শতাব্দী প্রাচীন মসজিদ, নজর দিক প্রশাসন 

0
137

বিশেষ প্রতিবেদন, সুদীপ পাল, বর্ধমানঃ 

ইসলামী মতে মসজিদের সম্মান ও পবিত্রতাকে অত‍্যন্ত গুরুত্ব দেওয়ার উদ্দেশ‍্যেই সম্মানসূচক ভাষায় মসজিদকে আল্লাহর ঘর বলে ডাকা হয়। ইসলামে মসজিদের যে বিশেষ মর্যাদা রয়েছে তার অন্যতম প্রমাণ মদিনায় হিজরতের পর যে বিষয়টির প্রতি সর্বপ্রথম মনোযোগ আরোপ করেন, তা ছিল মুসলমানদের জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করা। বর্ধমানের গলসি এক নম্বরে মানকরের কাছে  কোটা গ্রামে অযত্নে নষ্ট হচ্ছে শতাব্দী প্রাচীন এক মসজিদ। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, প্রশাসনের তরফ থেকে কোন সাংস্কারিক উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্রমশই জীর্ণ হয়ে ভেঙে পড়ছে মসজিদটি। গম্বুজ আর অবশিষ্ট নেই। বাকি অবশিষ্টাংশে জন্ম নিয়েছে বিশাল গাছ। যার ফলে খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে পড়ছে মসজিদের অবশিষ্ট দেওয়ালগুলি। এটি একটি আয়তাকার, বহুগম্বুজ বিশিষ্ট বিশাল আয়তনের স্তম্ভভিত্তিক নির্মাণরীতির স্বাক্ষ্য। ইট দিয়ে তৈরী। আসলে এই অঞ্চলে সহজলভ্য কাদামাটি থেকে সহজেই ইট তৈরি করা সম্ভব বলে অতি প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা অঞ্চলের স্থাপত্য নির্মাণে ইট ঐতিহ্যবাহী উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

জীর্ণ দশা (নিজস্ব চিত্র)

মসজিদটির প্রাচীনত্ব নিয়ে তিন রকমের মতভেদ রয়েছে। বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বখতিয়ার খলজি (১২০৪-০৬)। তিনি একাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন। এটি তাদের মধ্যে একটি হতে পারে। অন্য মতে, মুগল সম্রাট আকবর যদিও ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলা জয় করেছিলেন, কিন্তু বাংলার শক্তিশালী স্থানীয় জমিদারদের প্রতিরোধ  ভেদ করতে মুগলদের আরও কয়েক দশক সময় লেগেছিল। সমগ্র বাংলাকে সত্যিকার অর্থে মুগল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে ১৬১৩ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ। এই মসজিদ সেই সময়েরও হতে পারে। অন্য মতে এই মসজিদ গড়ে ওঠে স্থানীয় ভল্লুপাদ রাজার সময়ে। স্থাপত্যে কর্তৃত্বের ছাপ রেখে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের পরিবর্তে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ  মনোযোগ দিয়েছিলেন নিজেদের ধর্মীয় প্রয়োজন মেটানোর দিকে, নির্মাণ করছিলেন স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলীর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছোটখাটো বাস্তব উপযোগী মসজিদ। এটি সেই রকম হতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই অঞ্চলে ব্যাপক বর্গী আক্রমণ হতো। স্থানীয় মুসলমানদের সাথে বর্গীদের খণ্ডযুদ্ধ হয়। তাতে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তারপর অনেককাল পেরিয়ে গেছে, মসজিদ স্থাপত্য ক্রমশই অবক্ষয়িত হয়েছে। কিন্তু কখনই কোন রকম সংস্কার করা হয়নি।

পাশ থেকে (নিজস্ব চিত্র)

এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ঐতিহাসিক এই স্মারক রক্ষন করা একান্ত প্রয়োজন। প্রশাসন বিষয়টিতে নজর দিলে প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য রক্ষা হবে এবং পর্যটন কেন্দ্রের বিকাশ হবে।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here