শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ
রাজ্যের কোভিড হাসপাতালগুলিতে করোনা রোগীদের জন্য ১০৮৩০ শয্যা থাকলেও এবং তার মাত্র ৩১ শতাংশ ভর্তি থাকলেও ভর্তি হতে না পেরে চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে মৃত্যু হয়েছিল ইছাপুরের তরুণ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুই তরুণ-তরুণীর।

শয্যা সংখ্যা নিয়ে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে হাসপাতাল গুলির সমন্বয়ের অভাব যে প্রকট, তা এই ঘটনাগুলিতেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। তাই হাসপাতালের শয্যা নিয়ে যাতে হয়রানির শিকার হতে না হয় সেই কারণে ইতিমধ্যেই কোন হাসপাতালে কত শয্যা সংখ্যা আছে সে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে একটি আলাদা পোর্টাল তৈরি করতে চলেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার সদর দফতরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর এমনটাই জানিয়েছেন কলকাতার নতুন নোডাল অফিসার তথা স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ চিকিৎসায় গাফিলতির জের! মা-হারা সন্তানদের নামে ১০ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের নির্দেশ কমিশনের
এ দিনের বৈঠকে আলাপান বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশের প্রতিনিধি, কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা এবং কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মন্ডলী চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম সহ প্রশাসক মন্ডলীর অন্যান্য সদস্যরা।
এছাড়াও রাজ্য সরকারি উদ্যোগে স্যাটেলাইট সেন্টার তৈরি করার চিন্তা ভাবনা করছে বলে জানান আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন এতদিন বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে স্যাটেলাইট সেন্টারে ব্যবস্থা ছিল। স্যাটেলাইট সেন্টার আসলে পেড সেফ জোন।
যার ফলে এবার থেকে রোগীরা চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন তবে বিনামূল্যে নয়, নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে। এতদিন বেসরকারি হাসপাতালগুলি এই পরিষেবা দিয়ে আসছিল অনেক বেশি মূল্য যা সাধারণ মানুষের এক্তিয়ারের বাইরে। তাই সাধারণ মানুষ যাতে অল্প পয়সায় পরিষেবা পেতে পারে তার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভর্তির দিনেই কলকাতা মেডিক্যালে মৃত্যু হাওড়ার বাসিন্দার, পাঁচদিন বাঁচিয়ে রাখল হাসপাতালের হেল্পলাইন!
উল্লেখ্য, প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসছে করোনা রোগী নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় করছেন পরিবারের সদস্যরা। সেজন্যই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
যে চার জেলায় করোনা পরিস্থিতি সবথেকে বেশি উদ্বেগজনক সেখানে নতুন করে চারজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। এরমধ্যে কলকাতায় নোডাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় কে। সেই সূত্রেই এদিন কলকাতা পুরসভার এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
বৈঠক শেষে এদিন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “পুরসভা এবং পুলিশ সমন্বয় সাধন করে কাজ করছে। তবে তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে আরও উন্নতি সাধনের প্রয়োজন। শহরে সেফ হোম, কোয়ারেন্টাইন সেন্টার, স্যাটেলাইট সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানো বিষয়ে দিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ ১৯ জুলাই পর্যন্ত কনটেইনমেন্ট জোনে সম্পূর্ণ লকডাউন পশ্চিমবঙ্গে
আলাপনবাবু আরও বলেন, “সাধারণ মানুষ যাতে করোনা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দিতে পারে সেজন্য কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোল রুম আরও ভালোভাবে ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও মৃত উপসর্গ বিশিষ্ট রোগীদের চিকিৎসার জন্য তৈরি সেফহোমগুলির সঙ্গে করোনা হাসপাতালগুলির নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে।”
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584