নিউজফ্রন্ট, আলিগড়ঃ দেশের বিরোধীদল গুলি যখন বিজেপিকে “ভেদাভেদের দল” এই তকমায় ভুষিত করেছে সেই সময় বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিল বিজেপিই। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে মহম্মদ আলি জিন্নার ছবি। এই ফরমান এল হিন্দু যুবা বাহিনীর কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের কাছে। তাই নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর হয়ে উঠল অগ্নিগর্ভ। সেখানে ছাত্র ছাত্রীদের সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশকে লাঠি চালাতে হয় বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। জখম ছাত্রদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। “ভারত ভাগের কারিগর ও পাকিস্তানের জনক আলি জিন্না” তাই অবিলম্বে ছাত্র সংগঠনের কার্যালয় থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে তাঁর ছবি এই দাবি ছিল বিজেপি সাংসদ সতীশ গৌতমের। আর এই সাংসদের পাল্টা রুচিশীল মন্তব্য করেছেন আর এক বিজেপি নেতা স্বামী প্রসাদ মৌর্য্য। তিনি গৌতমের মন্তব্যকে এড়িয়ে জিন্নাকে মহান দেশপ্রেমিক বলায় মতান্তর শুরু হয় বিজেপিতে।

বিজেপির রাজ্যসভা সদস্য হরনাথসিংহ যাদব টুইট করে মৌর্য্য-র করা মন্তব্যের জন্য হয় তাকে ক্ষমা চাওয়ার না হলে দল থেকে বহিস্কার করার আবেদন জানান। বেগতিক বুঝে পরে ডিগবাজি খান মৌর্য্য।

প্রসঙ্গত আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলি জিন্নাকে ১৯৩৮ সালে সাম্মানিক আজীবন সদস্যপদ দেওয়া হয়েছিল। কোন কোন ইতিহাসবিদ বিজেপির এই সিদ্ধান্তকে “অর্বাচীনের মন্তব্য” বলে কটাক্ষ্য করেছেন। দেশ ভাগের পর বরেণ্য কোন নেতাই যখন এই ছবি রাখা নিয়ে কোন আপত্তি করেন নি তাহলে কি বিজেপির হঠাৎ এই আচরণ পরমত সহিষ্ণুতা ও ভারতবর্ষের মতো দেশকে বুঝবার অক্ষমতা?প্রশ্ন তোলেন তারা।

যখন প্রধানমন্ত্রী, গান্ধীজির ১৫০বছর পালনে উদ্যোগী হয়েছেন তখন আলিগড় মুসলিম বিশ্ব বিদ্যালয়ের এই অসহিষ্ণুতার ঘটনা সেই উদ্যোগের গায়ে কাদা ছেটালো বলেই মনে করছেন রাজনৈতীক মহল। পরে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি এই ঘটনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিশ্ব বিদ্যালয়ের কোর্টে বল ঠেলে দিয়েছেন।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584