শ্যামল রায়,মন্তেশ্বরঃ

মন্তেশ্বর থানা আর বামুনপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কষা গ্রামে পুকুর ভরাট করার অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।অভিযোগ ওই স্থানীয় তৃণমূল নেতার একটি পোল্ট্রি ফার্মে যাতায়াতের জন্য রাস্তা তৈরি করতেই এই পুকুর ভরাট করার কাজ চলছে।এই অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।যদিও যার বিরুদ্ধে পুকুর ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে সেই টগর সেখ ঘটনার কথা সম্পূর্ণ ভাবে অস্বীকার করেছেন।তিনি বলেছেন পুকুর কখনো ভরাট করা হচ্ছে না পাশ দিয়ে মাটি ফেলে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে,সকলের যাতায়াতের সুবিধার জন্য এই কাজটি করা হচ্ছে দাবি টগর শেখের।

অভিযোগকারী স্থানীয় বাসিন্দা সাহাদালি খাঁ মঙ্গলবার জানিয়েছেন যে তার ২৬ শতক জায়গা রয়েছে।জমির দলিলে উল্লেখ রয়েছে পুকুরের। অথচ স্থানীয় তৃণমূল নেতা টগর সেখ তার নিজের পোল্টি ফার্মে গাড়ি যাতায়াতের জন্য রাস্তা তৈরি করতেই আমার জমি পুকুর থাকা সত্ত্বেও ভরাট করে বলপূর্বক রাস্তা তৈরির জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।আমি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত সমিতি স্থানীয় ভিডিও এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর কে জানিয়েছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কাজের কাজ হয়নি।”

সাহাদালী খা আরো অভিযোগ যে ” ৪০০ বছর আগের এই পুকুরটি ক্রমান্বয়ে জোরপূর্বক স্থানীয় তৃণমূল নেতা মাটি ফেলে দিনের পর দিন ভরাট করার কাজে লেগেছে।আমি প্রতিবাদ করলেই আমাকে ভয় দেখানো হচ্ছে এবং আমার পরিবারের যেকোন কাউকে রাস্তাঘাটে পেলে মারধর করা হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে প্রতিদিন। মন্তেশ্বর থানার পুলিশ আমাকে সাহস যুগিয়ে গেলেও প্রকৃতপক্ষে যখন মাটি ফেলা হচ্ছে তখন পুলিশ আসছে না।”

এই পুকুর ভরাটের পিছনে আরো কোন রহস্য বা অনেক বড় ধরনের হাত রয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে।আমি এখন কি করব নিজেকেই হতাশা গ্রস্থ ভাবতে হচ্ছে জানিয়ে দিলেন সাহাদালী খা।সাহাদ আলি খাঁ জানিয়েছেন যে প্রথমে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে একশো দিনের কাজে পুকুর সংস্কার করা হবে। কিছুটা পুকুর সংস্কারের কাজ শুরু হতেই উল্টো হতে শুরু করে। পুকুরের মধ্যে মাটি ফেলে ভরাট করার কাজ শুরু হয়ে যায়।
তাই আমার দাবি পুকুর যাতে ভরাট না হয় সেই ব্যাপারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছে জানিয়ে দিলেন সাহাদালি খা।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রিম্পা দাস জানিয়ে দিয়েছেন যে “বিষয়টি নিয়ে আমি আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করার দিকে এগোচ্ছি।”
সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বিপ্লব দত্ত জানিয়ে দিয়েছেন যে “পুকুর কখনো মাটি ফেলে ভরাট করা যাবে না বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।”
আরও পড়ুনঃ কাশীরাম দাসের জন্মভিটে সংস্কারে উদ্যোগী রাজ্য সরকার
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584