পিয়ালী দাস, বীরভূমঃ
রাজ্য সরকারের তৈরি করে দেওয়া খসড়া হুবহু পড়বেন না, বাজেট বক্তৃতায় রাজ্যপাল তা নিজের মতো করে সংশোধন করে নেবেন। সাফ জানিয়ে দিলেন জগদীপ ধনকড়।
আজ বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঘমেলার সূচনা করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে বাজেট বক্তৃতায় নিজস্ব মতামত রাখার স্বাধীনতা আছে তাঁর। আর সেটাই তিনি প্রয়োগ করবেন এবার। যা ঘিরে ফের নতুন করে দ্বন্দ্ব তৈরি হল।

বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই জল গড়িয়েছে অনেকটা। তিনি রাজ্যের তৈরি করা বাজেট ভাষণই পড়বেন, নাকি তা খারিজ করে দেবেন, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা চলছিল।
সকলেই অপেক্ষায় ছিলেন, আগামী ৭ তারিখ ধনকড়ের বক্তৃতা শোনার। এত কিছুর মধ্যে তিনি, অধিবেশন শুরুর ঠিক আগেরদিনই স্পষ্ট করে দিলেন কী করতে চলেছেন।
বিশ্বভারতীতে গিয়ে জানালেন যে বাজেট বক্তৃতার কিছুটা অংশ তিনি নিজের মতো করেই বলবেন। বললেন, “রাজ্য সরকারের যেমন অধিকার আছে বাজেট ভাষণ তৈরি করে দেওয়ার, তেমনই রাজ্যপাল হিসেবে আমারও তা কাটছাঁট করার অধিকারও আছে।
আরও পড়ুনঃ অধীর চৌধুরীকে ‘ফিট ইন্ডিয়ার’ প্রচারক বলে টোন কাটলেন মোদি, ছাড়লেন না রাহুলকেও
প্রয়োজনীয় অংশে আমি নিজের পর্যবেক্ষণ, মতামত রাখব।” কী সেই অংশ, তা অবশ্য আস্তিনেই গুটিয়ে রাখলেন জগদীপ ধনকড়। ফলে আরও বাড়ল গুঞ্জন।
শান্তিনিকেতন যাওয়ার জন্য রাজ্যপাল সরকারের কাছে হেলিকপ্টার চাইতেই সংঘাত ভুলে সঙ্গে সঙ্গে তা মঞ্জুর করেছিল নবান্ন। তাতে খুশিও হয়েছিলেন জগদীপ ধনকড়। কিন্তু বিশ্বভারতীতে মাঘমেলার সূচনা করতে গিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা মুখর হয়ে ফের বিতর্ক বাড়ালেন তিনি।
অভিযোগ তুললেন, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার সুবিধা থেকে রাজ্যের বহু কৃষককে বঞ্চিত করে রেখেছে রাজ্য সরকার। যা তাঁকে ব্যথিত করে তুলছে। কার্যত অনুরোধের সুরেই বললেন, কৃষকদের এভাবে বঞ্চিত যাতে না করা হয়।
আরও পড়ুনঃ ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল সবাইকে চমকে দেবে, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অমিত
রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের পদে বসার পর থেকেই বারবার অভিযোগ উঠেছে, রাজভবন যেন বিজেপির কার্যালয় হয়ে গিয়েছে। রাজ্যপাল কথা বলছেন বিজেপি নেতাদের সুরে।
আর সেই অভিযোগ একাধিকবার খারিজ করে ধনকড়ও দাবি করেছেন, তিনি যা করছেন, যা বলছেন, সবই রাজ্যবাসীর জন্য, রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে। এবার তিনি সরাসরি অভিযোগ তুললেন যে রাজ্যের জন্য কেন্দ্রের বরাদ্দ অর্থ কাজে লাগানো হচ্ছে না।
বিশ্বভারতীতে গিয়ে তাঁর অভিযোগ, কৃষকস্বার্থে রাজনীতি করছে রাজ্য সরকার। এই অভিযোগ তুলে আরও একবার নিজের ভূমিকাকে নিজেই প্রশ্নের মুখে ফেললেন রাজ্যপাল, এমনই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। তবে এসব ছাপিয়ে এই মুহূর্তে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ধনকড়ের বাজেট ভাষণ।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584