সুদীপ পাল,বর্ধমানঃ
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে যে রীতি পালন করে রথযাত্রা উৎসবের আয়োজন করা হয়, তার সবগুলোই পালন করা হয় এখানে। পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রামের দিগনগর গ্রামে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রথে ব্যাপক ভিড় হয় প্রত্যেকবার।

কথিত আছে,তীর্থযাত্রা সম্পূর্ণ করতে হলে একই বছর পুরীর জগন্নাথ দর্শন এবং দিগনগরের জগন্নাথ দর্শন করতে হয়।বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচন্দ্র জগন্নাথদেবের স্বপ্নদর্শন নাকি এই মন্দিরটি তৈরি করেন। মন্দিরের গায়ে লেখা ছিল – ‘নীলাচল ফিরে দিকনাগরে / পারো যদি ঘোরো সম-বছরে / হবে না ব্যর্থ কভু সে তীর্থ / প্রভুর এ বাণী রাজা গোচরে।’
প্রাচীন এই রথ নিয়ে নানা জনশ্রুতি শোনা যায়। রাজবাড়ীর তৈরি প্রাচীন রথ এখন আর নেই। তবে বয়স্কদের সাথে কথা বলে জানা গেল, পুরনো কাঠামোর উপরে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতায় কাঠের রথটি চাপানো হয়। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে প্রথমে মন্দির থেকে জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রাকে কদমখন্ডীর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানেই মাসির বাড়ি। তবে মাসির বাড়ি যাওয়ার আগে স্থানীয় ‘কামারমহল’ থেকে জগন্নাথ দেবের ‘ভোগযাত্রা’ শুরু হয়। উল্টো রথের আগের দিন প্রাচীন প্রথা আজও মেনে মন্দির থেকে মাসির বাড়ি যান দেবী লক্ষ্মী। জগন্নাথ দেবের মানভঞ্জন করতে তাঁর এই যাওয়া। লৌকিক সমাজের এই বিষয়টি ‘লক্ষ্মীযাত্রা’ নামে পরিচিত। সেখানে যাওয়ার পরে বলরামকে আড়াল করে জগন্নাথ দেবের সাথে দেবী লক্ষ্মীর শুভ দৃষ্টি বিনিময় এবং মালাবদল হয়। তারপরে মূল মন্দিরের ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানান দেবী লক্ষ্মী।
বর্তমানে সমগ্র উৎসবটি পরিচালনা করেন মন্দির উন্নয়ন কমিটি। তাঁরা বলছেন, বহু ভক্ত পায়ে হেঁটে পুরী পরিদর্শনের পরে এখানে আসেন। তাঁদের সেবা যত্নের ত্রুটি যাতে না হয় তা তাঁরা দেখেন। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোন ধর্মীয় ভেদাভেদ এই অঞ্চলে এই উৎসবের নেই। সমস্ত ধর্মের মানুষ অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুনঃ বাইশ রথ কমিটিকে অনুদান আসানসোল পুরসভার
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রাচীন এই উৎসব প্রাচীন ঐতিহ্য দিগনগর। এই স্থানটিকে কেন্দ্র করে যদি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা যায় তাহলে একদিকে যেরকম এলাকার উন্নতি হবে অন্যদিকে ঘটবে কর্মসংস্থান।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584