পৌষমেলার মাঠকে যৌনক্ষেত্র বলে উল্লেখ অগ্নিমিত্রার

0
59

পিয়ালী দাস, বীরভূমঃ

গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশ্রমকে এবার যৌনক্ষেত্র বলে অভিহিত করলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুক্রবার বিশ্বভারতীতে হাজির হলেন পদ্মপালের শিষ্যা বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ধীরে ধীরে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হচ্ছে শুক্রবার তা আবার প্রমাণ করে দিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।

bjp members | newsfront.co
নিজস্ব চিত্র

বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল কে নিয়ে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় ভবনে প্রায় দেড় ঘণ্টা গোপন বৈঠক সারলেন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মুখ খুলেছেন বিশ্বভারতীর একাধিক আশ্রমিক থেকে অধ্যাপকবৃন্দ। যদিও উপাচার্যের চোখরাঙানির জেরে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না অধ্যাপক এবং ছাত্র ছাত্রীরা। কিন্তু বিশ্বভারতীতে একজন রাজনৈতিক নেত্রীর সাথে উপাচার্যের বৈঠক মোটেও ভালো ভাবে নিচ্ছেন না আশ্রমিক সুবোধ মিত্র।

আরও পড়ুনঃ সুবর্ণরেখায় তলিয়ে যাওয়া স্কুল পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার

তিনি বলেন, অবিলম্বে বর্তমান বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর পদত্যাগ করা উচিত। বিশ্বভারতীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী যে ধরনের কাজকর্ম করে চলেছেন তা একেবারেই রবীন্দ্র আদর্শ বিরোধী। তিনি এ প্রশ্ন তুলেছেন, কেন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের নিয়ে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় অফিসে বৈঠক করবেন উপাচার্য।

একেবারেই অনুচিত কাজ করেছেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এদিন মন্তব্য করেছেন, পৌষ মেলার মাঠ বোলপুরের মানুষরা অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করে। যেমন সন্ধ্যে হলে মাঠে শুরু হয় সেক্স র‍্যাকেট, বসে গাঁজার ঠেক, তাই বিশ্বভারতীর উপাচার্য পৌষ মেলার মাঠ প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণের দাবিতে বিক্ষোভ, ডেপুটেশন

কিন্তু প্রবীণ আশ্রমিক এবং ঠাকুর পরিবারের সদস্য সুপ্রিয় ঠাকুর জানিয়েছেন বিজেপি নেত্রী মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং নিন্দনীয়। বিশ্বভারতীর উপাচার্যের আশ্চর্য কান্ড কারখানা জন্য তার নাম হয়েছে আশ্চর্য্যপাল। গুরু শিষ্য অর্থাৎ পদ্মপাল এবং আশ্চর্য্যপাল দুজনে মিলে বিশ্বভারতীকে আরএসএস এর কার্যালয়ে পরিণত করে তুলছে।

যেখানে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমস্ত রকমের ইতিহাসকে জলাঞ্জলি দিয়ে আশ্চর্য রকমের সব কান্ড-কারখানা ঘটবে। বিশ্বভারতীর ছাত্র সোমনাথ সৌ বলেছেন, ভারতবর্ষ জুড়ে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আরএসএস তার শাখা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না সেইসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এই ধরনের নোংরা ভাষায় কলুষিত করে যাচ্ছে বিজেপি নেতা নেত্রীরা।

আরও পড়ুনঃ দিনহাটা সীমান্তে আটক ৪ বাংলাদেশী নাগরিক সহ ৫

বিজেপি নেত্রী এই ধরনের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি। ভবিষ্যতে বিজেপির কোন নেতা-নেত্রী বিশ্বভারতীতে আসে তবে তাদেরকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হবে ছাত্র-ছাত্রীদের তরফ থেকে। পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত জানিয়েছেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা রাজনীতি করবেন এটাই স্বাভাবিক।

রবীন্দ্র আদর্শ এবং পৌষ মেলার ঐতিহ্যকে সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্র সরকার এবং রাজ্য সরকার দু’পক্ষকেই সচেতন হয়ে গুরুদেবের স্বপ্নকে রক্ষা করতে হবে। বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পলের এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, তিনি বলেন মেলার মাঠে যদি কোন অসামাজিক কার্যকলাপ ঘটে থাকে তাহলে বিশ্বভারতীর এক হাজার নিরাপত্তাকর্মী আছে তারা কি করছিল।

আরও পড়ুনঃ পাঁশকুড়াতে দুর্ঘটনার কবলে পুলিশ ভ্যান,আহত ২

বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিজেপির হয়ে কাজ করছে এবং রবীন্দ্রনাথের আদর্শকে মাটিতে মিশিয়ে ফেলছেন। মেলার মাঠকে যাতে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলতে পারে তার জন্য এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের বাহানা দিচ্ছে বিশ্বভারতীর উপাচার্য। বিজেপি নেত্রী যে অভিযোগগুলো করেছেন সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং মনগড়া।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here