বেলেঘাটা আইডি, এমআরবাঙুর হাসপাতালে ‘অক্সিজেন প্ল্যান্ট’ বসাতে চলেছে রাজ্য সরকার

0
58

শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ

করোনা রোগীর বিভিন্ন উপসর্গগুলির মধ্যে অন্যতম উপসর্গ হল শ্বাসকষ্ট। আর শ্বাসকষ্টের সময়ে অক্সিজেনের জোগান না থাকলে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হচ্ছে অনেক করোনা রোগীকে।

factory | newsfront.co
প্রতীকী চিত্র

এই মুহূর্তে কলকাতায় যে ক’টি করোনা হাসপাতলে প্রচুর পরিমাণ করোনা রোগীর চিকিৎসা হয়, তার মধ্যে অন্যতম বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল এবং এমআরবাঙুর হাসপাতাল। সূত্রের খবর, হাসপাতালের মধ্যে জায়গা থাকায় এই দু’টি প্রধান কোভিড হাসপাতালে লিক্যুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

যেভাবে প্রত্যেকদিন করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে যে কোনও সময় অক্সিজেনের সঙ্কট দেখা দিতে পারে। কারণ রাজ্যের হাসপাতাল গুলির ক্ষমতা বিচারে নির্দিষ্ট পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ পরিকাঠামো রয়েছে রাজ্য সরকারের। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে অক্সিজেনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি তুঙ্গে। সেই সমস্যা মোকাবিলায় এবার আগাম পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্য দফতর।

plant | newsfront.co
প্রতীকী চিত্র

কলকাতার স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, বেলেঘাটা আইডি এবং এমআর বাঙুর হাসপাতালে প্ল্যান্ট গড়ার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যের অন্য কোভিড হাসপাতালগুলিতেও এই পরিকাঠামো নির্মাণ করা হবে। জানা গিয়েছে, ভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে যেভাবে মাস্ক-স্যানিটাইজারের অভাব দেখা যাচ্ছিল, এখন মেডিক্যাল অক্সিজেন সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেও সেই সঙ্কট দেখা যাচ্ছে। শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য নয়, সরবরাহকারী অনেকে ঘুরপথে অক্সিজেন মজুত করতে চাইছেন। ফলে সমস্যা আরও বাড়ছে।

আরও পড়ুনঃ আর্থিক সংকটে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি অধ্যাপকরা

প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসেই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে লকডাউনের মধ্যেই ১ লক্ষ ২ হাজার ৪০০ সিলিন্ডার সরবরাহ করার কথা জানানো হয়েছিল। চাহিদা বেশি থাকায় বাণিজ্যিক অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন, আর্গন ও হিলিয়ামের মতো বিষাক্ত বা দাহ্য নয় এমন গ্যাস সিলিন্ডারগুলিকে রূপান্তরের নির্দেশিকা জারি করেছিল মোদি সরকার।

factroy in kolkata | newsfront.co
প্রতীকী চিত্র

৩ লক্ষেরও বেশি এমন বাণিজ্যিক অক্সিজেন সিলিন্ডার চিহ্নিতও করা হয়। সেগুলিকে মেডিক্যাল অক্সিজেন সিলিন্ডারে রূপান্তরের নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতেও বলা হয়েছিল উৎপাদক সংস্থাগুলিকে। সেই মতো কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকারও।

সংস্থাগুলির কাছে তাদের গুদামে মজুত বাণিজ্যিক অক্সিজেন সিলিন্ডারের হিসেব জানতে চাওয়া হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম জানিয়েছেন, ‘বিপদের সময় দ্রুত অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি লিক্যুইড অক্সিজেন প্ল্যান্টের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ যা বসানো হচ্ছে রাজ্যের দুই কোভিড হাসপাতালে।

আরও পড়ুনঃ রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মঙ্গলবার ভার্চুয়াল বৈঠকে মোদী-মমতা

রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে সাধারণত দু’ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয় । কিছু হাসপাতলে কন্টেনারে করে অক্সিজেন আসে। তা সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপলাইনের মাধ্যমে ভালভের সাহায্যে সরবরাহ করা হয়। কলকাতার সরকারি হাসপাতালে এই পরিষেবা রয়েছে। সম্প্রতি কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে কলকাতা মেডিক্যাল, এনআরএস এবং এমআর বাঙুর হাসপাতালে সেই পাইপলাইনের ম্যানিফোল্ড বাড়ানো হয়েছে। মুর্শিদাবাদেও মাতৃসদনে পাইপলাইন বসানোর কাজ হচ্ছে। তবে এই পদ্ধতির হাসপাতালে ব্যবহারের সংখ্যা নিতান্ত সীমিত।

আর দ্বিতীয় পদ্ধতি হল, হাসপাতালে হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ। রাজ্যের সিংহভাগ হাসপাতালেই এই ভাবেই অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। তাই অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ফুরিয়ে গেলে সমস্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদিও হাসপাতালে কিছু পরিমাণ অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত রাখা হয়, তবুও করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলা রোগীদের ক্ষেত্রে সেই মজুত করার সিলিন্ডারও সংখ্যায় বাড়ন্ত।

আরও পড়ুনঃ লকডাউনের দিন মনে রাখাতে কলকাতার অলিগলিতে পুলিশের ক্যালেন্ডার

বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের প্রতি মিনিটে ৪ থেকে ৪০ লিটার বা তারও বেশিমাত্রায় অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। আর তার জন্য প্রতি ঘন্টায় ১৫০-২০০ টাকা চার্জ করা হচ্ছে। রাজ্যে বেড়ে চলা অক্সিজেনের চাহিদাকে মাথায় রেখে অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরের পরিকাঠামো গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য রাজ্যের এই দুই কোভিড হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here