মোহনা বিশ্বাস, নদীয়াঃ
৫ সেপ্টেম্বর। বছরের এই একটা দিন নানারকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যমে শিক্ষিক শিক্ষিকার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করে ছাত্রছাত্রীরা। কিন্তু অন্যান্য বছরের থেকে এই বছরটা একেবারে আলাদা। কারণ, করোনা ভাইরাসের কবলে ২০২০।
তাই ভার্চুয়ালেই পালিত হচ্ছে শিক্ষক দিবস। বাড়িতে বসেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা। তবে যাঁরা আমাদের লেখাপড়া শেখান শুধুমাত্র তাঁরাই আমাদের শিক্ষক? যাঁরা আমাদের জন্ম দেন সেই জন্মদাত্রী মা, জন্মদাতা বাবা আমাদের প্রথম শিক্ষক। আর তারপর যাঁরা আমাদের শিক্ষাদান করেন তাঁরা আমাদের শিক্ষক।
আরও পড়ুনঃ ঝাড়গ্রাম শহরের অনুষ্ঠিত হল শিক্ষক দিবস
একথা সত্য। কিন্তু এর পরেও কিছু মানুষ থাকেন যাঁদের কাছ থেকে আমরা প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শিখি। যেমন, রিকশাচালক, ভ্যানচালক। প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করেন যাঁরা, সেই সকল মানুষকে শিক্ষকরূপে দেখেন নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।
ওয়েবস্টার সার্ভিস সোসাইটি। বিগত প্রায় আট বছর ধরে এই দিনটিতে শিক্ষক দিবস উদযাপন করে এই সংস্থা। শুধু তাই নয়, সারা বছর এই সংস্থার সকল সদস্যরা মিলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তাঁদের সেই গ্রুপের নাম ‘উড়ান’।
আরও পড়ুনঃ গঙ্গারামপুরে শিক্ষক দিবসে পথে নামল প্রাইমারি চাকরি প্রার্থীরা
বিগত পাঁচ বছর ধরে এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আরও এক উৎসব করে চলেছে, যার নাম “উৎসবে ওরাও হাসুক”। এবছর করোনা পরিস্থিতির কারণে সেভাবে শিক্ষক দিবস উদযাপন করা যাচ্ছে না, তাই আজ, শনিবার কৃষ্ণনগরে শ্যামপুর ইউনিট এর উদ্যোগে এলাকার সমস্ত ভ্যান রিকশা চালকদের হাতে ছাতা ও মাস্ক তুলে দেয় এই সংস্থা।
বর্ষা গিয়ে শরৎ এসেছে, কমেনি প্রচণ্ড রোদের প্রকোপ, হচ্ছে হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি। অধিকাংশ ভ্যান রিকশা চালকদের মাথায় নেই ছাতা, সেই কথা মাথায় রেখেই তাঁদের এই উদ্যোগ। পাশাপাশি এদিন সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এই সংস্থার সদস্যবৃন্দ।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584