্টায় বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে আপডেট দিতে বলেও নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যসচিবের বৈঠকেরও কথা বলেন তিনি।
তবে সব কথা শেষে তার বাড়ি এলাকাতেই ফলতার বিধায়ক তমোনাশ ঘোষের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান তমোনাশ বাবুর শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ‘তমোনাশ বাঁচবে কি না জানি না, অবস্থা খুব খারাপ।’
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584