রূপসা দাস,কলকাতাঃ

গত ১৪ ই ফেব্রুয়ারী পুলওয়ামাতে ৪৪ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উগ্র সাম্প্রদায়িক উন্মাদনার নগ্নতাকে সামনে রেখে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে যে যুদ্ধজিগিরের বাতাবরণ তৈরী করেছে বিজেপি-সঙ্ঘ পরিবার,সেই উন্মত্ত হিংসার বিরুদ্ধে, যুদ্ধোন্মাদনার উর্দ্ধে উঠে সামাজ্যবাদী,ফ্যাসিস্ট শক্তির ঘৃণ্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শান্তি-সম্প্রীতি ও গণতন্ত্রের বার্তা ছড়িয়ে দেবার জন্য, গত ২৪ শে ফেব্রুয়ারী সিপিআই(এম-এল)রেডস্টার ও পিপল’স্ ব্রিগেডের ডাকে রামলীলা ময়দান থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি শান্তি মিছিলের আয়োজন করা হয়, যার মূল বক্তব্যই ছিল, যুদ্ধবাজদের বিরুদ্ধে শান্তির পক্ষে মানববন্ধন গড়ে তোলা।

আরও পড়ুনঃ ন্যায্য দামের দাবীতে রাস্তায় পেঁয়াজ ফেলে অবরোধ চাষীদের

জওয়ান মৃত্যুর মতো দুঃখজনক ঘটনায় সেনাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ প্রকাশ না করে নিঃসন্দেহে ২০১৯-এর ভোটের আগে, রাফায়েল ইস্যুসহ একগুচ্ছ অভিযোগকে ধামাচাপা দিতে, সীমাহীন বেকারত্বের রেকর্ডকে চেপে দিয়ে, কৃষক আত্মহত্যার মতো মেহনতি জনতার জীবনে নেমে আসা একগুচ্ছ অভিযোগকে আড়াল করার জন্য, সেনা মৃত্যু থেকে উদ্ভূদ ‘দেশপ্রেম’কে কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক খেলায় অন্যতম ট্রামকার্ড হিসাবে ব্যবহার করছে।


আর দেশপ্রেমের নামে চলতে থাকা এই সুপরিকল্পিত ‘দ্বেষ’ প্রেমের উল্লাসযজ্ঞে আক্রান্ত হয়েছেন আমাদের রাজ্যের বহু যুদ্ধবিরোধী, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ ও জন্মসূত্রে কাশ্মিরী নারী-পুরুষ। এই দেশদ্রোহী ফ্যাসিস্ট শক্তিকে প্রতিহত করতে,উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে,যুদ্ধজিগিরের বিরুদ্ধে আয়োজিত মিছিলে সিপিআই(এম-এল)রেডস্টার ও পিপলস ব্রিগেডের তরফ থেকে যৌথভাবে শান্তি মিছিলের পক্ষে যে আওয়াজগুলি তোলা হয়,তা হল- যুদ্ধজিগির নয়,পুলওয়ামার ঘৃণ্য ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে হবে।


মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর স্বার্থান্বেষী আক্রমণ বন্ধ করতে হবে।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সমস্ত মানুষকে একজোট হবার আহ্বান দেওয়া হয়েছে, এই মিছিলের মাধ্যমে।
পিপল’স্ ব্রিগেডের তরফ থেকে উচ্ছ্বসিত গণসংগীতের আবহে, শান্তি বার্তায়, মেহনতি মানুষের পদচালনায় মুখরিত হয় কলকাতার রাজপথ।


পিপল’স্ ব্রিগেডের কনভেনর বাসুদেব নাগচৌধুরী এই মিছিল থেকেই অভিযোগ করেন যে ভোটের আগে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলি থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেবার জন্যই উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিত ভাবে যুদ্ধজিগির গড়ে তোলা হচ্ছে, জেলায় জেলায় যেসব মানুষ এই হিংসায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদেরকেও একজোট করার বার্তা দেন তিনি।
প্রাক্তন নেভি অফিসার রামদাসের সুরেই সিপিআই(এম-এল) রেডস্টারের তরফ থেকে প্রদীপ সিং ঠাকুর দাবী করেন যে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় হয়ে যাওয়া আক্রমণের বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া দরকার,অন্যদিকে এই মিছিল থেকে এই প্রশ্নও ওঠে যে কোন পরিস্থিতির ভিত্তিতে কাশ্মীরের যুবকেরা আত্মঘাতী হামলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন,তার তদন্ত হওয়াও প্রয়োজন ।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584