মনিরুল হক, কোচবিহারঃ

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনে উত্তেজনা ছড়াল কোচবিহার শহরের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে। জানা গেছে, ওই স্কুলে কোচবিহার নিউটাউন গার্লস হাইস্কুল ও হিন্দি স্কুলের ছাত্রীদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্র হয়েছে সুনীতি একাডেমিতে।
পরীক্ষা দিতে আসা পরিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, ছাত্রীদের কাছ থেকে তাদের হাতের ঘড়ি খুলে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুল ব্যাগ নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতর প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে স্কুল কতৃপক্ষ। এই অভিযোগ তুলে স্কুলের সামনের রাস্তা আটকে দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন অভিভাবকরা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, ছাত্রীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে ঘড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হোক। নাহলে তাদের পরীক্ষা দিতে অসুবিধা হবে। পাশপাশি তাঁরা আরও অভিযোগ তুলে বলেন, যারা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী তাদের অঙ্ক, ভৌতবিজ্ঞান, রসায়ন বিভাগের পরীক্ষার দিনে ক্যালকুলেটর নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ বকেয়া পেনশনের দাবিতে অবসরপ্রাপ্ত পুর কর্মীদের অবস্থান বিক্ষোভ

এদিকে স্কুলের সামনে ফ্লেক্সে লেখা রয়েছে পরীক্ষার সময় ঘড়ি, ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না।
পরীক্ষার্থীদের অভিভাবক প্রণব দাস, রিঙ্কু চক্রবর্তী বলেন,পরীক্ষার আগেই ছাত্রীদের ওপর উচ্চ শিক্ষা সংসদ ও স্কুল কতৃপক্ষ যেভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। ওরা এমনিতেই ভয় পেয়ে যাবে। একে বাইরের স্কুলে এসে পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রথম দিনই যদি এইভাবে চাপের কারনে পরীক্ষা খারাপ হয় তার দায় কে নেবে?
আমরা চাই পরীক্ষার্থীদের যদি ঘড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয় তাহলে ক্লাস রুম গুলোতে একটা করে ঘড়ি লাগানো হোক। আরেক অভিভাবিকা দীপান্বিতা সাহানাবীশ বলেন, ছাত্রীদের ঘড়ি নিয়ে ক্লাস রুমে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
তাদের শুধু জলের বোতল নিয়ে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। অঙ্ক, ভৌতবিজ্ঞান, রসায়ন বিভাগের অত বড় ডিজিট গুলো ক্যালকুলেটর ছাড়া করবে কিভাবে। ছাত্রীদের অভ্যাস হয়ে গেছে ঘড়ি দেখে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার। সেই ঘড়ি নিয়েও পরীক্ষার রুমে প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। ছাত্রীদের এতোটা টেনশন দেওয়ার মানে টা কী? মাধ্যমিকের প্রশ্ন পত্র ফাঁস করা আটকাতে পারলো না। উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র ছাত্রীদের ওপর মানসিক চাপ দিচ্ছে।
এদিকে, অভিভাবক-অভিভাবিকাদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে ডিএসপি (ট্রাফিক) চন্দন দাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে ছুটে যান। পরে পুলিশি আশ্বাসের পর বিক্ষোভ উঠে যায়। এদিকে এই বিক্ষোভের খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন উচ্চ শিক্ষা সংসদের জেলা কনভেনার মানস ভট্টচার্য। সেখানে এসে তিনি বিক্ষোভরত অভিভাবক-অভিভাবিকাদের সাথে কথা বলেন।
পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এবার ডিজিট্যাল ঘড়ি ও ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ নিষেধ রয়েছে। যেহেতু আমাদের এখানে পরিকাঠামো নেই কোনটা কি ঘড়ি। তাই স্কুলের শিক্ষিকারা বুঝতে পারেননি। সেটা নিয়ে অভিভাবকদের একটা অভিযোগ ছিল। সেই বিষয় নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ পক্ষের সাথে কথা বললাম। পরবর্তীদিন থেকে সেটা ঠিক হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, অভিভাবকদের বুঝতে ভুল হয়েছে। নয়টার মধ্যে স্কুলের গেট খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু এরকম নয় যে ৯ টার মধ্যেই প্রবেশ করতে হবে। তাঁরা নয়টার থেকে পৌনে দশটার মধ্যে স্কুলে প্রবেশ করতে পারবে বলে তিনি জানান।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584