বিশ্বভারতীর নিরাপত্তা ঘিরে কর্তৃপক্ষ-পড়ুয়া বিরোধ

0
14

পিয়ালী দাস, বীরভূমঃ

বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দফতরে চিঠি পাঠিয়েছেন বিশ্বভারতীর নিরাপত্তার জন্য। বিশ্বভারতী সূত্রে খবর ইতিমধ্যে বিশ্বভারতীতে নিরাপত্তা দিতে সি.আই.এস.এফ ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বভারতী জুড়ে হইচই পড়ে যায় ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে অধ্যাপকবৃন্দের মধ্যে। সকলেই একবাক্যে দাবি করেন কেন্দ্রীয় বাহিনী বিশ্বভারতীতে পা রাখলে গুরুদেবের গরিমা যেটুকু বেঁচে আছে সেটাও ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে । ইতিমধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের তরফে বিশ্বভারতী জুড়ে লাগানো হচ্ছে পোস্টার, শুরু হয়েছে দেওয়াল লিখন সি.আই.এস.এফ এর বিরুদ্ধে।

বিশ্বভারতী সূত্রে খবর চিঠিতে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী লিখেছেন বিশ্বভারতী রবীন্দ্র ভবন সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তার প্রয়োজন পাশাপাশি তিনি চিঠিতে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন সময়ে বিশ্বভারতীর কর্মী সংগঠনগুলো আন্দোলন বিক্ষোভের নামে তাকে হেনস্থা করছে তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। তাই অতিসত্বর সি.আই.এস.এফ বাহিনী মোতায়েন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিচার করেন প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বভারতীর আচার্য নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বভারতীর বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। তিনি বলেন ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে বিশ্বভারতী কর্মী অধ্যাপকরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে উপাচার্যকে ঘেরাও করলে বর্তমান নিরাপত্তা যুক্ত থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।

Authority-Reader Disputes Around Security at Visva-Bharati University
দেওয়াল লিখন। নিজস্ব চিত্র

বিশ্বভারতীর উপাচার্যের এই চিঠি নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে সমালোচনা। বিশ্বভারতীর প্রবীণ আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন এ ধরনের নিরাপত্তা দিয়ে কতটা নিরাপত্তা বিশ্বভারতীর চারিদিকে তৈরি করা যাবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রী এবং অধ্যাপক কর্মীদের কাছে উপাচার্য নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন এটা অত্যন্ত হাস্যকর একটি বক্তব্য। বিশ্বভারতীর অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সোমনাথ সৌ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এসে এইভাবে নিরাপত্তার নামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে গলাটিপে ধরার জন্য উপাচার্য এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি আগামী দিনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে জনমত গড়ে তুলে আন্দোলনের ডাক দেব। বিশ্বভারতীর ফ্যাকাল্টি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুদীপ্ত ভট্টাচার্য বলেন ব্যক্তিগতভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী বিশ্বভারতী নিরাপত্তা দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করছি।

সঙ্গীত ভবনের মাস্টার্স এর প্রথম বর্ষের ছাত্রী রুপা চক্রবর্তী জানিয়েছেন বিশ্বভারতীর ছাত্রী হিসাবে অত্যন্ত লজ্জা বোধ করছি, গুরুদেব যে স্বপ্ন নিয়ে শান্তিনিকেতন আশ্রম তৈরি করেছিলেন সেই স্বপ্নকে ভেঙে চূরমার করে দিচ্ছে উপাচার্য মহাশয়, ছাত্রছাত্রীরা তাদের সমস্যার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসাবে উপাচার্য মহাশয়ের কাছে জানাবে এটাই স্বাভাবিক তাই বলে উপাচার্য ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এড়িয়ে গিয়ে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে নিজে বিরাজ করবে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। বিশ্বভারতীর জাপানি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শাহানাজ খাতুন দাবি করেন নিরাপত্তা নিয়ে কি অসুবিধা তৈরি হয়েছে সেটাই তো বুঝতে পারছি না একাধিক বিশ্বভারতীর নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী রয়েছে বিশ্বভারতী ঘিরে রয়েছে তিনটে থানা সঠিক পরিকল্পনা করে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে সুরক্ষিত রাখা যাবে এর জন্য সি.আই.এস.এফ মোতায়ন মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।

বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য ডক্টর স্বপন দত্ত বলেন ওনার কার্যকালে একাধিকবার ছাত্র বিক্ষোভ এবং কর্মী বিক্ষোভ হয়েছিল কিন্তু কখনোই ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মীদের কাছে তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করেননি উল্টে সর্বদা তিনি সহযোগিতায় পেয়েছেন, ছাত্র-ছাত্রী এবং বিশ্বভারতীর সমস্ত সহকর্মীর কাছ থেকে। বিশ্বভারতী কর্মীসভা সভাপতি গগন সরকার বলেন, বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী একজন অত্যন্ত নিম্নরুচি, নিম্ন মানসিকতার মানুষ, উনি বিশ্বভারতীতে একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে চাইছেন, গুরুদেবের আশ্রম এসে যিনি ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মীদের কাছে নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন বলে দাবি করছেন তাকে উপাচার্য থাকা মানায় না। বিশ্বভারতীর কোন সমস্যা নিয়ে উপাচার্যের কাছে গেলে তিনি বলেন টাকা নেই কাজ হবে কি করে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এসে সেই বাহিনীর বিপুল ব্যয় ভার বিশ্বভারতীকে বহন করতে হবে তখন কিভাবে টাকা যোগাবেন উপাচার্য। কোন সদুত্তর অবশ্য উপাচার্য দিতে পারেননি।

বিশ্বভারতীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ের সি.আই.এস.এফের কি ভূমিকা হবে তা নিয়ে বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অনির্বাণ সরকারকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি এবং মেসেজ করা হলে তারও কোনো প্রতিক্রিয়া তিনি দেননি। বিশ্বভারতীতে উপাচার্য পদে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী আসীন হওয়ার পর থেকেই ওনার বিরুদ্ধে নানান ধরনের খামখেয়ালির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। বিশ্বভারতী জুড়ে ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে চন্দন গাছ চুরি খোদ উপাচার্যের বাড়ির পাশেই দুষ্কৃতীরা চন্দন গাছ কেটে নিয়ে পালিয়ে যাবার সময় কোন কারণে কাটা চন্দন গাছটি ফেলে পালিয়ে যায় কিন্তু সর্বক্ষেত্রেই চোর ধরা পড়েনি চলতি মাসে চন্দন গাছের চুরি আটকাতে নিরাপত্তা কর্মীদের শূন্যে গুলি চালাতে হয় এক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায়ভার কিন্তু উপাচার্যের কাঁধেই আসে কিন্তু তিনি সে দায়ভার নিতে কোনভাবেই চাইছেন না তাই আচার্যের কাছে কান্নাকাটি শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বিশ্বভারতী নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলতে।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91-9593666485