পিয়া গুপ্তা,উত্তর দিনাজপুরঃ
রাজ্য সরকারের উদাসীনতায় কালিয়াগঞ্জে ধোকরা শিল্পের অস্তিত্ব সংকটের মুখে। নতুন বিধায়ক এবার শুধু প্রতিশ্রুতি নয় এবার কাজ করে দেখান । একটু নজর দিন এই শিল্পের প্রতি ।
দিনাজপুর জেলার গ্রামেগঞ্জে রাজবংশী মহিলাদের হাতে তৈরি ধোকরা শিল্প আজ অস্তিত্ব সংকটে। আর্থিক অনাটনের শিকার এই মহিলাদের পাট ও রঙিন সুতোর হাতে বোনা ধোকরা শিল্প । যে শিল্পের হাত ধরে উত্তর দিনাজপুরের চেহারাটাই বদলে যেতে পারত, সেই শিল্প আজ অস্তিত্বরক্ষার কঠিন লড়াইয়ে।

প্রতিবার ভোটের সময় থাকে গালভরা আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি । কিন্তু ভোটের পরে আর সেই শিল্পীদের দেখার কেউ থাকে না । উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে বহু গ্রামে ধোকরা শিল্পীরা ধোকরা বুনে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু আজ অবধি সরকার কোন সাহায্য করেনি এই ধোকরা শিল্পকে বাঁচানোর ব্যাপারে।
উল্লিখিত কালিয়াগঞ্জের বালাস, অনন্তপুর, ভাণ্ডারসহ বহু গ্রামের মহিলাদের জীবিকা অর্জনের অবলম্বন ছিল ধোকরা।পাট ও রঙিন সুতোর কারুকার্য মহিলাদের নিপুণ হাতে গড়া এই ধোকরা অসম,বিহার সহ একাধিক রাজ্যে পাড়ি দেয় । ইতিমধ্যে এই শিল্পের উন্নতিতে প্রশাসন ধোকরা শিল্পীদের নিয়ে ক্লাস্টার গড়ে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা করলেও প্রশাসনের সেই তালিকাতেই নেই বালাস, অনন্তপুর সহ একাধিক গ্রাম ।স্বাভাবিক কারণেই প্রশাসনের প্রতি বঞ্চনার সুর এই গ্রামগুলির ধোকরা শিল্পীদের । ।বালাস ,অনন্তপুর সহ এই গ্রামগুলির রাজবংশী সম্প্রদায়ের মহিলারাই আজ এই ধোকরা শিল্পের পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে চলছে।

এক সময় কালিয়াগঞ্জের বালাস গ্রামের ৪০০ এর ও বেশী মহিলা এই ধোকরা শিল্পের উপর নির্ভর ছিলেন ।বালাস গ্রামের মহিলারা জানান নিজের হাতে পাট গাছ কেটে, আঁশ ছাড়িয়ে, সুতো কেটে ধোকরা তৈরি করি হাতে বুনে। আর দাম? মেরেকেটে শ’তিনেক। অথচ সৌন্দর্য, নান্দনিকতায় অনায়াসে টক্কর নিতে পারে কাশ্মীরের কার্পেটের সঙ্গে।একটা সময়ে এ গ্রামের শোভা, মাধুরী, মিনতিরা সংসারের কাজ সেরেও সপ্তাহে বানিয়ে ফেলতেন চার থেকে পাঁচটা ধোকরা। কিন্ত্ত এখন না-আছে টাকা, না সম্মান। তাই কেউ ধোকরা বোনা ছেড়ে মুড়ি ভাজেন, কেউ চলে যান মাঠের জোগাড় খাটতে। কিছু কিছু মহিলারা আছেন যারা কাজ সেরে ফাঁকা সময় ধোকরা বানান তবে সরকারি সাহায্যের অভাবে তাদের ও মন বসে না এই কাজে।
অষ্টাদশী গৃহবধূ তুলি বর্মন বলেন, ‘এক সময় কালিয়াগঞ্জে রাজবংশীদের তৈরি রঙিন ধোকরার বেশ কদর। প্রতি সপ্তাহে ধনকোল, পাতিরাজপুর, কুনোর, দুর্গাপুর, হাটে মালদা, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়ার পাইকারি ব্যবসায়ীরা ভিড় জমান এই ধোকরার টানে অথচ আজ আমাদের ধোকরায় উত্সাহ নেই।’
আক্ষেপে সুরে তিনি বলেন’একটা সময় ছিল যখন এ জেলার প্রায় সব রাজবংশীর ঘরের বউরাই তৈরি করত ধোকরা। কিন্ত্ত টাকা যদি না-আসে, কাজ করা যাবে?’ ‘কেন সরকার সাহায্য করেনি?’ ভোটের সময় শুধু ভোট চাইতে আসেন নেতারা । গ্রামের অন্য মহিলা ফুলতা বর্মন বলেন আমরা নিজেদের জমিতে পাট চাষ করি ।পাট দিয়ে দড়ি পাকিয়ে সেই দড়ি দিয়ে ধোকডা বানাই।কিন্তু ধোকডা শিল্পে প্রযোজনীয় রং কেনা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না ।রং কেনার সামর্থ না থাকলে বাকিতেও রং নিয়ে আসতে হয় । নিজের বাড়িতে ধোকডা তৈরির যন্ত্র না থাকলেও পাশের বাড়ি থেকে তা এনে কাজ করতে হয় ।বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় একার পক্ষে সংসার চালানো খুব দুষ্কর হয়ে পড়েছে ।তার উপর দিন দিন যেভাবে জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে।তাই বিয়ের পর মেয়েরা যাতে শ্বশুর বাড়ি গিয়েও ধোকডা বানাতে পারে তার জন্য ছোটো থেকেই এই গ্রামে মেয়ে দের ধোকডা বানাতে শিখানো হয় । কিন্তু বর্তমান যুগে জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ার তাদের রুটিরোজগারের পথ ও যেন বন্ধ হতে বসেছে।সরকারি সাহায্য না পেলে গ্রামে যে কয়েক জন এই শিল্পের সাথে জড়িত আছেন তারাও টাকার অভাবে এই শিল্প থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন ।গ্রামের ধকরা শিল্পীরা জানান নতুন বিধায়ক হয়েছেন কালিয়াগঞ্জ এর এবার শাসকদলের তাই তাদের আশা রয়েছে এবার ধোকরা শিল্পের হয়তো এখানে উন্নত হবে। তাই তাদের আরজি নতুন বিধায়কের কাছে শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না এবার বিধায়ককে কাজ করতে হবে তাদের জন্য।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584