সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীদের মতো সংখ্যালঘু নেতাদের জন্যই কি মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জট?

0
7185

আনিসুর রহমান,নিউজ ফ্রন্ট,কলকাতা

একটি মাদ্রাসা শিক্ষক সংগঠনের উদ্যোগে মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন বিষয়ক এক সেমিনার গত বৃহস্পতিবার উর্দু আকাদেমির সভাগৃহে অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত সেমিনার থেকে বেরিয়ে রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর একটি মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

উর্দু অ্যাকাডেমিতে (ছবি-ফেসবুক)

মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকুরি প্রার্থীরা মাননীয় মন্ত্রীর কাছে জানতে চান হাই কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্বেও কমিশন কেন নিয়োগ করছে না।উত্তরে মন্ত্রী বলেন-‘হাই কোর্টের রায় মানতে বাধ্য নয় রাজ্য সরকার’।মন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।মহামান্য হাই কোর্টের রায়কে এই ভাবে তিনি হেয় প্রতিপন্ন করতে পারেন কি করে?ভারতবর্ষ একটি সার্বভৌম,গণতান্ত্রিক দেশ,যার স্বাধীন বিচারব্যবস্থা রয়েছে।দেশের প্রতিটি নাগরিক সেই বিচারব্যবস্থার নির্দেশ মানতে বাধ্য।কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন,না কোন নাগরিক না কোন নির্বাচিত সরকার।তবে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর এই মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেই মতামত বিশিষ্টজনেদের।বুদ্ধিজীবী মহলের মতে দায়িত্ব জ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।এটা সরাসরি আদালত অবমাননা।হাই কোর্টের কোন সিদ্ধান্ত কারো পছন্দ না হলে তাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া যেতে পারে।কিন্তু তিনি আইনের পথে না গিয়ে ক্ষমতার আস্ফালন করতে চেয়েছেন।এছাড়াও তিনি মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন রক্ষার জন্য আন্দোলনকারিদের নাকি প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

সফল পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন

মন্ত্রীর এই মন্তব্যে রীতিমতো অবাক মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের সফল প্রায় চার হাজার সংখ্যালঘু চাকুরি প্রার্থী ।তাদের বক্তব্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মাননীয় মন্ত্রী মহাশয়ের নিকট বিনম্র আবেদন করেছিল তারা যাতে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়।যেহেতু গত ১১ই সেপ্টেম্বর মহামান্য হাই কোর্ট মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে 6th SLST এর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন। মাদ্রাসায় দীর্ঘ পাঁচবছর ধরে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকার কারণে মাদ্রাসা শিক্ষা ব‍্যাবস্থা ধ্বংসের মুখে এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাজ‍্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লক্ষ লক্ষ ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনা।

এই প্রেক্ষাপটে মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নের স্বার্থে আশু প্রয়োজন শিক্ষক নিয়োগ করা। কিন্তু রাজ‍্যের সংখ্যালঘু মুখ হয়েও শিক্ষক নিয়োগ করার তৎপরতা না দেখিয়ে মন্ত্রী মহাশয়ের অসাংবিধানিক কথাবার্তা পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

তাই পাশ করা পরিক্ষার্থী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মনে বাঁধতে শুরু করেছে সন্দেহের দানা।তাদের এখন প্রশ্ন- সিদ্দিকুল্লাহ চোধুরীদের মতো সংখ্যালঘু নেতাদের জন্যই কি মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে?

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here