খাদ্যসচিব, স্বাস্থ্যসচিবের পর এবার পুর কমিশনার বদল! সরলেন খলিল, এলেন বিনোদ

0
27

শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ

নিজের প্রশাসনে আমলাদের ওপরেই কি ভরসা রাখতে পারছেন না মুখ্যমন্ত্রী? সরাসরি নবান্ন থেকে এরকম কিছু বলা না হলেও পর পর ঘটনাক্রম কিন্তু সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। করোনা মহামারি চলাকালীন খাদ্যসচিব, স্বাস্থ্যসচিবের পর এবার বদলি হতে হল পুর-কমিশনারকেও। করোনা মহামারীর সময়ে সকলে যাতে বিনামূল্যে রেশন পান, তার ব্যবস্থা করেছিল সরকার। কিন্তু রেশন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠামাত্রই বদলি করা হয় খাদ্যসচিবকে। খাদ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের জায়গায় দায়িত্ব নেন পারভেজ আহমেদ সিদ্দিকি।

Binod kumar | newsfront.co
বিনোদ কুমার। ফাইল চিত্র

এর মাসখানেক পরেই স্বাস্থ্য দফতরে একাধিক প্রশ্ন তুলে সরকারের কোপে পড়েন স্বাস্থ্যসচিব বিনোদ কুমার। তার জায়গায় স্বাস্থ্যসচিব করে নিয়ে আসা হয় নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে।আর এবার কলকাতা পুরসভার কমিশনার খলিল আহমেদকে সরিয়ে দেওয়া হল। নতুন পুর কমিশনার হলেন বিনোদ কুমার। তিনি ফিরহাদ হাকিমের নগরোন্নয়ন দফতরের সচিব ছিলেন। আর নগরোন্নয়ন দফতরের সচিব পদেই পাঠানো হল খলিল আহমেদকে।

Khalil Ahamed | newsfront.co
খলিল আহমেদ। ফাইল চিত্র

প্রসঙ্গত, প্রায় ৬ বছর ধরে কলকাতা পুরসভার পুর কমিশনার ছিলেন খলিল আহমেদ, যা এক কথায় নজিরবিহীন। প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সময়েও তার একাধিক ভাল কাজের উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর কাজ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যথেষ্ট বিরক্ত ছিলেন। তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আরও তৎপর হতে বলেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ আমফানকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ ঘোষনার দাবি জানালেন সেলিম

কিন্তু আমফান পরবর্তী সময়ে শহর জুড়ে জল,আলাে থেকে গাছ সরানো নিয়ে নানা অভিযোগে ব্যতিব্যস্ত হতে হয় সরকারকে। পুরসভার সম্পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে অপারগ হন পুর কমিশনার, এমনটাই অভিযোগ। ফলে আজ, শুক্রবার বিকেলে বিশেষ বৈঠক করতে হয় ফিরহাদ হাকিমকে। শহরকে দ্রুত ছন্দে ফেরাতে সব রকম উদ্যোগের ব্যবস্থা করা হয়। আর ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরতে হয় দীর্ঘদিনের পুর কমিশনার খলিল আহমেদকে।

যদিও সরকারি আমলাদের সরানোর কারণ নিয়ে কোনো কারণ দর্শাতে হয় না কর্তৃপক্ষকে। এক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, বারবার সরকারি আমলারাই কোপে পড়বেন কেন? সরকারের নিয়ম নীতি তাদের মাধ্যমে সফল রূপায়ণে যদি মন্ত্রীর সুনাম হয়, তা হলে এক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রীরা কোনও দায় নেবেন না কেন? যদি নবান্নের দাবি, আমফানের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। এটা রুটিন বদলি। তবে সেটাও আমফানের পরেই কেন করা হল, তা নিয়ে জল্পনার পারদ চড়েছে। যদিও উত্তর হয়তো মিলবে না।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91-9593666485